মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চামড়াশিল্প সাভারে না সরালে বর্জ্য শোধনাগার অকার্যকর হয়ে পড়বে

প্রকাশিত : ১৫ মার্চ ২০১৫
  • শিল্প মালিকদের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সঠিক সময়ে হাজারীবাগের চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠান সাভারে স্থানান্তর করা না হলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেন্দ্রীয় বর্জ্যশোধনাগার অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। আগামী জুনের মধ্যে সাভার চামড়া শিল্প এলাকায় কেন্দ্রীয় বর্জ্যশোধনাগার (সিইটিপি) নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। অথচ সেখানে এখন পর্যন্ত কোন ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের উদ্যোগ নেই। ফলে একই সময়ে চামড়া শিল্পের উৎপাদন শুরু এবং একই সময়ে সিইটিপি চালু করা না হলে সিইটিপি অকার্যকর হয়ে পড়বে। এতে দূষণ অব্যাহত থাকবে এবং সিইটিপি নির্মাণে ব্যয়িত বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার পরিবেশ সংগঠন পবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্প মালিকদের ওপর চাপ দিয়ে করে জুনের আগেই শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে, যন্ত্রপাতি স্থাপন ও উৎপাদনে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, এ বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই হাজারীবাগের চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠান সাভারে স্থানান্তরের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হলেও তার কোন বাস্তবায়ন নেই। শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তরের কার্যক্রমও চলছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। ফলে কবেনাগাদ এ শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করা হবে তার কোন সদুত্তর নেই। অথচ সঠিক সময়ে সাভারে চামড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করা না হলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার অকার্যকর হয়ে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে পবার নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান বলেন, সাভার চামড়া শিল্প নগরী এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে এর প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে আলোচনায় জানা যায় যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের লে-আউট অনুমোদন করা হয়েছে। সিইটিপিতে সাধারণত প্রতিদিন ৫ হাজার ঘনমিটার এবং ঈদের সময় ২০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য পরিশোধন করা হবে। ক্রোমিয়াম আলাদাভাবে পরিশোধন করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পুনরায় ব্যবহার করা হবে। সিইটিপি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান যে এ বছর জুন মাসের মধ্যে সিইটিপির নির্মাণসম্পন্ন হবে। এটি একটি বায়োলোজিক্যাল ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। তারা শঙ্কিত যে বর্জ্যরে অভাবে তারা যথাসময়ে সিইটিপি কমিশনিং এ সমস্যায় পড়বেন।

তিনি বলেন, গত ৮ মার্চ সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে ১৫৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতি প্রতিষ্ঠান ৬তলা ভবন নির্মাণের কথা রয়েছে। অথচ সরেজমিনে দেখা গেছে এর মধ্যে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাই হয়েছে। তৃতীয় তলার নির্মাণ কাজ চলছে। ৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রথম তলার ছাদ ঢালাই হয়েছে। ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের পাইলিং সম্পন্ন হয়েছে। ৭৮টির সীমানা দেয়াল দেয়া হয়েছে। ১৪টির সীমানা দেয়াল, গার্ড রুম কিছুই করা হয়নি। ২৫টি কোন সাইন বোর্ড নেই। এর মধ্যে ৮টির সীমানা দেয়াল, গার্ড রুম কিছুই নেই। এ অবস্থায় আগামী জুনের মধ্যে সাভারে চামড়া শিল্প স্থানান্তর করা কঠিন হয়ে পড়বে। যদি সরকারের বেঁধে দেয়া সময়সীমা অনুযায়ী এ বছরের মার্চ মাসের মধ্যে চামড়া শিল্প স্থানান্তরের কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয় সাভার চামড়া শিল্পে স্থানান্তর কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে শিল্প ভবন নির্মাণ, হাজারীবাগ হতে যন্ত্রপাতি স্থানান্তর ও সাভারে তা স্থাপন। বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান, যন্ত্রপাতি ইরেকশন ও কমিশনিং। সিইটিপি নির্মাণ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ একই সঙ্গে সমান্তরালে চলতে হবে যাতে করে একটির জন্য অন্যটিকে বসে থাকতে না হয়। শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তর ত্বরান্বিত করা না হলে সিইটিপির কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং বুড়িগঙ্গা নদী ও ঢাকা মহানগরীতে দূষণের মাত্রা বাড়তেই থাকবে। তাই সরকারের প্রয়োজন শিল্প মালিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা। বিদ্যমান আইনে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাতে তারা দ্রুততম সময়ের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে, যন্ত্রপাতি স্থাপন করে উৎপাদনে যায়।

তিনি বলেন, হাজারীবাগের ট্যানারিসমূহ দীর্ঘ ৬৫ বছর বুড়িগঙ্গা নদী দূষণ করে যাচ্ছে। মৎস্য ও জলজ প্রাণীর বিলুপ্তিসহ বুড়িগঙ্গা একটি মৃত নদী। ট্যানারিসমূহ দৈনিক ২২ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলছে। এছাড়াও প্রতিদিন আনুমানিক ১শ’ মেট্রিক টন কঠিন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। সর্বোচ্চ উৎপাদনকালে এর পরিমাণ প্রায় ২শ’ মেট্রিক টন। এসব বর্জ্যে রয়েছে ক্রোমিয়াম, লেড, সালফিউরিক এসিড, হাইড্রোজেন সালফাইড, ফরমিক এসিড, বিচ, ডাই, তেল, চামড়া প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত অনেক ভারি ধাতু, চুন, পশুর মাংস, দ্রবীভূত চুল, চর্বি, লবণ ইত্যাদি। এসব বিষাক্ত এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্যাদি পানি, বায়ু, মাটি দূষণসহ জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে চলেছে। এ অবস্থায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন শুরু এবং একই সময়ে সিইটিপি চালু করা না হলে সিইটিপি অকার্যকর হয়ে পড়বে। এতে দূষণ অব্যাহত থাকবে এবং সিইটিপি নির্মাণে ব্যয়িত বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হবে। ২০১৫ সালের জুন মাসের মধ্যে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে উৎপাদন শুরু করবে না তাদের প্লট বাতিল করা এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পবার নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, সমন্বয়কারী আতিক মোরশেদ, সহ-সম্পাদক সেলিম, মুসা, পীসের মহাসচিব ইফমা হোসাইন, মডার্ন ক্লাবের সভাপতি আবুল হাসনাত প্রমুখ।

প্রকাশিত : ১৫ মার্চ ২০১৫

১৫/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



ব্রেকিং নিউজ: