আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সংলাপ কার সঙ্গে? ॥ খুনীর সঙ্গে নয়

প্রকাশিত : ১৫ মার্চ ২০১৫
সংলাপ কার সঙ্গে? ॥ খুনীর সঙ্গে নয়
  • পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঙ্কট সমাধানে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সংলাপ প্রস্তুাব আবার নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, কার সঙ্গে সংলাপ? যিনি মানুষ হত্যাকারী, যার হাতে মানুষ পোড়ার গন্ধ, যিনি মানুষকে মানুষ হিসেবে গণ্য করে না- তাঁর (খালেদা জিয়া) সঙ্গে কিসের সংলাপ? জঙ্গী-সন্ত্রাসীদের নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে কে সংলাপ করবে? মানুষ হত্যাকারীর সঙ্গে কোন সংলাপ হতে পারে না।

গ্রেফতারি পরোয়ানা মেনে আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের জন্য খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই তাঁর জন্য ভাল হবে। তাঁর বিরুদ্ধে সমন হয়েছে। তিনি যেন আদালতে গিয়ে সারেন্ডার (আত্মসমর্পণ) করেন। ওটাই তাঁর জায়গা। আত্মসমর্পণ করলে তাঁর জন্যই ভাল হবে। না করলে সরকার আদালতের নির্দেশ পালনে বাধ্য হবে। তাঁর নির্বাচনে না আসার ভুলের খেসারত কেন দেশের জনগণ দেবে? তিনি বলেন, আজ বিএনপির পাশে জনগণ কেন, তাঁর দলের নেতাকর্মীরাও নেই। আন্দোলনের নামে বিএনপি নেত্রী দেশের মানুষকে যেভাবে কষ্ট দিচ্ছেন, তা তাড়াতাড়ি শেষ করতে সরকার থেকে যা যা করার তা করা হবে। দুর্বৃত্তদের হাত থেকে দেশের মানুষকে আমরা মুক্ত করবই। এ ব্যাপারে দেশবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত জাতীয় পেশাজীবী মহাসমাবেশ-২০১৫ তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। ‘বিএনপি-জামায়াত জোটের হরতাল-অবরোধের নামে হত্যা, সন্ত্রাস, নাশকতা, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা এবং জাতীয় উন্নয়ন-অর্থনীতি-শিক্ষা ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ’- এই শিরোনামে আয়োজিত মহাসমাবেশে সারাদেশ থেকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সংলাপ প্রসঙ্গে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন তো উনি (খালেদা জিয়া) সংলাপ সংলাপ বলতে বলতে গলা শুকিয়ে ফেলছেন। অথচ আমি যখন তাঁকে আলোচনার জন্য ফোন করলাম তখন তিনি যে ব্যবহার করলেন, যে ঝাড়ি আমাকে খেতে হলো- সেটা সবাই দেখেছেন। টেলিফোন করলে যে ভদ্রতাটুকু দেখাতে হয়, তাও তিনি দেখাননি। তাঁর ছেলে মারা গেল, আমি দেখতে গেলে গেটই খুললেন না। এখন সংলাপ কী আকাশে হবে? তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, দেশের প্রধানমন্ত্রী। অফিসের গেট বন্ধ করে দিয়ে আমার সঙ্গে যেভাবে ঔদ্ধত্য দেখানো হয়েছে, চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে অনেক কিছুই করতে পারতাম, ব্যবস্থা নিতে পারতাম। কিন্তু তিনি ছেলে হারিয়েছেন, শোকের বাড়িতে গিয়েছি- সেটি ভেবে কিছু করতে চাইনি। তাছাড়া কুকুর কামড়ালে আমি তো আর কুকুরকে কামড় দিতে পারি না।

মহাসমাবেশের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান ‘পাওয়ার প্রেজেনস্টেশনের’ মাধ্যমে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ৫ বছরের দুঃশাসন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন পূর্ব এবং গত ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে ভয়াল তা-ব, নাশকতা এবং মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার তথ্যচিত্র সবার সামনে তুলে ধরেন। এই তথ্যচিত্রে বর্তমান সরকারের গত ৬ বছরের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ও সাফল্যেগুলোও স্থান পায়। পর প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুক্রবার বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যের জবাব দেন।

পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বিচারপতি এএফএম মেসবাহ্উদ্দীনের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন- প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, এ্যাটর্নি জেনারেল এ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সভাপতি কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ নেতা হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম, এ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান প্রমুখ। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিরা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বক্তব্যেকে ‘মিথ্যাচার’ উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি নেত্রীর বক্তৃতার পুরোটাই মিথ্যাচারে ভরা। মিথ্যাচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত এবং ‘উদোর পি-ি বুধোর ঘাড়ে’ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারেন তারা আর দোষ দেন আমাদের। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরও একই রকম মিথ্যাচার তারা করেছিলেন। তিনি হিটলারের কথা বলেছেন। হিটলার-গোয়েবলস আজ যদি বেঁচে থাকত, তবে হয়ত তারাও বিএনপি নেত্রীর মিথ্যাচার শুনে লজ্জা পেতেন। আর মিথ্যাচার বিএনপির জন্মগত অভ্যাস।

‘বর্তমান সরকার ও নির্বাচন বৈধ নয়’- খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের সিদ্ধান্তেই বিএনপি নেত্রী ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছেন। নির্বাচনে না আসায় এখন এ নির্বাচন ও সংসদ তাঁর দৃষ্টিতে বৈধ নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি সম্প্রতি সিপিএ ও আইপিউ নির্বাচনে বাংলাদেশের দুই প্রার্থীর বিজয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত ওই দুই সংস্থার সর্বোচ্চ পদে সরাসরি নির্বাচনে সারাবিশ্বের সংসদের স্পীকার ও সংসদ সদস্যরা বাংলাদেশের দুই প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। আমাদের দুই প্রার্থীকে বিজয়ী করে সারাবিশ্বই আমাদের নির্বাচন এবং বর্তমান দশম জাতীয় সংসদকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। একসঙ্গে দুই সংস্থায় প্রার্থী দিয়ে বিজয়ী হলে বাংলাদেশ এক্ষেত্রে একটি বিরল ইতিহাসও সৃষ্টি করেছে।

বিএনপির জন্মই অবৈধ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, অবৈধ তিনি বলতেই পারেন, কেননা তাঁর দল বিএনপির জš§ই তো অবৈধ। জিয়াউর রহমান সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বিএনপি গঠন করেন। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর গড়ে তোলা দলও তো অবৈধই হবে। আর ভয়াল নাশকতার মধ্যেও ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেশের ৪০ ভাগ জনগণ ভোট দিয়েছে। ৪০ ভাগ ভোটের নির্বাচনকে বিএনপি নেত্রী অবৈধ বলছেন! অথচ বিএনপি নেত্রী আয়নায় নিজের চেহারা দেখলেই বুঝতে পারবেন তাঁর দলটাই অবৈধ।

বিএনপি নেত্রীর কথা কেউ শুনে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আন্দোলন ও হরতাল-অবরোধে জনগণ সাড়া দিচ্ছে না। তাঁর দলের নেতারাই এ অবরোধ-হরতাল মানছেন না। বিএনপি নেতাদের গাড়ি, মিল-কলকারখানা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান সব ঠিকমতোই চলছে। আর তিনি নিজেই নিজেকে অবরুদ্ধ করে অফিসে বসে স্বপ্নে বিভোর হয়ে হয়ে আছেন। মনে করছেন কেউ কিছু করবে। কিন্তু উত্তর-পশ্চিম থেকে কেউ-ই আসছে না। আর সাংবাদিক সম্মেলনে উনার বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে, যারা তাঁকে বুদ্ধি দিচ্ছেন, তাঁরাই যেন তাঁর মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন যে, হরতাল-অবরোধের নামে মানুষকে পুড়িয়ে তিনি মহাকাজ করছেন। আর সেই মহাকাজটি হচ্ছে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করা।

কথিত ‘নিখোঁজ’ বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘গভীর আন্ডারগ্রাউন্ড’-এ থেকে প্রতিদিনই বিবৃতি দিয়ে একের পর এক হরতাল ডেকে যাচ্ছিলেন। সবাই জানে তিনি বিএনপি নেত্রীর গুলশানের কার্যালয় থেকেই বিবৃতি দিচ্ছিলেন। যেদিন খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে গেলাম, সেদিনও জানলাম সালাহউদ্দিন সেখানেই আছেন। অথচ সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়া বললেন তাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! উনার দলের যুগ্মমহাসচিব কোথায় গেলেন, তাঁর জবাব আমরা কিভাবে দেব!

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন নাকি খালেদা জিয়ার অফিস থেকে আট বস্তা ময়লা-আবর্জনা বের করেছে। এখন খালেদা জিয়া ওই আট বস্তা ময়লার সঙ্গে সালাহউদ্দিনকে কোথাও পাচার করে দিয়েছেন কিনা- কে জানে! গ্রেফতারের জন্য সালাহউদ্দিনকে তো আমরাও খুঁজছি। পুলিশ তাঁকে পেলেই গ্রেফতার করবে। তিনি কোথায় আছেন, তার জবাব তো খালেদা জিয়াকেই দিতে হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রীর বক্তৃতায় পেট্রোলবোমায় নিহতদের জন্য কোন সহানুভূতি না থাকলেও তাঁর দলের ‘নির্যাতিত’ নেতাকর্মীদের কথা ছিল। যারা পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করছে, জ্বালাও-পোড়াও করছেÑ তাদেরই তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন, মানুষ হত্যাকারীদের বড় করে দেখেছেন। কথায় কথায় বলেন, তারা নাকি তিনবার ক্ষমতায় ছিলেন। যারা ক্ষমতায় থাকে, দেশের মানুষের জন্য কি তাদের কোন দায়বোধ থাকবে না? ‘দেশের গণমাধ্যম স্বাধীন নয়, নিয়ন্ত্রিত’- খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, মিডিয়া স্বাধীন না থাকলে তাঁর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা কিভাবে গেলেন? এতগুলো টিভি চ্যানেল কিভাবে সরাসরি তাঁর বক্তব্যে সম্প্রচার করতে পারল?

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নেত্রীর বিচার বিভাগের প্রতিও ন্যূনতম শ্রদ্ধা নেই। তিনি আইন-আদালত, বিচার কিছুই মানেন না। এ কারণেই তিনি দুর্নীতি মামলায় ৬৭ দিনের মধ্যে মাত্র ৭ দিন হাজিরা দিয়েছেন। সর্বশেষ ক্যাডারবাহিনী নিয়ে হাজিরা দিতে গেছেন বিচারকদের ভয় দেখাতে। তিনি বলেন, এতটুকু আত্মবিশ্বাস থাকলে তিনি যেন আদালতে গিয়ে সারেন্ডার করেন। যারা সরকারপ্রধান ছিলেন তারাই যদি আইন-আদালত না মানেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কিভাবে মানতে চাইবে? তবে আইন-আদালত ও বিচার নিজস্ব গতিতেই চলবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সবকিছুতেই সরকারের ব্যর্থতা দেখেন। আওয়ামী লীগ কোথায় ব্যর্থ? উনার মতো যদি দুর্নীতি করে অর্থ কামাতাম, ছেলেদের লেখাপড়া না শিখিয়ে চোর বানাতাম, হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতি করে বিদেশে অর্থ পাচার করা শেখাতাম- তাহলেই বোধহয় সফল হতাম! হয়ত এক্ষেত্রে আমরা সত্যিই ব্যর্থ।

বিএনপি নেত্রীর আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। উনি যত চেষ্টাই করুন না কেন, তিনি যে সফলতা পাবেন না- সেটি জনগণও বুঝে গেছে। আর তিনি যাদের মুখাপেক্ষী হয়েছিলেন তাদের কেউ আসেওনি। না উত্তর, না পশ্চিম। তারাও বলে দিয়েছেন, জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস কেউ পছন্দ করছেন না। তাই খালেদা জিয়াকে বলি, নিজেরা জনগণের কল্যাণ করতে পারেন না কিন্তু জনগণের অকল্যাণ করার অধিকারও আপনার নেই। জনগণ সেটা মেনেও নেবে না। তাই যা করবেন, বুঝেশুনে করবেন।

সজীব ওয়াজেদকে অপহরণে এফবিআইকে ঘুষ প্রদানের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থেকে এরা (বিএনপি ও জামায়াত) এতই অর্থ কামিয়েছে, বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইকে পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘুষ দিয়েছে। এফবিআই থেকেই বলা হয়েছে, বিএনপির হাইকমান্ড থেকে এই ঘুষের টাকা দেয়া হয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে কী পরিমাণ টাকা উপার্জন করলে অপহরণ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে এফবিআইকে ঘুষ দেয়া সম্ভব? তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত, ২১ আগস্ট তাঁর স্ত্রী গ্রেনেড মেরে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, এখন জয়কে টার্গেট করা হয়েছে। আমাদের অপরাধটা কী?

সরকারের ছয় বছরের উন্নয়ন ও সফলতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই দেশের উন্নতি করেছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। আমরাই দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করতে পারব।

সভাপতির বক্তব্যে বিচারপতি এএফএম মেজবাহউদ্দীন হত্যাকারীদের সঙ্গে কোন ধরনের সংলাপ না করার জন্য পেশাজীবীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, আইনের ভাষায় বিএনপি নেত্রী এখন ফেরারি আসামি। উনি মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে গণতন্ত্রের কথা বলেন। প্রতিটি হত্যাকা-ের দায় বিএনপি নেত্রীর। আর মানুষ হত্যাকারীদের সঙ্গে কেউ সংলাপ করতে পারে না, হতেও পারে না।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, রাজনীতির নামে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া গোটা দেশকে রক্তাক্ত করছেন। জঙ্গী-সন্ত্রাসী ও নাশকতার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সাংবাদিক সম্মেলনের নামে মিথ্যা বিবৃতি পাঠ করে জনগণের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, গোলাম আযম আর খালেদা জিয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। একাত্তরে গোলাম আযম হুকুম দিয়ে গণহত্যা চালিয়েছেন, খালেদা জিয়া আজ ঠিক সেই কাজটিই করছেন। জনগণকে পুড়িয়ে হত্যা করে সংলাপের কথা মানায় না।

উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এখন সত্যের সঙ্গে মিথ্যা, ন্যায়ের সঙ্গে অন্যায় এবং আলোর সঙ্গে অন্ধকারের সংঘাত চলছে। মানুষকে হত্যা করে, ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা জীবনকে জিম্মি করে এবং উন্নয়ন-সমৃদ্ধির চাকাকে স্তব্ধ করে দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশকে আবারও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল শক্তিকে আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

প্রকাশিত : ১৫ মার্চ ২০১৫

১৫/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: