মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

৫০ এ মি.পারফেকশনিস্ট!

প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৫

বলিউডের পারফেকশনিস্ট আমির খান ১৪ মার্চ পূরণ করলেন নিজের ৫০ তম বছর। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার অভিনয়ের ধার যেন আরও তীক্ষè হচ্ছে, ছাড়িয়ে যাচ্ছেন নিজের আগের কর্মগুলোকেও। গত ৩০ বছরে বলিউড যাত্রায় আমির নিজের চরিত্রের নানামাত্রিক অভিব্যক্তি নিয়ে যে পরিমাণে গবেষণা করে দর্শকের সামনে হাজির হয়েছেন, এমন নজির আর কারও নেই। বলিউডের মি. পারফেকশনিস্ট আমির খানকে

নিয়ে লিখেছেন নিবিড় লতিফুল বারী

জন্মেছিলেন চলচ্চিত্র সংশিষ্ট পরিবারেই। বাবা তাহির হুসেন ছিলেন প্রযোজক। শুধু তাই নয়, চাচা নাসির হুসেনও ছিলেন প্রযোজক ও পরিচালক। ১৯৮৪ এ হোলি ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউড রাঙানো আমিরের সেই যাত্রা চলছে আজ অবধি। পরিচালক দিবাকর ব্যানার্জির দরকার ছিল এমন একজন ভিলেনকে, যে ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সীর সঙ্গে তাল দিতে পারবে। মাথায় আমির খানের নাম আসাটাই স্বাভাবিক। ছুটলেন তার কাছে। কিন্তু বেশ বিনয়ের সঙ্গে আমির ব্যোমকেশটিমের সহযাত্রী হতে না করে দিলেন। কারণটা কী পরিচালক দিবাকর ব্যানার্জি জানাচ্ছেনÑ একই সময়ে আমির ধুম থ্রি-তে নেগেটিভ রোল-এ অভিনয় করছিলেন। ওই কাজটা ভালভাবে করার জন্যই ব্যোমকেশকে না। আর ঠিক এ ঘটনার মাঝেই নিজের নামের তকমাটা খুঁজে পাওয়া যায়। মিস্টার ‘পারফেকশনিস্ট’। নিজের শেষ ছবি পিকে বিশাল ব্যবসায়িক সাফল্য। নিজের পরের ছবির বক্স অফিস রেজাল্ট নিয়ে কি পরিকল্পনা? এমন এক প্রশ্নের জবাবে আমিরের সাফ জবাব, একজন ক্রিয়েটিভ ব্যক্তির মৃত্যু হয় তখনই যখন সে তার কাজের মূল্যায়ন কোয়ালিটির বদলে অর্থ দিয়ে মাপে। আমি সব সময় আমার কাজের ব্যাপারে আমার মনের উপর আস্থা রাখি, মনের সন্তুষ্টি আসছে কি না। এমন জবাবই প্রমাণ করে কেন আমির খান অন্যদের থেকে আলাদা। সাফল্যের ক্ষুধায় এক সময় নিয়মিত কেঁদেছেন তিনি। টানা হিট ছবি গেলেও আনন্দে গা ভাসিয়ে দেননি বরং উদ্বেগ উৎকণ্ঠা নিয়ে নিজেকে আরও শাণিত করেছেন যদি পরের ছবিগুলো ফ্লপ হয় এই ভয়ে। সাহস দেয়ার ভাষা জানা ছিল তখনকার স্ত্রী রিনা দত্তর। তবে নিজের নীতিতে অটল ছিলেন। যুদ্ধে পরাজিত হলে হও তবুও রাইফেল নিচু করো না। ঠিক এই মনোভাবটাই আমির খানকে আজ এই অবস্থায় এনেছে। নিজের নানাবিধ স্বকীয়তা দিয়ে জাত চিনিয়ে

যাচ্ছেন

সমগ্র

্র বলিউডবাসীকে সেই ৩০ বছর ধরে। দেশের বাইরেও নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আপোস করেননি কখনও। যেমন লন্ডনে মাদাম তুসো জাদুঘরে মোমের মূর্তি নির্মাণ অসম্মতি প্রদান। মাদাম তুসো মিউজিয়ামে মোমের ছাঁচে বলিউডের সব রথী মহারথীরাই রয়েছেন এক ছাদের নিচে। কিন্তু আমিরের যুক্তি হলো মানুষ তাকে অভিনয় দিয়েই মনে রাখুক এবং সে অভিনয় নিয়েই তার সব মনোযোগ, অন্য কাজে নয়। তবে পর্দায় আমিরকে মাঝে মাঝেই সিরিয়াস সব চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেলেও রিয়েল লাইফে মজার ঘটনা ঘটানোয় বেশ পটু আমির। জুহি চাওলা স্মরণ করলেন এমন একটি ঘটনা যা কিনা ঘটেছিলো ‘ইশক’ ছবির শূটিং এ। আমির ও আরেক অভিনেতা অজয় দেবগন এতোটাই র‌্যাগ দিয়েছিলো যে, শূটিংস্পট ছেড়ে পালিয়েছিল বেচারি জুহি। পরদিন সকালে দুইটা বড় বড় টেডি বিয়ারে সরি নোট পেয়ে শূটিং-এ ফেরত আসে জুহি। কিন্তু পরে জানতে পারে টেডি বিয়ারগুলো কেনা হয়েছিল শূটিং-এর প্রপস হিসেবে, জুহির জন্য নয়। সিনেমায় নিজের করা চরিত্র নিয়ে এই যে কাটাছেঁড়া করার প্রবণতা, দর্শকদের সামনে ভিন্ন ভিন্ন লুকে হাজির হওয়া এই অনুপ্রেরণা তিনি খুঁজে পান দর্শকদের মাঝ থেকেই। কিভাবে? আমির জানাচ্ছেন, ‘দর্শক চায় চরিত্রের বিচিত্রতা যেন তারা শেখার সুযোগ পায়। আর এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা বা পরিচালকরা ভীত ও উদাসীন। কিন্তু কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে’। আমিরের এই এগিয়ে আসার ফলাফল আমরা দেখতে পেয়েছি পিকে ছবির মাধ্যমে। তবে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা যে তাকে টেনশনে ফেলে দেয় না তা নয়। যেমন এক সাক্ষাতকারে আমির জানিয়েছিলেন ৪৪ বছর বয়সে ১৮ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলের চরিত্রে অভিনয় করলে একটুতো টেনশন হবেই, দর্শক কেমনভাবে নিচ্ছে ব্যপারটা, তা তো আর ভাবনা থেকে ফেলে দেয়া যায় না। কিন্তু শেষ হাসিটা আমিরই হাসেন, ছবিগুলোর সাফল্য সে কথাই বলে।

সমসাময়িক অন্য দুই খান, শাহরুখ ও সালমান খানের সঙ্গে একি ছবিতে অভিনয় করা হয়নি। পরিচালক ফারাহ খান তো তিন খানকে একসঙ্গে করার বিষয়টা সৃষ্টিকর্তার হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। তবে আমির ভিন্ন মনোভাব পোষণ করেন। তার মতে শাহরুখ ও সালমানের ছবির সঙ্গে খানিক ভিন্নতা রয়েছে, তার ছবিতে আর তার পক্ষে সম্ভবও নয় নাচ-গান সর্বস্ব ছবিতে অভিনয় করা। সুতরাং বিষয়টা এমন নয় যে, ‘আমরা তিনজন সিদ্ধান্ত নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছি না বরং আমাদের ঘরানা আলাদা। যদি তেমন স্ক্রিপ্ট লেখা হয় অবশ্যই আমরা একসঙ্গে কাজ করবো’ বলছিলেন আমির। ভারতের সরকার কর্তৃক প্রদত্ত পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ পদক নিজের ঝুলিতে ভরেছেন বেশ আগেই। তবে ফিল্ম এ্যাওয়ার্ডে উপস্থিতি নিয়ে তার রয়েছে ভয়াবহ এ্যালার্জি। ‘রাজা হিন্দুস্তানী’ ছবির জন্য প্রথম ফিল্ম ফেয়ার এ্যাওয়ার্ড পেলেন সেই ১৯৯৬ সালে। কিন্তু তার আগেই পর পর কয়েকবার নিজের প্রত্যাশিত ছবির এ্যাওয়ার্ড না জেতায় এ ধরনের প্রোগ্রামে যাওয়া বন্ধ করেছেন আমির। কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন জুরি বোর্ডের গাফেলতি ও উদাসীনতাকে।

এমনকি যোগ্য লোকের হাতে দায়িত্ব আছে কিনা এমন ভাবনাও খেলে যায় তার মাঝে। এটা প্রবল হয়েছে, কয়েকবার হেরে যাওয়ার পর বিশেষ করে ১৯৯৫ এ ‘রঙ্গিলা’ ফিল্মফেয়ার পেতে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে। কে জানে সে বছর শাহরুখের দল ওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ফিল্ম ফেয়ার পাওয়ায় কিং খানের সঙ্গে ঠা া যুদ্ধের উৎপত্তি কিনা। আমির খানের সাফল্যের ক্ষুধা কেমন বা নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা স¤পর্কে ধারণা পেতে একটা মন্তব্যই যথেষ্ট। তা হলো আপনি কি ক্যারিয়ারের শীর্ষে অবস্থান করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আমিরের উত্তর বয়স ৫০ হলেও আমি এখন ১৮ বছরেই আছি, আর শীর্ষে পৌঁছার পর নামার রাস্তা খুঁজে পেতে হয়। আমি এখনও দেখছি না সেটা। সুতরাং আমি শীর্ষে পৌঁছাতে পারিনি এখনও’...।

প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৫

১৯/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: