কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সালাহউদ্দিন হাওয়া?

প্রকাশিত : ১৬ মার্চ ২০১৫
সালাহউদ্দিন হাওয়া?
  • আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী চার বাহিনীর পক্ষ থেকে এ্যাটর্নি জেনারেল হাইকোর্টকে জানিয়েছেন তাঁরা কোন সন্ধান পাননি
  • নিখোঁজের দিন অন্য পাঁচ মেহমানের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া মেহমান ‘রায়হান’ কে?

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের হদিস নেই। তিনি এখন কোথায় কেউ বলতে পারছে না। তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। ৬ দিন ধরে এই রাজনৈতিক নেতার নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় চলছে। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের কোন সন্ধান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পায়নি বলে আদালতকে জানিয়েছেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রবিবার বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এসবি, সিআইডি, র‌্যাব, ডিএমপি ও পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে পাওয়া পাঁচটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে এ কথা জানান। এদিকে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলুর নামে ২০ দলীয় জোটের পক্ষে পঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছেÑ সালাহউদ্দিনের ব্যাপারে সরকার কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাঁর ভাগ্যে কী ঘটেছে বা ঘটতে যাচ্ছে, তা এখনও আমাদের অজ্ঞাত। তবে আমরা তাঁকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।

সালাহউদ্দিন আহমেদের পরিবারের অভিযোগ, গত ১০ মার্চ রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সালাহউদ্দিনকে তুলে নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি স্বীকার করেনি। এই প্রেক্ষাপটে সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ স্বামীর খোঁজ চেয়ে হাইকোর্টে গেলে গত বৃহস্পতিবার একটি রুল জারি করে আদালত। সালাহউদ্দিনকে কেন খুঁজে বের করে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হবে না, সরকারকে তা রবিবারের মধ্যে জানাতে বলা হয়। সে অনুযায়ী বিভিন্ন বাহিনীর পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন এ্যাটর্নি জেনারেলের দফতরে জমা দেয়া হয়। এসব প্রতিবেদনে সালাহউদ্দিনকে পাওয়া যায়নি বলে বলা হলেও যে বাসা থেকে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন ‘নিখোঁজ’ হয়েছেন, সেই বাসা থেকে ওই দিন ‘রায়হান’ নামে এক অতিথি অন্য চার-পাঁচজন অতিথির সঙ্গে চলে গেছেন বলে পুলিশের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এই ‘রায়হান’ সালাহউদ্দিন কিনা, সে বিষয়ে সালাহউদ্দিনের আইনজীবীরাও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে।

উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘তদন্তে দেখা গেছে, ওই বাসার মালিক মৃত ড. সিরাজ-উদ-দৌলা। তাঁর মেয়ের পক্ষে ধানম-ি নিবাসী জনৈক রেজা বাসাটির দেখভাল করছেন। সেখানে বাসার নিচতলায় পশ্চিম পাশে গ্যারেজ, পূর্বপাশ ভাড়া নিয়ে আহসান নামে এক ব্যক্তি ব্ল্যাকবেরি চকোলেটের গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছেন। সেখানে ডেলিভারিম্যান সাইফুল বসবাস করেন।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশে সুকান্ত করিম নামে একজন থাকেন। পশ্চিম পাশে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের ডিএমডি হাবিব হাসনাত এবং তাঁর স্ত্রী সুমনা থাকেন। তিনতলায় প্রকৌশলী খসরু আই জুয়েল ও তাঁর স্ত্রী বসবাস করেন। পশ্চিমপাশে বসবাস করেন নেসলে কোম্পানির ম্যানেজার মেজর (অব) হাসিব, স্ত্রী ও সন্তান। নিচে দুই দারোয়ান আশরাফুল ও আকতার বসবাস করেন। পর্যবেক্ষণের সময় দ্বিতীয় তলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।

পুলিশের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘জিজ্ঞাসাবাদে দারোয়ান আকতার জানান, চার দিন আগে হাসনাত সাহেব সস্ত্রীক বাসা থেকে গিয়েছেন। যাওয়ার সময় রায়হান নামে একজন পুরুষ মেহমান রেখে যায়। হাসনাত সাহেব দারোয়ানদের বলে যানÑ তাদের অনুপস্থিতিতে মেহমান বাসায় থাকবেন। আকতার আরও জানান, বাসায় রাত এগারোটা পর্যন্ত ভাড়াটিয়ারা গাড়ি নিয়ে যাওয়া-আসা করে। ১০ মার্চ অনুমান ৯টার দিকে পাঁচ মেহমান হাসনাত সাহেবের বাসায় আসেন। ওই ফ্ল্যাটের দরজা নক করার পর ভেতর থেকে দরজা খুললে তারা ভেতরে ঢোকে। আনুমানিক আধাঘণ্টা পর উনি বাসায় আসা লোকদের সঙ্গে গাড়িতে উঠে চলে যান। ওই লোকটি সালাউদ্দিন কিনাÑ সেটা তাঁরা জানেন না।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাসায় আসা লোকদের গায়ে কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক ছিল না। তাদের কাছে কোন অস্ত্রও তারা দেখতে পায়নি। বাইরে অপেক্ষমাণ গাড়ি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ির মতো মনে হয়নি। মেহমানের হাতে কোন হাতকড়া ছিল না। তাকে জোর করে নেয়া হচ্ছে বলেও মনে হয়নি।’

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, এখান থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ কাউকে ধরে নিয়ে গেছেÑ এমন তথ্য তাদের জানা নাই। এমনকি হাবিব হাসনাত সাহেবের বাসায় মেহমান রেখে কোথায় গেছেন, তাও তাঁরা জানেন না। তবে দুই-তিন দিন ধরে তাদের ব্যবহৃত গাড়িগুলো গ্যারেজে নাই।’ প্রতিবেদেন আরও বলা হয়, হাবিব হাসনাত সাহেব ব্যাংক থেকে ছুটি নিয়েছেন। সুমনাও তাঁর বাবার বাড়িতে নাই। হাসনাত ও সুমনার সন্তানরা তাঁদের সঙ্গে থাকেন না। তাঁদের মোবাইল দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় কোনভাবেই নিশ্চিত হওয়া যায় না যে, আলোচ্য বাসায় সালাহউদ্দিন আহমেদ ছিল বা তাঁকে কেউ গ্রেফতার বা অপহরণ করেছে।’

এই প্রতিবেদন ছাড়াও সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী উত্তরা থানায় যাওয়ার পর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশের দায়ের করা একটি জিডি, এসবি, সিআইডি, র‌্যাব, ডিএমপি ও পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে পাঠানো পাঁচটি জবাব আদালতে উপস্থাপন করেন এ্যাটর্নি জেনারেল। এ সময় তাঁকে সহায়তা করেন অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ বশির উল্লাহ। সালাহউদ্দিনের স্ত্রীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সঙ্গে ছিলেন এজে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মোঃ বদরুদ্দোজা বাদল।

বরকতউল্লাহ বুলুর নামে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ২০ দলীয় জোটের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্বরত বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে রাতের অন্ধকারে রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি বাসা থেকে দরজা ভেঙ্গে চোখ বেঁধে হাতকড়া পরিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর পাঁচ দিন অতিবাহিত হতে চলেছে। এই দীর্ঘ সময়েও তাঁকে ছেড়ে দেয়া কিংবা আদালতে হাজির করা হয়নি। উপরন্তু সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গ্রেফতারের কথাও অস্বীকার করে চলেছে। এতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সালাহউদ্দিনের স্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত থেকে এই উদ্বেগজনক ঘটনার ব্যাপারে রুল জারি করা সত্ত্বেও সরকার সম্পূর্ণ নির্বিকার। যতই সময় যাচ্ছে সালাহউদ্দিনের নিরাপত্তার ব্যাপারে আমাদের, তার পরিবারের সদস্যদের ও দেশবাসীর উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে।

বিবৃতিতে বলা হয় এ সরকারের আমলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী, সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হিরু, বিএনপি নেতা হুমায়ুন পারভেজ ও ঢাকার নির্বাচিত কমিশনার চৌধুরী আলমসহ বিরোধীদলীয় শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের পর অস্বীকার এবং গুম ও খুন করার ভয়ঙ্কর নজির স্থাপিত হয়েছে। আবার গ্রেফতারের কথা অস্বীকারের পর নানা রকম নাটক সাজিয়ে বিলম্বে আটক দেখানোরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। সালাহউদ্দিনকে খালেদা জিয়া ময়লার বস্তায় ভরে পাচার করে দিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে অবাস্তব, আজগুবি ও নিষ্ঠুর পরিহাস করেছেনÑ তার নিন্দা জানাবার ভাষা আমাদের নেই। দেশবাসী তাঁর কাছ থেকে দায়িত্বশীল বক্তব্য আশা করেÑ দায়িত্বহীন ও বিকৃত মানসিকতার মস্করা নয়। এমন একটি গুরুতর বিষয় নিয়ে এ ধরনের বিদ্রƒপাত্মক উক্তি করে সরকার তার দায় এড়াতে পারে না। অবৈধ পন্থায় ক্ষমতাসীন হলেও শাসন-কর্তৃত্ব তাদের করায়ত্তে। কাজেই প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদেরই দায়িত্ব।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বহু রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে অপহরণ, গুম ও খুন করে তা হজম করতে করতে বর্তমান সরকারের দুঃসাহস এতটাই বেড়েছে যে, তারা ক্রমাগত উপরের দিকে হাত বাড়াচ্ছে। সালাহউদ্দিন এদের নিষ্ঠুর দুঃসাহসিকতার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত। আমরা অনতিবিলম্বে সালাহউদ্দিনকে মুক্তি দেয়ার কিংবা আদালতে হাজির করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে উদ্ভূত অবস্থার দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকে বিএনপির পক্ষে বিবৃতি দিয়ে আসছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। ১১ মার্চ থেকে তার পরিবার ও বিএনপি অভিযোগ তুলেছে, আগেরদিন ১০ মার্চ রাতে তাকে ধরে নিয়ে গেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে পুলিশ, র‌্যাব বা গোয়েন্দা সংস্থার কেউই সালাহউদ্দিন আহমেদকে আটকের কথা স্বীকার করেননি। সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ১০ মার্চ রাতে পুলিশ ও র‌্যাবের লোকেরা সালাহউদ্দিন আহমেদকে উত্তরার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছেন। ১১ মার্চ রাতে সালাহউদ্দিন আহমেদের নিখোঁজ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি গুলশান ও উত্তরা (পশ্চিম) থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কোন থানাই তার জিডি গ্রহণ করেনি।

১১ মার্চ রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এক বিবৃতিতে বলেন, ১০ মার্চ রাত ১০টার পর উত্তরার একটি বাসা থেকে পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২০-৩০ জনের একটি দল সালাহউদ্দিন আহমেদকে তার উত্তরার বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে বাসার একজন পুরুষ ও একজন নারী কর্মীকেও ধরে নিয়ে গেছে। এরপর থেকে তার পরিবারের সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে তাকে গ্রেফতারের কথা বলা হয়নি। ইতোমধ্যেই পুলিশের আইজি থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ ক’জন কর্মকর্তা জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে। এমনকি সরকারের তরফ থেকেও বলা হয়েছে সালাহউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে তার পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। আর সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থা কি কয়েক বছর আগে বনানীর বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলয়াস আলীর মতো হয়ে গেল কি না এমন কথাও মানুষ বলাবলি করছে।

আজ সকল জেলা মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

মিছিলের ডাক ॥ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করে অস্বীকার করা হচ্ছে অভিযোগ করে এর প্রতিবাদে আজ সোমবার দেশব্যাপী সকল জেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল। রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান।

বিবৃতিতে ছাত্রদল নেতারা বলেন, সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে মানুষ হত্যা, অপহরণ, গুম এ সরকারের প্রধান বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গুলি করে আহত ও পঙ্গু করে দেয়া সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দিনের রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। কারও নামে মামলা থাকলে তাকে আইন অনুযায়ী গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করতে পারেন, কিন্তু গ্রেফতার করে দিনের পর দিন নিখোঁজ করে রাখার এখতিয়ার কোন বাহিনীকে দেয়া হয়নি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ, ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ কামাল জনি, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসানকে মুক্তি দিয়ে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান।

প্রকাশিত : ১৬ মার্চ ২০১৫

১৬/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: