কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পুতিনের মিডিয়া যুদ্ধ

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০১৫
  • এনামুল হক

আরটি ইন্টারন্যাশনাল রাশিয়ার একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ নেটওয়ার্ক। এটি বিশ্বের একশরও বেশি দেশের প্রায় ৭০ কোটি দর্শক-শ্রোতার কাছে সংবাদ ও সংবাদ ভাষ্য পৌঁছে দিয়ে থাকে। তবে একই সঙ্গে এটি পাশ্চাত্যের সঙ্গে প্রচারযুদ্ধে ক্রেমলিন তথা পুতিন সরকারের প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন সঙ্কটের পর থেকে আরটির প্রচারযুদ্ধও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

প্রেসিডেন্ট পুতিন ২০০৫ সালে আরটি (আগের নাম রাশিয়া টুডে) প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্বের অন্য যে কোন নিউজ চ্যানেলের তুলনায় আরটি অধিক সংখ্যায় ইউটিউব মতামত পরিবেশন করে থাকে। এর ইউটিউব গ্রাহক সংখ্যা সর্বাধিক প্রায় ১৪ লাখ। অন্যদিকে বিবিসির ইউটিউব গ্রাহক পৌনে ৪ লাখ। যুক্তরাজ্যে আরটিটিভি প্রতিদ্বন্দ্বী ফক্স নিউজকে হটিয়ে দিয়ে চতুর্থ সর্বাধিক দর্শকপ্রিয় চ্যানেলে পরিণত হয়েছে। এই টিভি নিরবচ্ছিন্নরূপে রাশিয়াকে পাশ্চাত্যের অপপ্রচারের শিকার এবং পশ্চিমী দেশগুলোকে ভিলেনরূপে চিত্রিত করে থাকে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের একের পর এক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব পরিবেশন করে আরটিটিভি এবং অন্যান্য মিডিয়া আউটলেট দেশে বিদেশে পুতিন সরকারের অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠেছে, তথাপি আন্তর্জাতিক মিডিয়া জগতে এর সাফল্য কম নয়।

আরটি যে কত ব্যাপক আকারে প্রসারিত হয়েছে, তার প্রমাণ এর বাজেট। ২০১০ সাল নাগাদ এর বার্ষিক বাজেট ছিল ৩০ কোটি ডলারের বেশি। সে তুলনায় ২০১৪-১৫ সালে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস গ্রুপের বাজেট ছিল সাড়ে ৩৭ কোটি ডলারের বেশি। বলাবাহুল্য বিবিসি ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস হলো বিশ্বের বৃহত্তম সংবাদ সংগ্রহ ও সম্প্রচার কার্যক্রম। এখন আরটি আন্তর্জাতিক তথ্য প্রবাহের ওপর বিবিসির এই একাধিপত্য ভাঙ্গার পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ২০১৩ সালে পুতিন আরটিকে এমনই নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আরটি ইংরেজী, স্পেনীয়, আরবীসহ বেশ কয়েকটি ভাষায় দর্শক-শ্রোতাদের কাছে সংবাদ এবং সংবাদ পর্যালোচনা পরিবেশন করে থাকে। এই পরিবেশনার ক্ষেত্রে স্বভাবতই ক্রেমলিনের প্রভাব কাজ করে থাকে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের বর্ণিত নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। তবে আরটি নেটওয়ার্কের প্রধান সম্পাদক মার্গারিটা সিমোনিয়ান দাবি করেন যে, তাদের পরিবেশনা এমন যে সেটা পাশ্চাত্যের স্বাধীন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের পরিবেশনার তুলনায় কোনভাবেই কম বস্তুনিষ্ঠ মনে হয় না। সিমোনিয়ান দাবি করেন যে, প্রকৃত অর্থে বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা কেউ দেখায় না। পাশ্চাত্যের মিডিয়াগুলো বস্তুনিষ্ঠ, বাস্তবতানির্ভর সংবাদের উৎস বা সূত্র নয়।

মস্কোর জুবোভস্কি বুলেভার্ডে গড়ে উঠেছে মিডিয়া গ্রুপগুলোর এক সুবিশাল ও সুপ্রশস্ত কমপ্লেক্স, যার মধ্যে নিউজ ওয়্যার, বেতার কেন্দ্র, টিভি তথা মাল্টিমিডিয়া প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এগুলো চীনা, হিন্দী ও তুর্কীসহ ১২টি ভাষায় সংবাদ পরিবেশন করে। তার মধ্যে আরটি হলো সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, যা ক্রেমলিনের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী সংবাদসমূহকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিবেশন করে থাকে। আরটির প্রধান সম্পাদকের ডেস্কে পুরনো মডেলের একটি হলুদ টেলিফোন আছে, যার কোন ডায়াল প্যাড নেই। এর মাধ্যমে ক্রেমলিনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের ব্যবস্থা আছে।

আরটির বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি হলো এই প্রত্যয়বোধ যে, বিশ্বের অধিকাংশ রাজনৈতিক সহিংসতার পিছনে পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্র আছে। নাইন ইলেভেনের ঘটনাকে আরটি ‘সম্ভবত ভিতরের কারোর কাজ বলে মনে করে। ২০১৩ সালে বোস্টনের ম্যারাথনে বোমাবাজিকে আরটি নতুন যুদ্ধের আয়োজন ও আমেরিকায় মার্শাল ল’র প্রস্তুতি বলে গণ্য করেছিল। আরটি প্রায়শই ইউএফ ও দর্শনের খবর পরিবেশন করে থাকে। আরটির ইংরেজী ভাষার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওগুলোর প্রায় ১৪০ কোটি দর্শক আছে। পাশ্চাত্যের বেশকিছু দেশে এই নেটওয়ার্কের দর্শকপ্রিয়তা আছে, যারা নিজেদের সরকারকে অবিশ্বাসের চোখে দেখে। এদের কাছে আরটির টকশো বেশ জনপ্রিয়। ‘আরটি-আমেরিকা’র মাধ্যমে এই নেটওয়ার্কটি যুক্তরাষ্ট্রের সাড়ে ৮ কোটি লোকের কাছে পৌঁছে গেছে। ২০১১ সাল থেকে আরটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের ৭ সর্ববৃহৎ নগরীর সবচেয়ে জনপ্রিয় বিদেশী সংবাদ নেটওয়ার্ক। এসব বাজারে আরটির অবস্থান বিবিসি ও আল-জাজিরার ওপরে। যুক্তরাজ্যেও আরটি সাফল্য পেয়েছে। এটি এখন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল বিশেষত লাতিন আমেরিকায় দর্শক-শ্রোতা টানার চেষ্টা করছে। আরটির সাফল্য দেখে চীন, ইরানও একে অনুকরণ করার চেষ্টা করছে।

সূত্র: টাইম

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০১৫

১৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: