রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

‘প্রেরণা ০৭ বিশ্বকাপ’

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০১৫

রোকসানা বেগম ॥ সে কী আনন্দ, সে কী উত্তেজনা, সে কী শান্তি! ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রথমবার লড়াই করে প্রথমবারেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। তাও আবার প্রাধান্য বিস্তার করেই। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় পর্বেও উঠে যায় বাংলাদেশ। ভারতকে বিদায়ও করে দেয়। সেই স্মৃতি এখনও যেন তরতাজা। বৃহস্পতিবার যখন আবার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে লড়াই করবে বাংলাদেশ, তখন এ স্মৃতিই প্রেরণা হয়ে ধরা দিচ্ছে। পারবে বাংলাদেশ ’০৭ বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে?

তা বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে ম্যাচটি শেষ হতেই বোঝা যাবে। তবে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে হার-জিতের হিসাব বলছে, কেউই এগিয়ে নেই। বাংলাদেশ ১-১ ভারত। ২০০৭ সালে জেতার পর ২০১১ সালের বিশ্বকাপে গিয়ে হারে বাংলাদেশ। তবে অনেক দিক দিয়েই কিন্তু এবার বাংলাদেশের জেতার হিসাব কেন জানি মিলে যাচ্ছে। শেষপর্যন্ত জয় হলেই হয়। পরিত্যক্ত একটি ম্যাচ বাদ দিলে ভারতের বিপক্ষে ২৭ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। জিতে ৩টি ম্যাচে। হারে ২৪টি ম্যাচে। সেই জয়ী তিনটি ম্যাচের দুটি আবার আসে বড় টুর্নামেন্টে। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ও ২০১২ সালের এশিয়া কাপে। দুই জয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও টুর্নামেন্ট থেকে ভারত বিদায় নেয়। সেই ম্যাচগুলোতে জয় আসে আবার মার্চ মাসে! ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিজে জয়টি ছাড়া ২০০৭ ও ২০১২ সালের জয় দুটিই মার্চ মাসে পায় বাংলাদেশ। আবার সময়টিও খুব কাছাকাছি পড়ে, ২০১২ সালে ১৬ মার্চ, ২০০৭ সালে ১৭ মার্চে জয় পায় বাংলাদেশ। এবারও মার্চ মাসেই কোন টুর্নামেন্টে ভারতের প্রতিপক্ষ থাকছে বাংলাদেশ।

শুধু কী এ হিসাবই, আছে স্মরণীয় দিনে ভারতকে হারানোর রেকর্ডও। ৩১ মার্চ ওয়ানডের ২৯তম বছরপূর্তি পালন করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট। এ দিনটির আগে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচটিও আবার বিশেষ দিনেই হচ্ছে। বৃহস্পতিবার যে ভারতের বিপক্ষে মেলবোর্নে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ, সেই ম্যাচটি বাংলাদেশের ৩০০তম ওয়ানডে ম্যাচ। স্মরণীয় দিন বলেই আবার ভারতকে হারানোর আশাও আছে। বার বার যে স্মরণীয় দিনে ভারত বধ হয়েছে। নিজেদের ১০০তম ও ১৫০তম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। দুইবারই জিতেছে বাংলাদেশই। ১০০তম ম্যাচ ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে খেলে ১৫ রানে জেতে বাংলাদেশ। সেটিই ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয় ছিল। এরপর ১৫০তম ম্যাচেও বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ থাকে ভারত। এবার ম্যাচটি হয় বিশ্বকাপেই। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই ভারতকে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ, ৫ উইকেটে। এ হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় ভারত! এবারও যে তেমন কিছুই হবে না, তা কে বলতে পারে। বাংলাদেশ জিতে গেলেই তো ‘মোড়ল’দের শিক্ষাও দেয়া হয়ে যাবে। তিন মোড়লের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারেনি বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডকে তো হারিয়েই দিয়েছে। এবার ভারত বধের পালা। যদি জিতে যায় বাংলাদেশ, তাহলে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ করা তিন মোড়লকে উচিত শিক্ষাই দেয়া হবে। নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে দুর্বল দলগুলোকে যে পাত্তা না দেয়ার রীতি চালু করেছে, তা থেকে দূরে সরেও আসতে পারে। সাকিব আল হাসান বলছেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। এটা পূরণ হয়েছে। এখন অনেক কিছুই হতে পারে। আমরা এখন পরের ম্যাচ নিয়ে ভাবব। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে ইতিবাচক দিকগুলো মাথায় রাখলে কোয়ার্টার ফাইনালে আমরা দারুণ কিছু করতে পারব।’ শুধু সাকিব কেন, বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও তো মনে করেন ভারতকে হারানো সম্ভব। বলেছেন, ‘আমরা যে কোন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। যে কোন দলকেই আমরা হারাতে পারি। আর ২০০৭-এর বিশ্বকাপে আমরা তো ভারতকে হারিয়েছিলাম।’ এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ৬ ম্যাচে ৩ জয় ও ১ ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় ৭ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই আফগানিস্তানকে ১০৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টির জন্য পরিত্যক্ত হয়ে যায়। তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৯২ রানে হারে। চতুর্থ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার আশা জাগায়। পঞ্চম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ১৫ রানে হারিয়ে দিয়ে নক আউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নেয়। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটিতে এসে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩ উইকেটে হেরে যায়। গ্রুপ পর্বের চতুর্থ দল হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। যেখানে দলটির প্রতিপক্ষ থাকছে বিশ্ব ক্রিকেটের প্রধান মোড়ল ভারত। ভারত এ বিশ্বকাপের শক্তিশালী দল হলেও কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ বলেই তাদের ভয় আছে। এর আগেও যে বড় টুর্নামেন্টে বিশ্বকাপের মতো আসরে ও এশিয়া কাপের মতো আসরে ভারতকে হারিয়ে বিদায় করে দিয়েছে বাংলাদেশ। এবারও যে তা হবে না তা কে বলতে পারে। তাই তো ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার ভারতকে সতর্কবার্তাই দিয়েছেন। বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচটি সহজ হবে না এবং তারা (ধোনিরা) তাদের (মাশরাফিদের) হাল্কাভাবে না নিলে খুব ভাল করবে।’ বাংলাদেশকে প্রতিপক্ষ পেয়ে যে এখন আর হেলায় সময় কাটানোর দিন শেষ তা বুঝিয়ে দিয়েছেন গাভাস্কার। সেই যোগ্যতা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলেই অর্জন করে নিয়েছে বাংলাদেশ। টাইগাররা যে কতটা দুর্দান্ত খেলছেন, তা পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের কণ্ঠেও শেষপর্যন্ত ঝরেছে। যে রমিজ রাজা আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের পর উল্টাপাল্টা বলেছেন, সেই রমিজ বলতে বাধ্য হয়েছেন, ‘২০১২ এশিয়া কাপে ভারত-শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে গিয়েই বাংলাদেশ নিজেদের চেনাতে পেরেছিল। তারা তখনই সবাইকে জানিয়ে দিয়েছিল, নিজেদের দিনে যে কোন দলকে হারাতে পারে তারা।’ ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘আমি বাংলাদেশী ক্রিকেটের খুব বড় ফ্যান। এই দেশটিতে ক্রিকেটের প্রতি মানুষের ভালবাসা আছে, দলটিতেও ভাল ক্রিকেটারের সংখ্যা নেহায়তই কম নয়। কিন্তু নিজেদের চেনানোটাই বাকি ছিল তাদের। আমার মনে হয় বিশ্বকাপে সেই কাজটা তারা করেছে।’

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০১৫

১৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: