মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বঙ্গবন্ধু কিভাবে স্বাধীনতা এনেছিলেন-বাংলা একাডেমিতে একক বক্তৃতা

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০১৫
বঙ্গবন্ধু কিভাবে স্বাধীনতা এনেছিলেন-বাংলা একাডেমিতে একক বক্তৃতা
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তির সংগ্রামে সাত কোটি বাঙালীকে ঐক্যের সুতায় গেঁথেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতির মননে স্বাধীনতার চেতনাময় বহ্নিশিখা জ্বেলে দিয়েছিলেন জাতির জনক। তাঁরই স্বপ্ন সংগ্রামের পথ ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। মঙ্গলবার ছিল স্বাধীনতার এই মহান স্থপতির ৯৬তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস। তাই সকাল থেকেই রাত অবধি নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে জাতির জনককে। হৃদয়স্তাত গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় উদ্্যাপন করা হয়েছে তাঁর জন্মদিন। কোন আয়োজনে শিশুদের শোনানো হয়েছে বঙ্গবন্ধুর গল্প। কোথাও বা মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছবি এঁকেছে শিশুরা। বক্তার আলোচনায় উঠে এসেছে দেশপ্রেমের আলোয় উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের কথা। গানের সুরে কিংবা নৃত্যের মুদ্রায় নিবেদন করা হয়েছে শ্রদ্ধাঞ্জলি। কবিতার দোলায়িত ছন্দে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে জাতির জনককে।

‘বঙ্গবন্ধু কিভাবে আমাদের স্বাধীনতা এনেছিলেন’ ॥ বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশু দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে একক বক্তৃতার আয়োজন করে বাংলা একাডেমি। বিকেলে একাডেমির নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু কী ভাবে আমাদের স্বাধীনতা এনেছিলেন শীর্ষক এই বক্তৃতানুষ্ঠান। একক বক্তৃতা করেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

একক বক্তৃতায় মুনতাসীর মামুন বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ স্বাধীন করা কোন তাৎক্ষণিক ঘটনা নয়। বরং বাংলার ইতিহাসের নানা পর্বে ধারাবাহিক ভূমিকা পালন করে তিনি স্বাধীনতাকে সম্ভবপর করে তুলেছেন। ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন তাঁর প্রধান আকাক্সক্ষা বাঙালীত্বের প্রতিষ্ঠা। বাংলা ভাষা, বাঙালী সংস্কৃতি ও বাঙালী জাতীয়তাবাদের প্রতি আনুগত্য তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই প্রদান করে চলেছিলেন। তৃণমূলের মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করার জন্য তিনি পদপদবি পর্যন্ত ত্যাগ করেছেন।

স্বাগত বক্তব্যে শামসুজ্জামান খান বলেন, বাঙালী জাতির অবিসংবাদি নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী সারাদেশে যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত হচ্ছে তাতে প্রমাণ হয় দেশবাসী একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চলমান সহিংসতা ও সন্ত্রাসের বিপক্ষে তাদের অবস্থান প্রকাশ করছে।

শিল্পকলা একাডেমির বহুমাত্রিক আয়োজন ॥ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে বহুমাত্রিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে সান্ধ্যকালীন আয়োজনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় জাতির জনককে। অনুষ্ঠানমালায় ছিল শিশু সমাবেশ, আলোচনা, শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত গানের প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে উপস্থিত পঙ্ক্তি রচনা প্রতিযোগিতা ও ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান এবং নৃত্য-গীতে সাজানো সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব রণজিৎ কুমার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের পরিচালক সোহরাব উদ্দীন।

জাতীয় জাদুঘরের আয়োজন ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে শিশু চিত্রকলা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং শিক্ষার্থীদের বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত ১০০টি চিত্রকর্ম এ প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হয়। জাদুঘরের প্রধান লবিতে দিনব্যাপী প্রদর্শন করা হয় বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র। তৃতীয় পর্বে আয়োজন করা হয় বক্তৃতা প্রতিযোগিতা।

কচি-কাঁচার মেলার কর্মসূচী ॥ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে বিকেলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা। সেগুন বাগিচার কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য শেখ হাফিজুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন মেলার পরিচালক খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।

‘আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী’ ॥ জাতির জনকের জন্মদিন উপলক্ষে ‘আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী’ শীর্ষক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অফিসার্স ক্লাব ঢাকা। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে ছিল বহুমাত্রিক অনুষ্ঠান। ছিল শিশু শিল্পীদের আঁকা চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ পাঠ করেন হাসান মুশফিক শাবাব। বঙ্গবন্ধুর ওপর অবিরাম পরিশুদ্ধ বাংলায় বাংলা শীর্ষক প্রতিযোগিতা।

জয়নুল গ্যালারিতে প্রাচ্যচিত্রকলা প্রদর্শনী ॥ ৪৭ সমকালীন শিল্পীর প্রাচ্যধারার শিল্পকর্ম নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে মঙ্গলবার শুরু হলো প্রাচ্যচিত্রকলা প্রদর্শনী।

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০১৫

১৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: