আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ভোট আসছে নগরীতে প্রার্থীর ছড়াছড়ি প্রচারে নানান মাত্রা

প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৫

রাজন ভট্টাচার্য ॥ বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে মেয়রপদে প্রার্থী অনেক। অর্থাৎ আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। এখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ইতোমধ্যে অন্তত ১০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী চূড়ান্ত। এদিকে সিটি কর্পোরেশনের ভাড়া দেয়া সাইনবোর্ড বিলবোর্ডগুলো সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থীদের দখলে চলে গেছে। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগরজুড়ে টানানো হয়েছে ব্যানার ও পোস্টার। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রচারণামূলক সাইনবোর্ড বিলবোর্ড সরানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মেয়রপ্রার্থীরা বলছেন, তাঁরা বিলবোর্ড দখলের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। সমর্থকরা ব্যানার টানিয়েছে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, বিলবোর্ড দখলে সিটি কর্পোরেশনের কোন ক্ষতি নেই। যেসব প্রতিষ্ঠান সিটি কর্পোরেশন থেকে চুক্তিভিত্তিক বিলবোর্ড ভাড়া নিয়েছে সমস্যা তাদের। তবে তারা চাইলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। বুধবার তিন সিটি কর্পোরেশনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় চলতি সপ্তাহ থেকেই রাজধানীজুড়ে শুরু হবে নির্বাচনী আমেজ। উৎসবের অপেক্ষায় নগরবাসী। এদিকে প্রায় ১৩ বছর পর ডিসিসি নির্বাচনের জট খুলছে। এর আগে তিন দফা সিটি নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হয়, তবে তা ভেস্তে গেছে। এবার নতুন করে আইনী কোন জটিলতা দেখা না দিলে ২৮ এপ্রিল তিন সিটি কর্পোরেশনের ভোটগ্রহণ। ইতোমধ্যে প্রায় এক মাস প্রচারণায় মাঠে আছেন ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রপ্রার্থীদের অনেকে। বসে নেই কাউন্সিলর প্রার্থীরাও।

১৩ বছর পর নির্বাচন ॥ সর্বশেষ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়েছিল ২০০২ সালের ১৫ মে। আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিএনপির সমর্থনে সাদেক হোসেন খোকা তখন মেয়র নির্বাচিত হন। নানা কারণে নির্বাচন করতে না পারায় প্রায় দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৭ সালের ১৪ মে এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। ২০১১ সালের ২৯ নবেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুই ভাগ করা হয়। উত্তরে ৩৬টি ওয়ার্ড ও দক্ষিণে ওয়ার্ডের সংখ্যা ৫৭টি। এরপর থেকেই প্রশাসক দিয়ে চালানো হচ্ছে মেয়রের দায়িত্ব। একজন প্রশাসক ৬ মাস দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১২ সালে ২৯ এপ্রিল একবার তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এতে ২৪ মে নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু ভোটার তালিকা ও সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতা থাকায় নির্বাচনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। এরপর ২০১৩ সালের ১৩ মে আদালত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। আবার ওই বছরের অক্টোবর-নবেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দেয় কমিশন। কিন্তু ঢাকার সুলতানগঞ্জ ইউনিয়ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় আবারও দেখা দেয় জটিলতা। এরপর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়Ñ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ডিসিসি নির্বাচন দেয়া হবে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণার পরই নির্বাচনের আশা জাগ্রত হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচন সর্বশেষ ২০১০ সালের ১৭ জুন অনুষ্ঠিত হয়।

বিলবোর্ড দখল করে প্রচার ॥ ‘ঢাকার ৮৩ ভাগ মানুষ থাকে ভাড়া বাড়িতে, ৪০ লাখ বস্তিবাসী। আবাসন ও বিনোদন সমস্যা চিহ্নিত। এবার সমাধান যাত্রা’Ñ উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকে মেয়রপ্রার্থী আনিসুল হকের পক্ষে ‘আমরা ঢাকা’ বিলবোর্ডের মাধ্যমে এমন প্রচার চালানো হচ্ছে। রাজধানীর মিরপুর, মগবাজার, মহাখালী, গুলশান, শ্যামলী, আগারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি ও আওয়ামী লীগসমর্থিত মেয়রপ্রার্থী আনিসুল হকের এমন বিলবোর্ড প্রচারণা চোখে পড়ে। বিভিন্ন গণপরিবহন থেকে শুরু করে দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার টানানো হয়েছে এই মেয়রপ্রার্থীর পক্ষে। শিশুদের জন্য নিরাপদ নগরী গড়ে তোলার প্রত্যয়ে বিলবোর্ডে প্রচারণা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগসমর্থিত দক্ষিণের মেয়রপ্রার্থী সাঈদ খোকন। দক্ষিণ নগরবাসীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিলবোর্ডে প্রচার চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের অপরপ্রার্থী সাংসদ হাজী সেলিমও।

দক্ষিণে প্রচারণায় নেমেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের অপর যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন। উত্তর সিটি কর্পোরেশনে সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদারও প্রচারণায় আছেন। জোর করে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের বিলবোর্ড দখল করে তাঁরা আগাম প্রচার চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বিভিন্ন দালানের বাইরের অংশ বিশাল ডিজিটাল ব্যানার দিয়ে ঢেকে চলছে প্রচারণা। একই সঙ্গে নগরীর প্রধান সড়কগুলোর বিভিন্ন মোড়ে বাঁশের খুঁটি তৈরি করেও বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রার্থী হয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। প্রচার চালাচ্ছেন বিএনএফের মেয়র প্রার্থীও। ব্যানার পোস্টার নিয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীর নামে আরও একজন শিল্পপতি উত্তরের প্রার্থী হয়েছেন। এরশাদের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট শিল্পপতি ববি হাজ্জাজও উত্তরের মেয়রপ্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। দক্ষিণে আহানগর আওয়ামী লীগের প্রধান উপদেষ্টা আর কে চৌধুরীও মেয়রপ্রার্থী হিসেবে লড়তে চান।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছেন, বিলবোর্ড দখলের বিষয়ে তাঁদের কাছে এখনও অভিযোগ আসেনি। তাছাড়া এটা তাঁদের দেখার বিষয়ও নয়। তাঁরা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানকে বিলবোর্ডগুলো ভাড়া দিয়েছেন। আর বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, নগরীর হবু অভিভাবকদের কাছ থেকে এমন আচরণ মেনে নেয়া যায় না। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা সাঈফ উদ্দিন আহমেদ মিলনও বিলবোর্ড দখল করে ব্যানার টানিয়েছেন।

হাজী মোঃ সেলিম বলেন, ‘আমি কোন বিলবোর্ড দখল করিনি। নির্বাচন করতে হলে বিলবোর্ড দখল করতে হবে কেন? মানুষ তো আমাকে চিনে। আমার নামে কে বা কারা এমন করেছে তা আমার জানা নেই।’ মেয়রপ্রার্থী আনিসুল হক সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘আমি বিলবোর্ড দখল করে প্রচার করব এটা আপনাদের বিশ্বাস হলো কিভাবে? এটা আমার কাজ না। সমর্থকরাই করতে পারে।

বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ আউটডোর ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নেপচুন এ্যাডের পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যাঁরাই সিটি কর্পোরেশনের অভিভাবক হবেন, তাঁরাই যদি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কর্পোরেশনের সম্পদ দখল করেন তাহলে তাদের কাছ থেকে নগরবাসী কী আশা করবে?’ ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বে থাকা রাজস্ব বিভাগের উপ-প্রধান কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার বলেন, বিলবোর্ড দখলের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করব।

সরকার পতনের আন্দোলনে থাকলেও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। এর আগেও খুলনা, সিলেট, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে অংশ নেয় বিএনপি। ইতোমধ্যে দলের সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থীরা কাজ শুরু করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরে মেয়রপ্রার্থী হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনিই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে দলের পক্ষে সমর্থন পেতে যাচ্ছেন। দক্ষিণে মেয়রপ্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান। এছাড়াও দক্ষিণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও মহানগর নেতা আব্দুস সালাম প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। রাজনৈতিক কারণে ২০ দলের অন্যতম শরিক জামায়াত কিছুটা বেকায়দায়। এরপরও মেয়রপ্রার্থী দেয়ার চিন্তা করছে দলটি। সর্বশেষ মেয়র না হলেও কাউন্সিলর প্রার্থী দেবে জামায়াত।

রাজধানী ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ ও বন্দরনগরী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালনায় নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে আগামী ২৮ এপ্রিল ভোট হবে। নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীরা ২৯ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। কমিশন তা যাচাই-বাছাই করবে ১ ও ২ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বুধবার ইসির সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। মেয়র নির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, গণফোরাম, বিএনএফ, নাগরিক ঐক্য, বিকল্পধারা, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন, জামায়াতসহ আরও বেশ কয়েকটি ছোট দলের পক্ষ থেকেও নির্বাচনের প্রস্তুতি আছে।

প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৫

১৯/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: