রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিশ্ব অর্থনীতির খোঁজখবর

প্রকাশিত : ১৫ মার্চ ২০১৫

বেদুঈন থেকে বিলিওনেয়ার

আগামীকাল ৯ মার্চ মোহেদ আলট্রাডের জন্মদিন। সত্যিকার জন্মদিন নয়। ছেলে-মেয়েদের ঠিক করা জন্মদিন। ৪৬ বছর আগে তিনি যেদিন ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ারে এসেছিলেন, সেদিনটিকেই জন্মতারিখ হিসেবে বেছে নিয়েছে তারা। একজন বিলিওনেয়ার জন্মতারিখের ঠিক-ঠিকানা নেই, ভাবতেই অবাক লাগছে, তাই না? কিন্তু সিরিয়ার বেদুঈনের ঘরে জন্মানো একজন মানুষের জন্মতারিখ জানা না থাকাটাই স্বাভাবিক। উট, ভেড়া ও ছাগল চরিয়ে আর যাযাবর হয়ে ঘুরে পার করেছিলেন নিজের শৈশব, কৈশোর। পরিবারের অমতে চুরি করে শিখেছিলেন লেখাপড়া। অর্জন করেছিলেন স্নাতক ডিগ্রী। কপর্দকশূন্য অবস্থায় ফ্রান্সে এসেছিলেন সিরিয়ান সরকারের দেয়া বৃত্তি নিয়ে। দিনে একবেলা খাবারেরও নিশ্চয়তা ছিল না। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর চেষ্টার কাছে কষ্ট ম্রিয়মাণ হয়ে গিয়েছিল। প্রচেষ্টাই ছিল তাঁর কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনের মূল শক্তি। লেখাপড়া শেষে আবুধাবির তেল কোম্পানিতে চাকরি করতে করতেই তিন বন্ধু মিলে শুরু করেন কম্পিউটারের ব্যবসা। সেই ব্যবসা থেকে আয় করেন ৬ লাখ ডলার। তিনি লক্ষ্য করেন মঞ্চের সাজসরঞ্জাম সরবরাহের বেশ চাহিদা আছে। আলট্রাড গ্রুপ নামে মঞ্চের সাজসরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। এই কোম্পানিটি এখন বিশ্বের অন্যতম মঞ্চের সাজসরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের এক শ’র অধিক দেশে তাঁর কোম্পানি ব্যবসা করছে। এই ব্যবসা দিয়েই আজ তিনি ফোর্বসের বিলিওনেয়ার তালিকার একজন। বেদুঈনের ঘরে জন্ম নেয়া আলট্রাড ফ্রান্স সরকার থেকে ‘লিজিয়ন অব অনার’ লাভ করেন। ব্যবসায়ী ছাড়াও তাঁর আরেকটি পরিচয়ও আছে। তিনি সাহিত্যিক। তাঁর লেখা ‘বেদুঈন‘ বইটি শুধু পুরস্কারই অর্জন করেনি, আঞ্চলিক স্কুলগুলোর শিক্ষাক্রমেও অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে।

আমেরিকার অর্থনীতির হুমকি স্থূলতা

আমেরিকার অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থূলতা! কী, হেসে উড়িয়ে দিলেন ব্যাপারটি? বিশ্বাস করুন আর নাই করুন এটাই সত্য। দিন দিন আমেরিকানদের মধ্যে মোটা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ২০-৭৪ বছর বয়সী আমেরিকানদের ৩৫.৭%-ই মোটা। সুগারযুক্ত পানীয় আর খাবারের প্রতি অধিক ঝোঁকই এদের মোটা হওয়ার পেছনে দায়ী। খাচ্ছে আর মোটা হচ্ছে। এতে রোগবালাই হয়ে উঠেছে তাদের নিত্যসঙ্গী। ব্যয় করতে হচ্ছে প্রচুর অর্থ। স্থূলতা বিষয়ক রোগবালাইয়ের মেডিক্যাল ব্যয় আকাশছোঁয়া। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের ব্রকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো রস আমন্ড বলেন, ‘স্থূলতার বড় প্রভাব এখনও ব্যক্তিপর্যায়ে থাকলেও রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক ব্যয় বৃদ্ধিতেও এটি ভূমিকা রাখছে।’ এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১০ সালে মোটা মানুষদের মেডিক্যাল ব্যয় হয়েছিল ৩১৫.৮ বিলিয়ন ডলার যা ২০০৫ সালের চেয়ে ৪৮% বেশি। এখন একজন মোটা মানুষকে ডাক্তারের পেছনে বছরে ব্যয় করতে হয়েছে ৩ হাজার ৫০৮ ডলার। ডাক্তারের পেছনে ব্যয়িত অর্থ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শ্লথ করছে না। কিন্তু মোটাদের রোগবালাই কমিয়ে দিচ্ছে তাদের কর্মশীলতা। স্বাস্থ্যগত দুর্বলতার কারণে অফিসে অনুপস্থিতির পরিমাণ বাড়ছে। এ কারণে রাষ্ট্রের বছরে ক্ষতি হচ্ছে ৮.৬৫ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া মোটাদের কর্মক্ষমতাও অনেক কম, যার ফলে তারা বেশি আয় করতে পারছে না। এতে দেশে সৃষ্টি হচ্ছে অর্থনৈতিক বৈষম্য। তাছাড়া স্থূলতার কারণে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত এক বিলিয়ন গ্যাসোলিন ব্যবহার করতে হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়েই স্থূলতা দেশটির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে প্রতিবন্ধক হয়ে উঠছে।

যুক্তরাজ্যে ব্যাংকারদের শাস্তির বিধান

কর ফাঁকি রোধে এবার ব্যাংকারদের জন্য নতুন শাস্তির বিধান চালু করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। ধনী ব্যক্তিদের সম্পত্তির প্রকৃত হিসাব গোপন রেখে কর ফাঁকি দিতে সহায়তাকারী ব্যাংকার ও হিসাবরক্ষকদের জন্যই আসছে বড় অঙ্কের অর্থদ-ের শাস্তির বিধান। ব্যাংকিং জায়ান্ট এইচএসবিসির কর ফাঁকিতে সহায়তা করার কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় বইয়ে যায় দেশটিতে। ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যের আয়কর বিভাগের হাতে একটি গোপন নথি এসেছিল। সে নথিতে কর ফাঁকি দেয়া এগারোশো ব্যক্তির নাম উঠে আসে। এদের অনেককেই কর ফাঁকি দিতে সহায়তা করেছে এইচএসবিসি এমন অভিযোগ উঠতে থাকে। এর পর থেকে ব্যাংকটির উপর ক্রেতাদের আস্থা ক্রমান্বয়ে কমছে। এইচএসবিসি ব্যাংক এখন বেশ চাপে আছে। গত বছর এই জায়ান্ট ব্যাংকটির মুনাফা কমে গেছে। এ বছর এফটিএসই সূচক ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় অবস্থান করলেও এইচএসবিসি শেয়ারের দর ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট গালিভার এবং চেয়ারম্যান ডগলাস, দু’জনই ট্রেজারি কমিটির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং তাদের নিয়ন্ত্রণের অভাবেই এমনটা ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন। কিন্তু কর ফাঁকি রোধে বিরোধীদের চাপ অব্যাহত রয়েছে। উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রিটিশ আইনসভা। বিরোধী লেবার দলের ছায়া অর্থমন্ত্রী এড বলস দাবি করেন যে, কনজারভেটিভ সরকার কর ফাঁকি রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। বিরোধীদের এসব কথার জবাবে অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবর্ন আগামী বাজেটে কর ফাঁকিতে সহায়তাকারী ব্যাংকারদের শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যাঁরা কর ফাঁকি দিচ্ছেন তাদের সঙ্গে সঙ্গে যাঁরা এতে উৎসাহ দিচ্ছেন কিংবা সহায়তা করছেন তাদেরকেও বিচারের আওতায় নিয়ে আনার কথা বলেছেন তিনি।

আরিফুর সবুজ

প্রকাশিত : ১৫ মার্চ ২০১৫

১৫/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: