কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঢাকার চার নদীতে ভুল সীমানা পিলার সরানো হচ্ছে না

প্রকাশিত : ১৪ মার্চ ২০১৫
ঢাকার চার নদীতে ভুল সীমানা পিলার  সরানো হচ্ছে না
  • হাইকোর্টের রায়ের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আদালতের বারবার নির্দেশনার পরও ঢাকার চার নদীতে ভুলভাবে স্থাপিত সীমানা পিলার অপসারণের কোন উদ্যোগ নেই। ফলে হাইকোর্টের রায়েরও কোন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নদীর সীমানা থেকে পিলার অপসারণের কোন পদক্ষেপ না থাকায় অনেক দখলদার ভুল সীমানা পিলারকেও সরিয়ে নদী দখলের মচ্ছবে নেমেছে দখলকারীরা।

পরিবেশ সংগঠন বাপার এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে তুরাগ নদীর সীমানা চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের পোঁতা প্রায় হাজার দুয়েক খুঁটির মধ্যে মাত্র ২৯টি সঠিক স্থানে ও বাকি সবগুলো নদীর সীমানার ভেতরে বসানো হয়েছে। বর্তমানে এসব সীমানা পিলার অযত্নে, অবহেলায় বিপর্যস্ত-আংশিক বা পুরো ভাঙ্গা, অনেকগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। পরিবেশ বিষেজ্ঞরা বলছেন, ভুল পিলার অপসারিত না হলে এই উদাহরণ টেনে দেশের অন্যান্য নদীসমূহকে একই প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করা হবে। তাই দেশ ও জনগণের বৃহত্তর কল্যাণ নিশ্চিত করতে নদী রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু বর্তমানের সঠিক স্থানের পিলার স্থাপন না করায় দখলের মহোৎসব চলতে দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকাকে বাঁচাতে হলে তুরাগসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে অবিলম্বে রক্ষা করতে হবে। তাই আর বিলম্ব না করে সকল কিছুর উর্ধে উঠে নদীগুলোকে রক্ষা করার জন্য সবার আগে সরকারকে জরুরী পদক্ষেপ নিতে হবে। নদীর প্রতি অবহেলার জন্য পৃথিবীর অনেক সভ্যতা বিলুপ্ত হয়েছে। তুরাগ-বুড়িগঙ্গা ধ্বংস হলে ঢাকা শহরও ধ্বংস হবে। নান্দনিক সৌন্দর্য, ফসল, মৎস্য সম্পদ, নৌ-পরিবহন, জনমানুষের জীবন-জীবিকা, আবাসন ও সু-স্বাস্থ্যের জন্য ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে রক্ষা করতেই হবে।

২০০৯ সনে মহামান্য হাইকোর্ট নদী রক্ষায় যুগান্তকারী রায় প্রদানের পর ভূমি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে নদীর সীমানা পিলার বসানোর নির্দেশ দেয়। আদালতের রায় অমান্য করে ভুলভাবে পিলার স্থাপন চলতে থাকায় বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ ওঠে। এ প্রতিবাদের ফলে এক পর্যায়ে নদী বিষয়ক টাস্কফোর্স সীমানা পিলার স্থাপন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়। বিভিন্ন সময়ে গঠিত হয় কয়েকটি তদন্ত কমিটিও।

শুক্রবার পরিবেশ সংগঠন বাপার সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সকল পিলারই নদীর পাড়ের ভেতরে বা ফোরশোরে নদীতটে বসানো হয়েছে। অনেকস্থানে ফোরশোরের ভেতরে বা একেবারে নদীর তলের পানির পাশে পিলার বসানো হয়েছে। ফলে হাইকোর্টের রায় মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। নদীর জমি দখলদারদের বেআইনী দখলিস্বত্বের পরোক্ষভাবে বৈধতা দেয়া হচ্ছে। হাইকোর্টের রায়ের মূল কথাটি বাস্তবায়নে না যেয়ে টাস্কফোর্স নানাবিধ প্রশাসনিক কমিটি, পরিদর্শন টিম ইত্যাদি করে সময় নষ্ট করেছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে দখলদারদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করে সঠিক তালিকা ও সুপারিশ সরকার গঠিত টাস্কফোর্সের নিকট জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও টাস্কফোর্স দখলদারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

প্রকাশিত : ১৪ মার্চ ২০১৫

১৪/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: