আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আড্ডায় তারা তিনজন

প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৫

সজল ও মিলা হোসেন দু’জনেই একে অন্যের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দু’জন এবারই প্রথম একসঙ্গে নাটকে যেমন অভিনয় করেছেন ঠিক তেমনি চিরসবুজ মডেল তারকা নোবেলের সঙ্গে দু’জনের একসঙ্গে নাটকে কাজ এবারই প্রথম। নুজহাত আলভী আহমেদের রচনা ও পরিচালনায় নোবেল, মিলা হোসেন ও সজল একসঙ্গে অভিনয় করেছেন ‘তারপর নদী’ নাটকে। সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িসহ একটি শূটিং হাউসে নাটকটির শূটিং সম্পন্ন হয়েছে। নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে নোবেল বলেন, ‘চাকরির পাশাপাশি বিজ্ঞাপন কিংবা নাটকে কাজ করতে হয়। যে কারণে খুব ভাল স্ক্রিপ্ট না হলে কাজ করাও হয়ে ওঠে না। আলভী আপার নাটকের গল্প খুব ভাল লেগেছে। তাছাড়া মিলা এবং সজল দু’জনই আমার অত্যন্ত ¯েœহভাজন, তারাও কাজ করবে জেনে আগ্রহী হয়ে উঠেছিলাম। সবমিলিয়ে বেশ ভাল একটি কাজ হয়েছে। আশা করি ভাললাগবে দর্শকের।’ মিলা হোসেন বলেন, ‘নোবেল ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বলা যায় এখন পারিবারিক। তাঁর সঙ্গে কয়েকবছর আগে আমেরিকায় একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলাম। গতবছর একটি নাটকেও কাজ করেছি। একজন মানুষ হিসেবে, একজন মডেল হিসেবে তাঁর তুলনা নেই। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে পারা সবসময়ই আমার কাছে অনেক আনন্দের।’ সজল বলেন, ‘নোবেল ভাইয়ের কারণেই আমি আজকের সফল সজল। তাঁর কাজে উৎসাহিত হয়ে একজন নোবেলই হতে চেয়েছিলাম। তাঁর মতো না হতে পারলেও যতটুকু হয়েছি আমি তাতেই সন্তুষ্ট।’ ‘ডিজিটাল ওয়ান মিডিয়া লিমিটেড’র কর্ণধার জাকারিয়া মাসুদ জিকো প্রযোজিত ‘অতঃপর নদী’ নাটকটি চলতি বছরের ঈদ-উল-ফিতরে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার হবে। এদিকে গতবছর মিলা নোবেলের সঙ্গে প্রথম জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেন ‘শেষ থেকে শুরু’ নাটকে। কিছুদিন আগে দেশে ফিরেই মিলা শেষ করেছেন দীপান্বিতা ইতি’র রচনায় ‘পুণশ্চঃ ভালোবাসা’ নাটকের কাজ। এই নাটকটি আসছে ভালবাসা দিবসে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে। নোবেলেকে বহুদিনের জমে থাকা আরেকটি প্রশ্ন রাখি, জানতে চাই নিশ্চয়ই আপনি বহু চলচ্চিত্র পরিচালকের চলচ্চিত্রে কাজ করার অফার পেয়েছেন, কিন্তু কিভাবে সেসব চলচ্চিত্রে কাজ করা থেকে আজ অবধি নিজেকে বিরত রেখেছেন? নোবেল বলেন, ‘মন থেকে যদি কোনকিছুর প্রতি আগ্রহ না থাকে সে কাজ করাটাও ঠিক নয়। আমি কিংবা আমার পরিবারের কেউই কিন্তু চাইত না মিডিয়াতে কাজ করি আমি। বিশেষ করে আমার মা। আমার কাজিন নাসের একটি এ্যাডফার্মে চাকরি করতেন বিধায় আমার মা’কে বলে কাজ করাতে রাজি করাতে পেরেছিলেন বিধায় আজ আমি মডেল নোবেল হতে পেরেছি, তা না হলে একজন সাধারণ নোবেল-ই থেকে যেতাম আমি। সবমিলিয়েই আসলে চলচ্চিত্রের প্রতি কাজ করার আগ্রহটা কখনই তৈরি হয়নি। তাই কাজ করিনি আজও। ’ একসময় তো আপনি এবং প্রয়াত সালমান শাহ একসঙ্গে ফ্যাশন শো করতেন? ‘আমাদের শুরুটা ফ্যাশন শো দিয়েই, পরে আমি, ইমন (সালমান শাহ) এবং ইমরান একসঙ্গে তিনটি বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছিলাম। কিন্তু সেগুলো প্রচারে আসেনি। ইমন যখন কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির কাজ শুরু করে তখন আমাকে প্রায়ই বলত ‘নোবেল ভাই, আমি তো ফিল্মে চলে এলাম, আপনিও চলে আসুন।’ তারপর তো ইমন নিজেই আমাদের দেশীয় ফ্যাশনে একটা নিজস্ব ধারা তৈরি করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তাকে অকালে হারাতে হলো আমাদের।’ এত ব্যস্ততার মাঝে পরিবারকে সময় দিতে পারেন? নোবেল বলেন, ‘আমার বা আমাদের জীবনের যা কিছু সবই কিন্তু পরিবারের জন্য পরিবারকে ঘিরে। তাই যতই ব্যস্ত থাকি না কেন স্ত্রী শম্পা, মেয়ে নামীরা এবং ছেলে জুনাইনকে সময় দেয়ার ভীষণ চেষ্টা থাকে। পাশাপাশি ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলে সমাজের প্রতিও দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি। একজন মানুষ হিসেবে মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।’ খড়হবষু উধু, খড়হবষু ঘরমযঃ- আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় ‘আজাদ বলপেন’র এই আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া এই জিঙ্গেলটি এখনও মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে। নোবেলের প্রথম ব্যাপক দর্শকপ্রিয় বিজ্ঞাপন এটি। এরপর বহু বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে কাজ করেছেন। হয়েছেন মডেলিং জগতের রাজপুত্র। তবে এখন অনেকেই তাঁকে অনুকরণ কিংবা অনুসরণ করলেও নোবেল কাউকেই তা করেননি। মানিকগঞ্জের মেয়ে হরিরামপুর থানার মেয়ে মিলা হোসেনের দাদা শাকিল উদ্দিন মজুমদার ঢাকার আজিমপুরের প্রখ্যাত একজন চেয়ারম্যান ছিলেন। যে কারণে আজিমপুরের চেয়ারম্যান বাড়ির কইন্যা হিসেবেই তিনি এই এলাকায় এখনও বেশ পরিচিত। যদিও এখন তাঁর স্থায়ী আবাসস্থল নিউইয়র্ক কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে এখনও তিনি সেই মিলা হোসেন যে মিলা হোসেনকে সবাই চেনেন, জানেন একজন মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবে। মিলা নিজে নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ মনে করেন সবসময়। ঢাকা শহরের খোলা মেলা পরিবেশ তাঁর যেমন পছন্দ ঠিক তেমনি এখানকার মানুষের প্রতি রয়েছে তাঁর অদম্য ভালবাসা। কারণ দেশের বাইরে থাকলেও মানিকগঞ্জের এই মেয়েটির বেড়ে ওঠা আজিমপুরেই। এখানকারই আজিমপুর গার্লস্ স্কুল, উইমেন্স ফেডারেশন কলেজ ও ইডেন কলেজে কেটেছে তাঁর শিক্ষাজীবন। পড়েছেন ইডেনে ইংরেজী সাহিত্যে অনার্স পর্যন্ত। আর তার পর পরই বিয়ের সানাই বেজে ওঠে তাঁর জীবনে। চলে যান দেশের গ-ি পেরিয়ে মিডিয়ার মোহ ছেড়ে সুদূর নিউইয়র্কে। ২০০০ সালে মিলা যখন অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়েন তখনই একদিন মডেল ফটোগ্রাফার চঞ্চল মাহমুদের কাছে ছবি তুলে লাক্স আনন্দধারা ফটোজেনিক প্রতিযোগিতায় জমা দিয়ে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। আর এরপর মিস ফটোজেনিক হিসেবে সাফল্য লাভ করায় মিলা হোসেন যেন বাংলাদেশে ইতিহাসের খাতায় নাম লেখান। মিলা এগিয়ে চলেন তার গন্তব্যের পথে। হয়েছেন একের পর এক বিজ্ঞাপনে মডেল সেই সঙ্গে কাজ করেছেন ভাল ভাল নাটকে। আফজাল হোসেন, আব্দুর নূর তুষার, আনজাম মাসুদসহ অনেকের নির্দেশনায় বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। মিলা লাক্স তারকা হওয়ার পর প্রথম নাটকে অভিনয় করেন আক্তারুজ্জামান পরিচালত একটি নাটকে। এই নাটকে তার বিপরীতে ছিলেন শাহেদ। শাহেদ ছাড়া মিলা বিভিন্ন সময়ে নাটকে যাদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তাঁরা হলেন আজিজুল হাকিম, মনির খান শিমুল, লিটু আনাম, শাহরিয়ার নাজিম জয়, সজলসহ অনেকে। প্রতিটি নাটকে সে সময় মিলার অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করে। মিডিয়ায় এখন যাঁরা নিয়মিত কাজ করেন তাঁদের মধ্যে মিলার সবচেয়ে বেশি নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে সজল, শ্রাবন্তী ও শাহেদ নাতাশার সঙ্গে। ফোনে কিংবা ফেসবুকে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযাগ হয়। মিলার পরিবারের তেমন কোন পারিবারিক দুঃখ না থাকলেও মিলার আপন বড় ভাই বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে বুড়িগঙ্গাতে ডুবে মারা গিয়েছিলেন। এটাই পরিবারের সবচেয়ে বড় দুঃখ। ১৯৯৯ সালের কোন একদিন মিলার বড় ভাই সাম্মী মারা যান। সেই থেকে বড় ভাইকে হারানোর বেদনাই যেন অনেক সময়ই মিলাকে আনমনা করে দেয় আজও। মোজাম্মেল হোসেন ও মাহমুদা হোসেন দম্পতির আদরের কন্যা মিলা এখন নিজেই দুই পুত্রসন্তানের জননী। স্বামী জাকারিয়া মাসুদ জিকো তার এই সময়ের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। যেন সবসময় ছায়ার মতোই বিপদে আপদে পাশে থাকেন তিনি। মিলা বলেন, ‘মেয়েদের জীবনে স্বামীর সংসারে সুখে থাকাটাই যেন সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি জাকারিয়ার সঙ্গে সুখে আছি, ভাল আছি, শান্তিতে আছি। যেন এর চেয়ে বড় কিছু চাওয়ারও নেই পাওয়ারও নেই আমার। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’ তবে সবকিছুর উর্ধে মিলার এই মুহূর্তে রয়েছে আরেকটি বড় পরিচয়। নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক আজকাল পত্রিকার তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক। মিলা ফিরে গেছেন তাঁর প্রিয় কর্মস্থলে। মিলা বলেন, ‘হয়ত বা আপাতত গুডবাই বলছি, দেখা হবে আবারও সবার সঙ্গে। সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন। আমার জন্য আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।’ এদিকে সজল নিয়মিতভাবে খ- নাটক ও চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। খুব তাড়াতাড়িই মুক্তির ঘোষণা দিতে আসছে সজল অভিনীত তন্ময় তানসেন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘রানআউট’। এই চলচ্চিত্রে তাঁর বিপরীতে আছেন মৌসুমী নাগ ও রোমানা স্বর্ণা। এছাড়া আরও কয়েকটি নতুন চলচ্চিত্রে কাজ করারও অফার পাচ্ছেন নিয়মিত। তবে সেসব চলচ্চিত্রে সজল একটু ভেবে চিন্তে কাজ করতে চাচ্ছেন। সজল বলেন, ‘নিয়মিত চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই বিষয়টি ঠিক তেমন নয়। তবে আমি ভাল গল্পের চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই যেখানে আমার দেখানোর মতো কিছু থাকবে। সজলকে নাটকে অনেকেই দেখেছেন। চলচ্চিত্রে আমি নিজেকে নতুন সজল হিসেবে উপস্থাপন করতে চাই। আমি নিজেকে প্রস্তুতও করছি চলচ্চিত্রে নতুনত্ব আনার জন্য।’ এদিকে সজল নিয়মিত একের পর এক খ- নাটকে অভিনয় করে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে আলী সুজনের পরিচালনায় মেহজাবিনের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ‘যে ভুলের নেই সীমানা’ নাটকে।

প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৫

১৯/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: