মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

যথাসময়েই পরোয়ানা কার্যকর হবে ॥ আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১২ মার্চ ২০১৫

সংসদ রিপোর্টার ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং গ্রেফতার ইস্যু নিয়ে সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, একজন নেত্রীর গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে গ্রেফতার বা আইনের প্রয়োগ আমার মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। আমার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আইন বানানো আর আইন প্রয়োগ করার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তবে গ্রেফতারি পরোয়ানা যথাসময়েই কার্যকর হবে, কেউ আইনের উর্ধে নন।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারী দলের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রশ্নকর্তা মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, আইন সবার জন্য সমান। একজন নিরাপরাধ মানুষকেও অনেক সময় মাজায় রশি বেঁধে টেনে নেয়া হয়, কিন্তু একজন নেত্রী যিনি দুইবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরও কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না? তাই মন্ত্রীর কাছে জানতে চাই তাঁর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না?

জবাবে মন্ত্রী আনিসুল হক জানান, একজন নেত্রীর কথা বলেছেন। কিন্তু প্রশ্নটি আমার মন্ত্রণালয় না করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে করলে এর ভাল জবাব পাওয়া যেত। এছাড়া সংসদে একটু আগেই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। তাই আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়ার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজের এবং অন্যান্য ট্রাইব্যুনালে ১৮ বিচারের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে জেলা ও দায়রা জজ ছয়টি, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ একটি, বিশেষ জজ দুটি, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে একটি, জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুটি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৬টি বিচারকের পদ শূন্য রয়েছে। উক্ত শূন্য পদগুলো বদলীয়/পদোন্নতিমূলে দ্রুতই পূরণ করা হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সিভিল প্রসিডিউর কোড ১৯০৮-এর আদেশ ১৮-এর বিধি ১৯ অনুযায়ী চূড়ান্ত শুনানি শুরুর ১২০ দিনের মধ্যে বিচারক দেওয়ানী মামলা নিষ্পত্তি করবেন। এছাড়া কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৮৯৮-এর সেকশন ৩৩৯ সি-এর বিধান অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট ১৮০ দিনের মধ্যে এবং দায়রা জজ ৩৬০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য শেষ করবেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২০ (৩)-এর বিধান অনুযায়ী বিচারের জন্য মামলা প্রাপ্তির তারিখ হতে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচারক বিচারকার্য সমাপ্ত করবেন। এরপরও যে সব আইনে বিচারকার্য সম্পন্ন করার সময়সীমা সুনির্দিষ্ট করা হয়নি সে সকল ক্ষেত্রের মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তিকল্পে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন আছে।

হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, পিপি ও জিপি উভয় ক্ষেত্রে বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৬০ বছর ও ১০ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং অতিরিক্ত পিপি, জিপি, এপিপি ও এজিপির ক্ষেত্রে ৫ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতার বিধান রয়েছে। পিপি, জিপি নিয়োগের পূর্বে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়। বর্তমান সরকার পিপি, জিপি নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা এবং পরামর্শ গ্রহণপূর্বক নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে থাকে।

প্রকাশিত : ১২ মার্চ ২০১৫

১২/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: