মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মেরিটাইম একাডেমির স্মৃতি

প্রকাশিত : ১৫ মার্চ ২০১৫
  • ক্যাম্পাস এক্সট্রা

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ মেঘমুক্ত এক সন্ধ্যায় ঢাকা সেনানিবাসের গলফ ক্লাব অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো আটলান্টিক মেরিটাইম একাডেমির ১ংঃ ইধঃপয চধংংরহম ড়ঁঃ পবৎবসড়হু। সে এক আবেগঘন পরিবেশ। একাডেমির প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচে ভর্তি সকল ক্যাডেটকে অভিভাবকসহ মেরিন পেশার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রহমান এবং গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস এমপি। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কুদরাত-ই-খোদা, চীফ ইঞ্জিনিয়ার চৌধুরী ফকরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন শাহ্ আলমসহ অন্য কর্মকর্তা। বিদায়ী ক্যাডেটরা সম্মানীত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে সনদ ও ক্রেস্ট গ্রহণ করে। বিনোদন সন্ধ্যা আর চযড়ঃড়মৎধঢ়যু তে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটালাম। পরদিন একাডেমি থেকে বিদায়ের পালা। সে আবেগঘন স্মৃতির কথা মনে হতেই বুকটার মধ্যে হু হু করে উঠে। বন্ধুদের জড়িয়ে ধরে কান্না আর জুনিয়রদের চোখের পানিতে আমার কাঁধ ভিজেই গিয়েছিল। দুুটি বছর পড়ালেখাসহ কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে যে প্রতিষ্ঠানে কাটালাম। সেই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে আসা সে যে কী কঠিন কাজ তা হাড়ে হাড়ে বুঝেছি।

এই তো সেদিনের কথা, ১৭ ডিসেম্বর ২০১২ একাডেমির ঔড়রহরহম ঃৎধফরঃরড়হ-এর দুঃসহ স্মৃতি এখনও তাড়িয়ে বেড়ায়। নদীর স্রোতের মতই দেখতে দেখতে দুটি বছর কেটে গেল। এ দু’বছরের দুঃখ সুখের অনেক স্মৃতি রয়েছে। তা যেন কখনই ভোলার নয়। চধৎধফব এৎড়ঁহফ, উরহরহম ঃধনষব, ঈষধংং ৎড়ড়স, এধসবং, ঝবষভ ঝঃঁফু আর রাতে চুরি করে আড্ডা দেয়া সবই যেন চোখের সামনে ভাসছে। এ দু’বছরে ৪২ ঈধফবঃং একে অন্যের সহোদরে পরিণত হয়ে গেলাম। সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করতে করতে নিজেদের মধ্যে একটা রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি হয়ে গেছে যা কখনও ভাঙ্গার নয়। হ্যাঁ বলছিলাম অঞখঅঘঞওঈ গঅজওঞওগঊ অঈঅউঊগণর ১ংঃ ইধঃপয পধফবঃ দের কথা।

এবার আসি একাডেমির প্রসঙ্গে। সবকিছু গুছিয়ে ওঠার আগেই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঈধফবঃ দের মনে অভাব অভিযোগ ও নানা প্রশ্ন লেগেই থাকত। তবে প্রতিষ্ঠানটি নতুন হিসেবে সবচেয়ে বড় যে সুবিধা দিতে চেয়েছে, সেটা হচ্ছে চাকরি প্রদানের নিশ্চয়তা। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিজন ক্যাডেটকে চাকরি দিতে অর্থাৎ বিদেশি জাহাজে ঙহ নড়ধৎফ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর বর্তমানে গধৎরহব প্রফেশনে ঔড়ন গধৎশবঃ এর যে কি অবস্থা, তা সব গধৎরহব-ই খুব ভাল করে জানেন। সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হচ্ছে ইরানের ঘওঞঈ শিপিং কোম্পানি থেকে প্রতিনিধি এসে এই একাডেমি পর্যবেক্ষণ করেছেন, ঈধফবঃ দের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং একাডেমি থেকে ক্যাডেটদের ঙহ নড়ধৎফ করতে চেয়ে সুখবর দিয়েছেন।

এতে সব ক্যাডেট একটু স্বস্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারল। সবার মনে নতুন ভাবনা কবে চধংংরহম ড়ঁঃ হবে? কবে শীপে উঠব? কত ঝধষধৎু পাব? এর মধ্যেই চট্টগ্রামে ঈড়ঁৎংব করতে গেলাম ঝবধ নবধপয-এ বনভোজন, সমুদ্রে গোসল, ঝযরঢ় ঠরংরঃরহম, ঝযরঢ়ুধৎফ ঠরংরঃরহম নানা কর্মসূচীতে ব্যস্ত সময় পার করে শুরু হলো ঢ়ধংংরহম ড়ঁঃ এর অপেক্ষা। দিন নির্ধারিত হচ্ছে না, এদিকে প্রতীক্ষার প্রহরও আর কাটছে না। অবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ মেঘমুক্ত গোধূলিতে অনুষ্ঠিত হল ১ংঃ ইধঃপয চধংংরহম ড়ঁঃ পবৎবসড়হু. উপস্থিত সংসদ সদস্যের কাছ থেকে সনদ ও ক্রেস্ট গ্রহণ, বিনোদন সন্ধ্যা আর চযড়ঃড়মৎধঢ়যু তে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটালাম। পরদিন একাডেমি থেকে বিদায়ের পালা। সে আবেগঘন স্মৃতির কথা মনে হতেই বুকটার মধ্যে হু হু করে ওঠে। বন্ধুদের জড়িয়ে ধরে কান্না আর জুনিয়রদের চোখের পানিতে আমার কাঁধ ভিজেই গিয়েছিল। মনে পড়ে পিতৃতুল্য শিক্ষকদের কথা। কখনও কড়া শাসন আবার কখনও বন্ধুসুলভ বড় ভাইয়ের মতো আদর ভালবাসার কথা। প্যারেড. পিটি, খাবার টেবিল এবং ক্লাসরুমের ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি ও নানা কথা। তবে ইন্টারনেটের কল্যাণে আমরা সবাই খুব কাছাকাছি থাকতে পারছি। আমরা সবাই ছন্নছাড়া হয়ে গেলেও সকলের মনে একই আশা আকাক্সক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কবে আমাদের ঝযরঢ়-এ উঠাবে? কবে ইন্টার্নি শেষ হবে? এখন ক্যাডেটদের প্রতিষ্ঠানের কাছে শুধু একটাই চাওয়া। আমাদের ঙহনড়ধৎফ করেন, যত দ্রুত সম্ভব। তা হবে প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব এবং ক্যাডেটবৃন্দের মঙ্গল।

ক্যাডেট রাফি মাহীনূর

প্রকাশিত : ১৫ মার্চ ২০১৫

১৫/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: