কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সেলুলয়েডের ফ্রেমে মুক্তিযুদ্ধ

প্রকাশিত : ১২ মার্চ ২০১৫

মহান মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ নয় মাসে বাঙালীর দু’লক্ষাধিক মা-বোনের সম্ভ্রম, ত্রিশ লাখ শহীদের বুকের তাজা রক্ত, সম্পদ

কেড়ে নিলেও প্রতিদান হিসেবে দিয়েছে মাথা উঁচু করে বিশ্ববাসীর কাছে বাঁচার অধিকার। দিয়েছে একটি মানচিত্র।

আমাদের রূপালী পর্দায় ফুটে উঠেছে স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই সব নিদারুণ চিত্র, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম শ্রদ্ধাভরে

স্মরণ করেছে এবং করবে। এই সব চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে আজকের ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’র পেছনের

গল্প। দেশীয় চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধের সেসব গল্পের ইতিবৃত্ত নিয়ে জনকণ্ঠের বিশেষ

আয়োজনে লিখেছেন ইমতিয়াজ মেহেদী হাসান

মূল ফিচার

অগ্নিগর্ভ ১৯৭১। বুলেট, বেয়নেট আর বিদেশী সব মারণাস্ত্রের গর্জন উপেক্ষা করে দেশমাতৃকার মুখে হাসি ফোটাতে বাঙালী জাতি একসূত্রে গাঁথা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ৭ মার্চের তেজোদীপ্ত ভাষণ আর আলতাফ-গাফ্ফারদের মুক্তির গানে উত্তাল দেশ। সবার মুখে, অন্তরে, চোখে একটাই ভাষা। মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো। যুদ্ধ করব। পরাধীনতার ব্যারিকেড ভেঙে ছিনিয়ে আনব বিজয়ের রক্তিম সূর্য। ওদের চেষ্টা বিফলে যায়নি। যার প্রতিচ্ছবি আজকের এই স্বাধীন, লাল-সবুজের বাংলাদেশ। নয় মাস স্থায়ী হওয়া এ যুদ্ধের অবিনাশী চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে নির্মাতামহল অদ্যাবধি নির্মাণ করেছেন বেশ কিছু প্রামাণ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পুর্নদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। যেগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে হয়ে থেকে যাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে, সুমহান মর্যাদায়।

নিরামিষ হওয়া স্বত্ত্বেও চলচ্চিত্রমোদি নয়, এমন সংখ্যা নেহাতই হ্যালির ধূমকেতুর মতোই নগণ্য। আর মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র হলে তো কথাই নাই। কারণ, পাঠ্যপুস্তক কিংবা ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে যতটা না মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্তরালে প্রবেশ করা যায়, তার থেকে খুব কম সময়ে খুব সহজেই ডুবুরীবেশে প্রবেশ করা যায় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। আর এটা সম্ভবপর হয়, কেবল নির্মাতাদের বদৌলতেই। তৎকালীন সময়কার বাস্তব চিত্রের আদলে চিত্রনাট্য রচনা করে যথাযথ শিল্পী নির্বাচনের মাধ্যমে দৃশ্যায়ন আর সুষ্ঠু সম্পাদনের মাধ্যমে তা চলচ্চিত্রাকারে দর্শকদের মাঝে পৌঁছে দেয় গুণী এই মহলটাই। সুতরাং, মুঠোভর্তি সাধুবাদ আর শুভকামনা, শুধু তাঁদেরই প্রাপ্য। লাইট, ক্যামেরা, এ্যাকশন, কাট সিনেমাপাড়ার চিরায়ত গলির পরিচিত সব শব্দ। নির্মাতামহল হর-হামেশাই কথাগুলো বলেছেন, বলে যাচ্ছেন। হয়ত যাবেনও। কারণ, চিত্রনাট্যের সফল রূপায়নের জন্য এগুলোর দরকার আছে। কিন্তু একটা প্রশ্নবোধক প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। সব সিনেমার কি সফল চিত্রায়ন হয়? উত্তর নিঃসন্দেহে একটাই। না হয় না। কারণ, মনের মতো জিনিস সহজে মেলে না। তবুও চিত্রনাট্য লেখা হয়, দৃশ্যায়ন, সম্পাদন শেষে সেটি চলচ্চিত্রেও রূপ নেয়। এভাবেই চলে আসছে। চলছে। চলবে। এরই মাঝে কিছু সৃষ্টি মানুষের মনে জায়গা করে নেয়, যেমনটি করে নিয়েছে বাঙালীর হাজার হাজার বছরের সেরা অর্জন ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নিয়ে আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্রে নির্মিত হওয়া গেল ৪৩ বছরের বেশ কিছু চলচ্চিত্র।

জীবন থেকে নেয়া ঃ জহির রায়হান পরিচালিত ‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমাটিতে জহির রায়হান তৎকালীন বাঙালী স্বাধীনতা আন্দোলনকে চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। সিনেমাটিতে একইসঙ্গে দুটি সমান্তরাল কাহিনী চলতে থাকে। ঘরের বাইরে যেমন দেখা যায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তেমনই ঘরের ভেতরে চলতে থাকে পরিবারের সদস্যদের ওপর গৃহকর্ত্রীর অত্যাচার। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি জহির রায়হান একুশের প্রভাতফেরি থেকে সরাসরি ধারণ করেন। আর প্রথমবারের মতো ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটিও কোন সিনেমায় দেখানো হয়। ‘এ খাঁচা ভাঙ্গব আমি কেমন করে’ এই সিনেমার আরেকটি জনপ্রিয় গান।

ওরা ১১ জন : চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘ওরা ১১ জন’ আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত। স্বাধীনতার পরে নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র এটি। মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি পটভূমি ও এ্যাকশন নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্র বাঙালীর মরণপণ মুক্তি সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে। ছবিটিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেন ১১ মুক্তিযোদ্ধা। যাঁরা পেশাদার শিল্পী ছিলেন না। তাঁরা হলেন খসরু, মঞ্জু, হেলাল, ওলীন, আবু, আতা, নান্টু, বেবী, আলতাফ, মুরাদ ও ফিরোজ। ১১ দফার ছাত্র আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরকে মাথায় রেখে প্রতীকী অর্থে এ চলচ্চিত্রের নামকরণ করা হয় ‘ওরা ১১ জন’। চলচ্চিত্রের শুরুতে টাইটেলে ৬টি কামানের গোলার শব্দ শোনা যায়। নির্মাতার মতে, এ ছয়টি শব্দ হচ্ছে ৬ দফা দাবির প্রতীকী শব্দ। এই চলচ্চিত্রে যে অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ ব্যবহার হয়েছিল সবই ছিল সত্যিকারের। ‘ওরা ১১ জন’ মস্কো, ইংল্যান্ড, জামশেদপুর, রাঁচী, কলকাতা ও বোম্বেতে প্রদর্শিত হয়েছিল। বলিউডের প্রখ্যাত নির্মাতা রাজকাপুর চলচ্চিত্রটি দেখে নির্মাতাকে প্রশ্ন করেছিলেন ‘হাউ ইট পসিবল’, সদ্য স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন জীবন্ত চলচ্চিত্র নির্মাণ কিভাবে সম্ভব। তিনি বলেন, বলিউডে আমরা এ ধরনের বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে সাহস পাইনি। এ চলচ্চিত্রের প্রযোজক মাসুদ পারভেজ (অভিনেতা সোহেল রানা) বলেন, ‘এটি আসলে শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিলও বটে।’

আগুনের পরশমণি : ১৯৯৪ সালে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নিজের লেখা গল্পে নির্মাণ করলেন ‘আগুনের পরশমণি’। যুদ্ধকালীন একটি পরিবারের দুঃখ, ভয় ও প্রাপ্তির স্বপ্নঘেরা গল্পে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল চলচ্চিত্রটি। ঢাকায় বসবাস করা নিতান্ত সাধারণ একটি পরিবার। পরিবারের কর্তা পাকবাহিনীর ভয়ে তটস্থ থাকলেও তার স্ত্রী ও কন্যা মুক্তিযোদ্ধা জেনেও এক যুবককে তাদের বাড়িতে আশ্রয় দেয়। সহযোগিতা করে। এক সময় সেই যুবকের প্রতি কন্যাটি দুর্বল হয়ে পড়ে। যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু এবং স্বাধীনতার সূর্য উদয়ের মধ্য দিয়ে গল্পের সমাপ্তি ঘটে। এর প্রধান অভিনয়শিল্পীরা হলেন আবুল হায়াত, ডলি জহুর, বিপাশা হায়াত, আসাদুজ্জামান নূর প্রমুখ। ১৯৯৪ সালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে ‘আগুনের পরশমণি’।

হাঙর নদী গ্রেনেড : প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের গল্প অবলম্বনে ১৯৯৭ সালে চাষী নজরুল ইসলাম নির্মাণ করেন ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক স্নেহময়ী মা মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলেকে নির্দ্বিধায় তুলে দেন পাক সেনাদের হাতে। তারা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। মা নিজের পুত্রের চেয়েও দেশকে বড় করে দেখেছিলেন। এমন মর্মস্পর্শী ত্যাগের গল্পের এই চলচ্চিত্রটি শুধু প্রশংসাই পায়নি, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লাভ করে। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন সোহেল রানা, সূচরিতাসহ অনেকে।

আলোর মিছিল : দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশে কী ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল তারই এক বাস্তবচিত্র হলো এই ‘আলোর মিছিল’। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশে শ্রেণীবৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করে। ধনীরা আরও ধনী এবং দরিদ্ররা আরও যেন দরিদ্র হতে শুরু করে। গুটিকতক মুক্তিযোদ্ধা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত যুবক মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে নেমে পড়ে।

শ্যামল ছায়া : ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রের পরিচালক প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। ১৯৭১ সালের মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। সারাদেশে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে বেড়াতে থাকে। এমনই একদল আশ্রয়সন্ধানীর পলায়নের কাহিনী নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে। এক দল লোক একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে নিরাপদ গন্তব্যের পানে ছুটছে যদিও তারা নিশ্চিত নয়, নিরাপত্তা কোথায় পাওয়া যাবে। ২০০৬ সালে ছবিটি ‘সেরা বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র’ বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। ছবির বিশেষত্ব হচ্ছে, সরাসরি যুদ্ধের দৃশ্য না দেখিয়েও এতে যুদ্ধের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

মুক্তির গান : মুক্তিযুদ্ধকালীন আমেরিকান সাংবাদিক লিয়ার লেভিন সেখানকার এক টেলিভিশন কোম্পানির জন্য মুক্তিযুদ্ধে শিল্পীরা কিভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং যুদ্ধের কিছু ফুটেজ সংগ্রহ করেছিলেন। যার সময়দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২০ ঘণ্টা। এ সময় উনি সঙ্গ নেন ‘বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’ নামের দলের সাংস্কৃতিক কর্মীদের। যারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের দেশাত্মবোধক ও সংগ্রামী গান শুনিয়ে উজ্জীবিত করতেন। যুদ্ধের শেষ দিকে লিয়ার লেভিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলেও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তিনি ডকুমেন্টারিটি তৈরি করতে পারেননি। স্বাধীনতার ২২ বছর পর সেই ছবি উদ্ধার এবং বাছাই করে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও তাঁর স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। শিরোনাম দেন ‘মুক্তির গান’। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া এ চলচ্চিত্রটি একই বছর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

’৭১-এর যীশু : মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু নিজের চিত্রনাট্য নিয়ে ১৯৯৩ সালে নির্মাণ করেন ’৭১-এর যীশু। এতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সব পেশা ও শ্রেণীর মানুষের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের নিদারুণ চিত্রের পাশাপাশি বাঙালী জাতির ওপর পাকবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের চিত্র মর্মস্পর্শী রূপে ফুটে উঠেছে। পাকসেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করার পথ বেছে নেয়। তাই গল্পকার ক্রুশবিদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের যীশুর সঙ্গে তুলনা করে চলচ্চিত্রের নামকরণ করেছেন ‘’৭১-এর যীশু’। এর মূল দুটি ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও হুমায়ুন ফরীদি। জাতীয় ও বাচসাসসহ দেশ-বিদেশে পুরস্কার এবং প্রশংসা অর্জন করে এ চলচ্চিত্রটি।

মাটির ময়না : ‘মাটির ময়না’ তারেক মাসুদ পরিচালিত একটি বাংলা চলচ্চিত্র। ছবিটি ২০০২ সালে মুক্তি পায়। ষাটের দশকের উত্তাল সময়ের প্রেক্ষাপট হতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগের সময়ের একটি পরিবার কিভাবে যুদ্ধ ও ধর্মের কারণে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় তার গল্প নিয়ে তৈরি এ চলচ্চিত্র। পরিচালকের নিজের ছোটবেলার জীবন কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে এ ছবির কাহিনী গড়ে উঠেছে। অত্যন্ত ধার্মিক বাবা কাজী সাহেব তাঁর ছোট্ট ছেলে আনুকে পড়াশোনার জন্য মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দেন। দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের পাশাপাশি আনুর মাদ্রাসাতেও চরম ও মধ্যপন্থী মতবাদের বিকাশ ঘটতে থাকে। বিভক্তির এই একই চিত্র দেখা যায় গোঁড়া ধার্মিক কাজী ও তাঁর স্বাধীনচেতা স্ত্রী আয়েশার মধ্যে। ধর্মীয় উদারতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র এবং ইসলামের দুর্বোধ্যতা এসব কিছু মিলিয়ে ‘মাটির ময়না’ জাগতিক দ্বন্দ্বের একটি দৃশ্যমান প্রতিকৃতি।

ছবিটি আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছিল। বহিষ্কারাদেশ বাতিল হওয়ার পর ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ডিভিডি ভার্সন প্রকাশিত হয়।

কলমিলতা : সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার শহীদুল হক খান সরকারী অনুদানে ১৯৮১ সালে নির্মাণ করেন ‘কলমিলতা’। এতে মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাকসেনার বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক অভিযানের গল্প উঠে এসেছে। বাচসাসসহ নানা সংগঠনের পুরস্কার ও প্রশংসা অর্জন করে চলচ্চিত্রটি। এতে প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেন সোহেল রানা ও সূচরিতা।

এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্যান্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে রক্তাক্ত বাংলা, বাঘা বাঙ্গালী, ধীর বহে মেঘনা, সংগ্রাম, আমার জন্মভূমি, আবার তোরা মানুষ হ, খেলাঘর, মেঘের পরে মেঘ, রক্তাক্ত বাংলা, সূর্য গ্রহণ, স্টপ জেনোসাইড, শ্রাবণ মেঘের দিন, ৭১-এর সংগ্রাম, আ স্টেট ইজ বর্ন, কার হাসি কে হাসে, ইনোসেন্ট মিলিয়ন, সেøাগান, বাংলার ২৪ বছর, লিবারেশন ফাইটার্স, আগামী, হুলিয়া, ধ্রুব তারা, ঢাকা স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ, স্বাধীন বাংলায় ফিরে এলেন বঙ্গবন্ধু, আমরা তোমাদের ভুলবো না, সিপাহী, নদীর নাম মধুমতি, এখনো অনেক রাত, ছানা ও মুক্তিযুদ্ধ, ’৭১-এর লাশ, ইতিহাস কন্যা, একজন মুক্তিযোদ্ধা, শিলালিপি, মেঘের পরে মেঘ, অস্তিত্বে আমার দেশ, স্পার্টাকাস ’৭১, গহীনে শব্দ, নিঝুম অরণ্যে, রাবেয়া, মেহেরজান, আত্মদান, কারিগর, খ- গল্প ’৭১, পিতা, লাল সবুজ, ঘাতক, রাক্ষস, দাঙ্গা, শরৎ ‘৭১, জয় বাংলা, বাঙালীর ছাব্বিশ বছর, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, ধূসর যাত্রা, স্মৃতি ’৭১, সেই রাতের কথা বলতে এসেছি, নাইন মান্থস টু ফ্রিডম, প্রোগ্রাম ইন বাংলাদেশ, প্রত্যাবর্তন, সূচনা, দুরন্ত, যুদ্ধশিশু, জীবনঢুলী, মেঘমল্লার, হৃদয়ে ’৭১, একাত্তরের ক্ষুদিরাম, একাত্তরের মা জননী প্রভৃতি।

সেলুলয়েডের ফ্রেমে গত চার দশকে পঞ্চাশোর্ধ সিনেমা মুক্তি পেলেও মুক্তিযুদ্ধ এখনও যেন অবহেলিত! লাঞ্ছিত! অপমানিত! কারণ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনও বাধাগ্রস্ত, কথিত ‘সুশীল’ নামধারী বুদ্ধিবেশ্যা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্বস্বার্থে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলা-হত্যাসহ আন্তর্জাতিক-দেশীয় উগ্র মৌলবাদীদের ধ্বংসাত্মক কর্মকা- প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করে চলেছে এ দেশের মা, মাটি, মানচিত্রকে।

প্রকাশিত : ১২ মার্চ ২০১৫

১২/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: