কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নারীর ক্ষমতায়নে অন্যতম প্রধান বাধা দুর্নীতি

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ ২০১৫
  • টিআইবির সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের পথে অন্যতম প্রধান বাধা হচ্ছে দুর্নীতি। বর্তমানে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে। এর ফলে যারা দুর্নীতি করেন তারা বিচারের আওতায় আসেন না বা এলেও সঠিক বিচার হয় না। সেটারই এক ধরনের প্রভাব নারীর ওপর পড়ে, ফলে নারী যে কেবল দুর্নীতির শিকার হচ্ছে তা নয় বরং সে দুর্নীতি মেনে নিচ্ছে, দুর্নীতির কারণে বঞ্চিত হচ্ছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে নিজেরাও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) রাজধানীর ধানম-ির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ সব কথা বলেন।

সম্মেলনে “নারীর অভিজ্ঞতায় দুর্নীতি : বাংলাদেশের ২টি ইউনিয়নের চিত্র” শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে নারীর ওপর দুর্নীতির প্রভাব নির্ণয়ে বহুমাত্রিক গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নারীর উন্নয়নে ও ক্ষমতায়নের বাধা উত্তরণে সংস্থাটির পক্ষ থেকে ৮ দফা সুপারিশ করা হয়। গবেষণার জন্য টিআইবি ২০১৩ সালের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জামালপুর ও গাজীপুর জেলার দুইটি ইউনিয়ন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। গবেষণা অনুযায়ী নারীর ওপর দুর্নীতির প্রভাব নিয়ন্ত্রণে টিআইবির উল্লেখযোগ্য সুপারিশ হচ্ছে দুর্নীতির সঙ্গে নারীদের সম্পৃক্ততা আরও ভালভাবে বোঝার জন্য, বিশেষ করে শহরাঞ্চলের চিত্র, দুর্নীতির সংগঠক হিসেবে নারীদের সম্পৃক্ততার কারণ, দুর্নীতির অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের পার্থক্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে আরও বিস্তারিত গবেষণা করা, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ ও এর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা কার্যকর করা। বিশেষ করে নারীর দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মক্ষেত্রসহ সব ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা বিধান, আর্থ-সামাজিক কর্মকা-ে নারীর পূর্ণ ও সম-অংশগ্রহণ, এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়ন, ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্যদের সমতাভিত্তিক ও আনুপাতিক কাজের পরিধি নির্দিষ্ট করা, প্রযোজ্য খাতে/ প্রতিষ্ঠানে ওয়ান স্টপ সেবা’র প্রচলন, যে সব প্রতিষ্ঠানে নারীরা সেবা নিতে যান সে সব প্রতিষ্ঠানের সেবা, বিশেষ করে নারীদের জন্য প্রদত্ত সেবা সম্পর্কে জেন্ডার সংবেদনশীল পদ্ধতিতে তথ্য প্রচার এবং নারীদের তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা, ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারীদের জন্য প্রদত্ত বিশেষ সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তদারকি বাড়ানো। গবেষণায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তদারকি বাড়ানোর জোর সুপারিশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, যারা সংখ্যালঘু নারী তারা দ্বিমাত্রিক, ত্রিমাত্রিক নানা পর্যায়ে নানা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। নারী যে অবস্থানেই থাকুক না কেন তার অধিকারের সম্মানজনক স্বীকৃতি দিতে হবে। যারা ক্ষমতায় যান তারা ভুলে যান ক্ষমতার সঙ্গে মর্যাদার সম্পর্কের কথা সেজন্যই ক্ষমতার অপব্যবহার হয়।

গবেষণায় তুলে ধরা হয়, নারীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুর্নীতির অভিজ্ঞতা লাভ করে। এর মধ্যে দুর্নীতির শিকার, সংঘটক ও মাধ্যম হিসেবে নারীর সঙ্গে দুর্নীতির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা (পুলিশ), এনজিও, বিচারিক সেবা, ভূমি, ব্যাংক, পল্লী বিদ্যুৎসহ ইত্যাদি সেবাখাতে সেবা নিতে গিয়ে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত অর্থ জোর করে আদায়, প্রতারণা, স্বজনপ্রীতি ও দায়িত্বে অবহেলার মত দুর্নীতির শিকার হয়ে থাকে নারীরা।

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ ২০১৫

১৩/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: