কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফাইনালে দেখতে চাই বাংলাদেশকে!

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০১৫
  • সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ১১তম আসর শুরু হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। শুধু শুরু নয়, সবগুলো ম্যাচও শেষ হয়ে গেছে। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এশিয়ার সিংহ শ্রীলংকা দাঁড়াতে না পারলেও গ্রুপ পর্বের শেষ ৪টি ম্যাচ অনেকটা দাপটের সঙ্গে জিতে পৌঁছে গেছে কোয়ার্টারে। স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে একই দিনে জয় পেয়েছে অপর স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াও। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার দিয়ে শুরু ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে গ্রুপ পর্বে। পাকিস্তানীরাও প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে গেলেও পরের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভালভাবেই। কোয়ার্টারেও পৌঁছে গেছে।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের এর আগের ১০টি আসরের ৪ বার জিতেছে এশিয়া (ভারত ২ বার, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা ১বার করে)। বাকি ৬টির আসরে অস্ট্রেলিয়া একাই জিতেছে ৪ বার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২ বার । ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারত এই ৩ দল জিতেছে ৮ বার। অর্থাৎ বিশ্বকাপের ৪৫ বছরের ইতিহাসে মাত্র মাত্র ৫টি দেশ বিশ্বকাপ জিতেছে। এটা হচ্ছে পরিসংখ্যানের কথা। তবে সবসময় পরিসংখ্যান মেনে সব কিছু হয় না। পরিসংখ্যান আর বাস্তব এক নয়। এবারের বাস্তব দৃশ্যপট অন্যরকম। বিশ্বকাপের শুরুতেই দ. আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত নিজেদের এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের এ পর্যন্ত ম্যাচগুলোয় সেটা তারা প্রমাণও করতে পেরেছে। যদিও দ. আফ্রিকা ভারত ও পাকিস্তানের কাছে এবং অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছে তবু এখনও অনেকেই এদেরই ফেবারিট মানছেন। জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে হয়ত শিরোপা লড়াইয়ের দৌড় বোধকরি তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

শিরোপা কারা জিতবে তা নিয়ে এরই মধ্যে জল্পনা-কল্পনা, আলোচনা-সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে অনেক আগে। এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এবারে বিশ্বকাপে এশিয়ার ৬টি দেশ খেলছে। তাদের মধ্যে ৪টি পৌঁছে গেছে শেষ আটে। অর্থাৎ এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে যে ৮টি দল খেলছে তার মধ্যে ৪টিই এশিয়া তথা সার্কের। এবারে কার দৌড় যে কোথায় গিয়ে থামবে সে কথা সময়ই বলে দেবে।

আজকের আলোচনার শুরুতে এশিয়ার দলগুলো নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। প্রস্তুতি ম্যাচে ভাল করতে না পারায় বিশ্বকাপ শুরুর আগে শিরোপার দৌড়ে ভারত খানিকটা পিছিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপ শুরুর পর দৃশ্যপট বদলে গেছে। শক্তির বিচারে ভারত এখন অনেকখানি এগিয়ে সেটা সবাই মানবেন। অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়ায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত প্রস্তুতি ম্যাচে খুব একটা সুবিধে করতে না পারলেও পাকিস্তান ও দ. আফ্রিকাসহ গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে দাপটের সঙ্গে জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় দলের মনোবল এখন অনেকটাই চাঙ্গা। আর তাই এখন অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন ক্লাইভ লয়েড ও রিকি পন্টিংয়ের পর তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয়বার কাপ ছোঁবেন ধোনি। তারপরও ক্রিকেট একটি মহান অনিশ্চয়তার খেলা। আর তাই বাকি ম্যাচগুলোই বলে দেবে ভারত শিরোপা ধরে রাখতে পারবে কিনা। দলে রয়েছেন ধাওয়ান, কোহলি, আম্বিকা, রায়না, ধাওয়ান, আশ্বিন, সামিরা। অধিনায়কের স্বপ্নপূরণে এরা নিষ্ঠাবান হলে সেটা অসম্ভব হবে বলে মনে হয় না। তারাই এখন শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ভারত শিরোপা ধরে রাখলে কারও অবাক হওয়ার কথা নয়।

এশিয়ার আরেক প্রতিনিধি পাকিস্তান এই অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডেই ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল। তবে সেটা দুই যুগ আগের কথা। এখন সময় ও প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। দুই যুগ পরে তার পুনরাবৃত্তি করতে হলে অনেক লড়াই সংগ্রাম করতে হবে পাকিস্তানীদের। কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করলেও তারা ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে অনেকটা পিছিয়ে পড়লেও দ. আফ্রিকা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় তাদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন তারাও স্বপ্ন দেখছে শিরোপা জয়ের। দলে আছেন শহিদ আফ্রিদি, সরফরাজ, শেহজাদ, ইউনুস খান, উমর আকমলের সঙ্গে একঝাঁক টগবগে তরুণ। যারা যে কোন মুহূর্তে ম্যাচের চালচিত্র বদলে দিতে পারেন সে কথা সবার জানা। আর সেটা পারলে কাপ জেতা তাদের জন্যে অসাধ্য নয়।

নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে শ্রীলংকা খানিকটা পিছিয়ে পড়লেও শেষ ৮টি ম্যাচ দাপটের সঙ্গে জিতে তারাও এখন শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে। শেষ তিনটে বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট চতুর্থবার ফাইনালে খেললে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বিশ্বকাপে সম্ভবত শেষবারের মতো পাশে পাচ্ছেন মাহেলা জয়বর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারা, দিলসান, কুলাসেকরাদের। নিঃসন্দেহে তাদের শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে সেরা উপহারটা দিতে সচেষ্ট থাকবেন ম্যাথুস। কতটা সফল হবেন সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৯ মার্চ পর্যন্ত। ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলংকা যারাই শিরোপা জিতুক আমরা মনে-প্রাণে চাইছি, কাপ এশিয়ায় থাকুক।

প্রথম ম্যাচে নবাগত আফগানদের বিপক্ষে ১০৫ রানের সহজ জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। বৃষ্টির সুবাদে অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে ১ পয়েন্ট পেয়ে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে প্রত্যাশিত জয় পেয়ে এবং ইংল্যান্ডকে ২০১১ বিশ্বকাপের পর আবারও এডিলেডে ১৫ রানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে। আর বাংলাদেশ কোয়ার্টারে যাওয়ায় কপাল পুড়েছে ইংল্যান্ডের। এই পরাজয়ে তাদের বিশ্বকাপ মিশন গ্রুপ পর্বে শেষ হয়েছে। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে গ্রুপ পর্বে বিদায় দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। ২০১১ বিশ্বকাপে নিজের দেশে যেটা করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেটাই করেছে বাংলাদেশ। এখন বাংলাদেশের স্বপ্ন একটাই কোয়ার্টারে জিতে সেমিতে ওঠা। স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে নৈপুণ্য দেখিয়েছে তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সেটা অসম্ভব বলে মনে করে না বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ। ১৯ মার্চ মেলবোর্নে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ভারতকে হারাতে পারলেই সেমির টিকিট পেয়ে যাবে বাংলাদেশ। যদিও কাজটা সহজ নয়, তবে অসম্ভবও নয়। সে প্রমাণ ২০০৭ বিশ্বকাপে দিয়েছেও বাংলাদেশ। তবে সেটা করতে হলে অনেক ঘাম ঝরাতে হবে বাংলাদেশকে। দেশের ১৬ কোটি মানুষ বাংলাদেশকে সেমি-ফাইনালে দেখতে চায়। আশা করি দেশের মানুষের সে চাওয়াকে বাস্তবায়ন করতে চেষ্টার কোন ত্রুটি করবে না আমাদের ছেলেরা।

অস্ট্রেলিয়া এর আগে চারবার বিশ্বকাপ জিতেছে। এবারে তারা খেলছে পঞ্চমবার কাপ জেতার প্রত্যয় নিয়ে। যদিও ব্রাজিলের মতো তারাও নিজেদের দেশের মাটিতে কাপ জিততে পারেনি। ’৯২ বিশ্বকাপে স্বাগতিক হয়ে কাপ জেতা তো দূরের কথা সেমিতেও উঠতে পারেনি অসিরা। নিউজিল্যান্ডের কাছে পরাজয় যদিও তাদের মনোবলে অনেকটা চিড় ধরিয়েছে তবু নতুন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক অস্ট্রেলিয়ানদের সে দুঃখটা ভুলিয়ে দিতে চেষ্টার কোন ত্রুটি করবেন না। কতটা সফল হবেন সেটাই দেখার অপেক্ষা। নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে এবং বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের কাছে ১ পয়েন্ট হারিয়ে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে তবু অস্ট্রেলিয়া দল এখন নতুন মুখের জয়গানে মুখরিত। তবে দলে যারা জায়গা পেয়েছেন সবাই যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই জায়গা করে নিয়েছেন। ফ্রিঞ্চরা সেটা বুঝিয়েও দিয়েছেন। নবীনদের পাশাপাশি দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ শেন ওয়াটসন, ডেভিড ওয়ার্নার, জর্জ বেইলি, ব্রাড হাডিন, মিঠু জনসনরা। নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ে গড়া এ দলটি শেষ চরে তো বটেই এমন কী পঞ্চমবারের মতো কাপ জিতলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

‘৯২’র বিশ্বকাপে অনেকে ভেবেছিলেন নিউজিল্যান্ডের কাপ জেতা ছিল সময়ের ব্যাপার। সেবার তারা সেটা পারেনি। সেবারের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে এবার কাপ ঘরে তুলতে বদ্ধ পরিকর কিউইরা। তারা যে এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ বা ইংল্যান্ডের সঙ্গে জিতেই শিরোপার দাবিদার হয়েছে তাই নয়। বিশ্বকাপের আগেই তারা নিজেদের এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর একটি ম্যাচ জিততে একজনই যথেষ্ট সেটা কোরি এন্ডারসন বা সাউদিরা ব্যাটে-বলে বুঝিয়েও দিয়েছেন। এন্ডারসন বা সাউদিরা এরই মধ্যে যে ম্যাসেজটা দিয়েছেন সেটা হচ্ছে, ’৯২তে মার্টিন ক্রোর অপূর্ণতাকে মুছে করার চেষ্টা করবেন। এরই মধ্যে গ্রুপের সব ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেটার প্রমাণও দিয়েছে তারা। গ্রুপে অপরাজিত থেকে কোয়ার্টার নিশ্চিত করেছে তারা। বিশ্বকাপের আগের ১০টি আসরের সর্বাধিক ৬ বারের সেমি-ফাইনালিস্ট নিউজিল্যান্ডকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ দেবার জন্যে সর্বোতভাবে সচেষ্ট থাকবেন অধিনায়ক বেন্ড্রন ম্যাককালাম। আর তাকে যদি তার সতীর্থরা কোরি এন্ডারসন, গাপটিল, ভেট্টোরি, সাউদিরা ঠিক মতো সঙ্গ দেন তাহলে বিশ্বকাপে তাদের শিরোপা জেতা অসম্ভব হবে বলে অনেকে মনে করেন না।

এবারের বিশ্বকাপের আরেক দাবিদার বিশ্বকাপের ‘চোকার’ খ্যাত দ. আফ্রিকা। স্প্রিংবকরা ক্রিকেটে ২১ বছর নির্বাসিত থাকার পর ’৯২ বিশ্বকাপ থেকে খেলছে। অভিষেক ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তারা লাইম লাইটে চলে আসে। সেবার তাদের হাতে কাপ দেখার স্বপ্ন দেখেছিলেনও অনেকে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেবার তারা সে স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি। কেন পারেনি সে ইতিহাস সবার জানা। সেবার তাদের জয়রথ থামে সেমি-ফাইনালে। খেলায় নয়, পরাজিত হয় বৃষ্টির কাছে। ভাগ্য তাদের বঞ্চিত করেছে বারবার। অভিষেকের পর থেকে প্রত্যেকটা বিশ্বকাপে সেরা দল নিয়েও তারা এ পর্যন্ত একবারও কাপ ছুঁতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের কোরি এন্ডারসনের মতো দ. আফ্রিকা দলে রয়েছেন দলনেতা এবি ডি ভিলিয়ার্স। ক’দিন আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষের ম্যাচে এবি ডিভিলিয়ার্স প্রমাণও করে দিয়েছেন। ওয়ান-ডে ক্রিকেটের ১১টি রেকর্ড একাই ভেঙে দিয়েছেন ওই এক ম্যাচে। এ বিশ্বকাপেও রেকর্ড বুক তচনছ করেছেন। এবার প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে দাপটের সঙ্গে হারালেও ভারত ও পাকিস্তানের কাছে হেরে খানিকটা পিছিয়ে পড়েছে দ. আফ্রিকা। তারপরও কোয়ার্টারে আছে তারা। শিরোপা জেতার শক্তি ও সামর্থ্য তাদের আছে। তবে সেমি-ফাইনালের পর আর তারা এগোতে পারে না। এবার সেটার ব্যতিক্রম হবে বলে অনেকে মনে করছেন। দলে রয়েছেন হাশিম আমলা, মিলার, ডুমেনি, ডেল স্টেইন, ডুপ্লেসিস, ডি কক, মরকেল, স্টেইন, তাহিররা। এরা যে কেউ হতে পারেন শিরোপা জয়ের কান্ডারি। সবার ওপরে আছেন প্রথম ক্যাপ্টেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। যার পক্ষে যে কোন ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়া সম্ভব। আর তাই এবি ডি ভিলিয়ার্সের হাতে কাপ হাতে ছবিটা দেখা এবার অসম্ভব নাও হতে পারে। আর সেই সঙ্গে তাদের চোকার নামটাও ঘুচতে পারে।

তিনবারের ফাইনালিস্ট ও দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এবারে দল গড়া নিয়েই বিতর্ক ছিল। সুনীল নারায়ণ, ডোয়াইন ব্রাভোদের বাদ দিয়ে তারা আগেই পিছিয়ে পড়েছিল। আয়ারল্যান্ডকে হটিয়ে কোয়ার্টারে উঠলেও তারা যে কাপ জিততে পারবে এমনটা মনে করার কোন আবহ এখন পর্যন্ত তৈরি করতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারালেও নন-টেস্টপ্লেয়িং দল আয়ারল্যান্ডের কাছে হারায় তাদের দল নিয়ে কথা উঠছে। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় তাদের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। গেইল, স্যামুয়েলস, ব্রাভো, স্মিথ, সিমন্স, টেলর, সুলেমান বেন, রোচ, সামি, সুনীলের মতো স্টার রয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে ১৪টি দল অংশ নিচ্ছে। এই ১৪ দলের মধ্যে শক্তির বিচারে টেস্ট পরিবারের শীর্ষ ৮ দল কোয়ার্টারে খেলার কথা। ইংল্যান্ড বাদে খেলছেও তারা। এবারের বিশ্বকাপে বিশ্বকাপে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দ. আফ্রিকা, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ কোয়ার্টারে খেলছে এ কথা এখন সবার জানা। শিরোপা জয়ের লড়াই এখন আর চার দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সম্ভাব্য চার সেমি-ফাইনালিস্ট হিসেবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দ. আফ্রিকার কথা ভাবা হলেও পিছিয়ে থাকবে না পাকিস্তান ও শ্রীলংকাও। তবে খেলাটা ক্রিকেট বলে কথা। ক্ষণে ক্ষণে ক্রিকেট খেলার চালচিত্র বদলে যায়। পাকিস্তান ও শ্রীলংকাকেও এখন আর উড়িয়ে দেয়া পাচ্ছে না। বিশেষ করে সাঙ্গাকারা যে ফর্মে রয়েছেন তাতে করে শ্রীলংকার পক্ষেও কাপ জেতা অসম্ভব নয়। অনেকে মনে করছেন কাপ ধরে রাখবে ভারত। আবার অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। অনেকে আবার নতুন কোন দলের অধিনায়কের হাতে কাপ দেখতে চাইছেন। আর নতুন দলের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে নিউজিল্যান্ড ও দ. আফ্রিকা। এরা যে রকম ব্যালান্স দল নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে তাতে করে এদের মধ্যে কেউ চ্যাম্পিয়ন হলে আপামর ক্রিকেটানুরাগীমহলও খুশিই হবে।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও সাহিত্য সংগঠক

syedmayharulparvey@gmail.com

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০১৫

১৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: