মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বিপর্যস্ত আবাসিক এলাকা

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০১৫

ঢাকাকে বসবাসের উপযোগী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। এসব পরিকল্পনার মধ্যে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রপার্টি ডেভেলপার তথা বহুতল ভবন ব্যবসায়ীরা যেভাবে ঢাকায় যত্রতত্র আকাশছোঁয়া অট্টালিকা বানিয়ে ফেলেছে, ক্রমান্বয়ে তা হয়ে উঠেছে আত্মঘাতী। ঢাকা শহরে বহু প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালও নির্মাণ করা হয়েছে পরিবেশ ও নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে। এতে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটেছে। মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে- এমন উদাহরণ প্রায় নেই বললেই চলে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তথা রাজউকের নির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে। সেসব বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে মহানগরীর উন্নয়নের স্বার্থেই। বলা বাহুল্য, ব্যাপক হারে সেসব বিধিমালার লঙ্ঘন ঘটেছে বলেই ঢাকা আজ পরিণত হয়েছে ইট-কাঠ-পাথরের জঙ্গলে। ওদিকে বিশেষজ্ঞরা রাজউকের কার্যক্রমকে তিন ভাগে ভাগ করার সুপারিশ করেছেন। এর একটি অংশ ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) বাস্তবায়ন করবে, একটি অংশ ভবন নির্মাণ পর্যবেক্ষণ করবে এবং অপর অংশটি নগর উন্নয়নের কাজ করবে। দুঃখের বিষয়, এ পরামর্শ মেনে সুষ্ঠু ও পরিকল্পনামাফিক কাজ হয়নি। তারপরও ঢাকাকে বাঁচানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। রাজধানীর চারপাশের চার নদী বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যার তীরে গড়ে ওঠা শত শত অবৈধ স্থাপনার কথা সংসদেই উচ্চারিত হয়েছে বার বার। ভূমিদস্যু ও নদীহন্তারকরা আইনের তোয়াক্কা করে না। অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জরিপ পর্যালোচনায় বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে দেশের উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার বিষয়টি।

রাজউকের দায়িত্বহীনতা এবং কিছু কিছু অনিয়মের জন্য ঢাকা আজ বিপন্ন- এটা সর্বজনবিদিত। কিন্তু শুধু তাদের ওপর দায় চাপিয়ে আত্মতুষ্টি লাভ কাজের কথা নয়। রাজউকের ওপর গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী একহাত নিয়েছেন রবিবার বিএসআরএফ আয়োজিত সংলাপে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী হিসেবে তিনি কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন? স্মরণযোগ্য যে নগর-মহানগর উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা ও ড্যাপকে পাশ কাটিয়ে বা উপেক্ষা করে যাতে নগর উন্নয়ন কর্মকা- না হয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তিন মাস আগে। তাই অভিযোগ উত্থাপন নয়, জনতার বিচারে অভিযুক্ত মহলের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই যুক্তিযুক্ত। রাজউকের ব্যর্থতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এমন ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর হবে, যাতে ঢাকার আবাসিক এলাকা আর বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত না হয়। ঢাকা বাঁচাতে এখনি পদক্ষেপ নিতে হবে, আর নয় আবাসিক এলাকাকে বিপর্যস্ত করে তোলা। পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় ইউনিভার্সিটি, হোটেল নয়- গণপূর্তমন্ত্রীর এ বক্তব্য নিশ্চয়ই ঢাকাবাসীকে সন্তুষ্ট করবে। দেশবাসীর কাম্য, ঢাকায় পরিকল্পনাবিহীনভাবে আর একটিও ভবন যেন নির্মাণ করা না হয়। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাকে রাখতে হবে পৃথক স্বতন্ত্র স্থানে।

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০১৫

১৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: