কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ঋতু বদলের ছোঁয়া

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ ২০১৫
  • শাফায়েত রেজা অন্তু

প্রকৃতিতে চলছে ঋতু বদলের তোড়জোর। শান্ত নিটোল নিসর্গ ক্রমশ ধারণ করেছে বসন্তের উষ্ণতা। এই উষ্ণতায় স্বভাবতই পাল্টে যাবে জীবন ধারা।

আগে-ভাগেই এ সকল অনুষঙ্গ নিত্যদিনের দরকারী বিষয় হিসেবে জায়গা করে নেবে। পাশাপাশি সাজগোজ, প্রসাধনী ব্যবহারেও আসবে চেঞ্জ। ঋতু বৈচিত্র্যের এই বাংলায় অনাদিকাল ধরে বছরজুড়েই চলে, ঋতুর সঙ্গে মানিয়ে চলার নানা রকম পূর্ব প্রস্তুতি।

চলতি বসন্তে চলছে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলার আয়োজন। তবে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে বর্ণিল ও ক্যাজুয়াল কিংবা স্বস্তিদায়ক পোশাকের ব্যবহারের বিষয়টা। নগরজীবনে তো বটেই। এমনকি গ্রামে-গঞ্জেও বসন্ত রাঙা আরামপ্রদ পোশাক পরিধানের আয়োজন যেন এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। বিশেষ করে নগরজীবনে একটু অন্যরকমভাবে বসন্তে কী কী ধরনের ফ্যাশনেবল এবং ক্যাজুয়াল পোশাক পরা যায় তার প্রস্তুতিটা প্রতিবছরই প্রত্যক্ষ করা যায়। তবে বিষয়টা লক্ষণীয় তা হলো ফ্যাশনট্রেডে পোশাকের ডিজাইন, আঙ্গিকের রূপবদল। মধ্য বসন্তেও চলছে তেমনি আয়োজন। ফ্যাশন হাউসগুলো একটু নতুন মাত্রায় ড্রেসে বৈচিত্র্যপূর্ণ ডিজাইনকে উৎকীর্ণ করেছে ক্রেতার পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে। বসন্তকালীন পোশাকের উজ্জ্বলতায় আলোকিত হয়ে উঠেছে ঢাকার বিভিন্ন শপিংজোনের দেশীয় ফেব্রিক দিয়ে তৈরি ফ্যাশনেবল ড্রেস কালেক্ট করা আউটলেটগুলো। এই বসন্তেও শাহবাগের আজিজ মার্কেটে তরুণ-তরুণীদের আসা-যাওয়াটা বেড়েছে আগের তুলনায় একটু বেশি। কেননা আজিজ মার্কেট থেকে বিভিন্ন ধরনের ফ্যাশনেবল টিশার্ট সংগ্রহ করা যায় সহনীয় দামে। যা ক্যাজুয়ালটিকে নন্দিতরূপে ফোকাস করে। এছাড়া অফিস ইউনিভার্সিটি এবং ঘরোয়া পরিবেশে মহিলাদের একটু স্বস্তিদায়ক শাড়ি কিংবা থ্রি-পিস হলে ভীষণ স্বস্তিতে থাকেন তাঁরা। তাই মহিলারাও ছুটছেন তাঁতের শাড়ির আউটলেটগুলোতে। যেহেতু টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়িটা বেইলি রোডে একটু বেশি পাওয়া যায়। তাই বেইলি রোডে তাঁদের যেমন যাওয়া-আসাটা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি অন্যান্য শপিং জোনের শাড়ির শোরুম থেকেও তাঁতের সুতি শাড়ি সংগ্রহ করছেন তাঁরা। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির দামটা নাগালের মধ্যে বলে এই সময়ে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির চাহিদা বেড়েও যায় বহুগুণ। এতো গেল টিশার্ট শাড়ির গল্প। এর সঙ্গে সুতির ফতুয়া কুর্তা পাঞ্জাবি শার্টসহ যে কোন আরামদায়ক ড্রেস বসন্তকালীন গরমে সবার কাছেই বেশ প্রিয়। তবে নগরজীবনে ফতুয়া, কুর্তা, পাঞ্জাবি, শার্টেও এসেছে ফ্যাশনের নান্দনিক ছোঁয়া। যা পরলে একজন ফ্যাশন সচেতন মানুষকে দারুণভাবে উৎফুল্ল করে।

বসন্তের সুতির ড্রেস তার দামও মোটামুটি নাগালের মধ্যেই স্থির থাকে। সুতির ফতুয়া ৪০০ থেকে ১০০০, কুর্তা ৩০০-৬০০, টিশার্ট ২০০ থেকে ৪০০, থ্রি-পিস -৮০০ থেকে ২০০০, শার্ট ৬০০ থেকে ১২০০, পাঞ্জাবি ৮০০ থেকে ২০০০, টাঙ্গাইলের পাকা রঙের বাসবুননের তাঁতের শাড়ি ৭০০ থেকে ১৫০০, প্রিন্টের সুতি শাড়ি ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে সংগ্রহ করা যাবে। সব মিলিয়ে বসন্তের এই প্রহরে এক ভিন্ন আর ফুরফুরে আমেজের সঙ্গে মানিয়েই পরিধান করবেন তার পছন্দের পোশাক।

তবে রংটা হবে অবশ্যই হলুদ বাসন্তী মাখা আর অসম্ভব কালারফুল। না হলে স প্রস্তুতিটাই হয়ে পড়বে পানসে। তাই পোশাকে হলুদ বাসন্তীর ফ্লেবার যেমন থাকবে। সেইসঙ্গে লালের কনস্ট্রাস্ট না থকালে বসন্তের আবহটা পোশাকে শৈল্পিকভাবে ফুটবে? আর সেদিকে লক্ষ্য রেখেই শাড়ি, পাঞ্জাবি, কুর্তা, ফতুয়া, শার্ট, টিশার্ট বসন্তের ইমেজকে ফিউশন মাখা করে তুলতে ডিজাইনেরও ভিন্ন ডাইমেনশান ড্রেসে পাঞ্চ করবেন নতুন ফর্মে। যেন বসন্তের সামগ্রিক ছবিটা ড্রেসে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে আর চুজি এবং ফ্যাশনেবল যে কেউ এই বসন্তের অবগাহনে ভিজে হয়ে উঠতে পারে যেন বিসিক্ত। সেটিও এক অভিষ্মিত বিষয়। শীতের পরে প্রকৃতির এই রূপবদলের অনুষঙ্গকে সামনে রেখেই না গরম না শীতের এক অনিন্দ্র্যমুখর সময়ের ধারায় স্নাত হয়ে উঠবে। আর বসন্ত মানেই তো মন কেমন করা রঙিন আমেজ যার ছোঁয়া লেগেছে ফ্যাশন ধারায়।

মডেল : মিম, নয়ন ও সুজন

পোশাক : নকশা

শার্ট : ইজি

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ ২০১৫

১৩/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: