কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এক স্তরে ভ্যাট আদায় হবে ॥ অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১২ মার্চ ২০১৫

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ একাধিক ভ্যাট হার বিলুপ্ত করে একস্তরে ভ্যাট আদায় করা হবে এবং দেশের স্বার্থে একটি অব্যাহতি তালিকাও থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বুধবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইডিইবি) ভবনে মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ সম্পর্কে করদাতাদের উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন সদস্য (মূসক নীতি) ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, বৃহৎ করদাতা ইউনিটের ভ্যাটের কমিশনার শাহনাজ পারভীন ও ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের পরিচালক রেজাউল হাসান।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীগণের স্বার্থ রক্ষায় করমুক্ত মূল্যসীমা ও বার্ষিক টার্নওভার ৩০ লাখ টাকা ধার্য করার ঘোষণা দেন। যা আগে ছিল ২৪ লাখ টাকা। এছাড়া আসন্ন বাজেটে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে বড় স্তম্ভ হচ্ছে ভ্যাট। কিন্তু ভ্যাট ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যবসায়ী মহলের ধারণা এখনও স্বচ্ছ ও যথাযথ নয়। এ জন্য নতুন আইন সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের অবহিত করতে নিয়মিত সভা-সেমিনারের আয়োজন করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা উপকরণ মূল্য ও মূল্য সংযোজনের সঠিক হিসাব রাখলে ভ্যাট জটিলতা থাকার কথা না। ভবিষ্যতে ভ্যাট আদায়েও একস্তর বহাল থাকবে। তবে, প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আরও আলোচনা করা হবে। উল্লেখ্য, একস্তরে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যবসায়ীরা এখনও বহুস্তর বিশিষ্ট ভ্যাট হারের দাবি থেকে সরে আসেননি। সরকার আইএমএফকে সন্তুষ্ট করতে একস্তরের ভ্যাট হার আদায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলেও অভিযোগ তিনি বলেন, আইএমএফের পরামর্শে ভ্যাট আইন করা হলে উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করে তা চূড়ান্ত করা উচিত।

কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন ভ্যাট আইন সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কর্মকর্তাদেরও অবহিত করতে হবে। এ জন্য কর্মকর্তা ও খাতভিত্তিক ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান বলেন, নতুন ভ্যাট আইন জনগণের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তড়িঘড়ি করে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না করে আলোচনার মাধ্যমে তা চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, নতুন আইন বাস্তবায়ন করা হলে করদাতাগণের ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাবে। এতে করে বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দেশের আর্থিক উন্নয়নে এ আইন সুদূরপ্রসারী অবদান রাখবে।

ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে ব্যবসায়ীরা ভ্যাট অফিসে না গিয়ে অনলাইনে নিবন্ধন নিতে পারবেন। এ ছাড়া মূল্য ঘোষণা, অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতি, অনলাইনে কর রেয়াত, রিটার্ন দাখিল, রিফান্ড আবেদন, আপীল আবেদন ও এর সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। উল্লেখ্য, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন- ২০১২ বাস্তবায়ন এবং অটোমেশন করার অংশ হিসেবে এনবিআর করদাতাদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও উদ্বুদ্ধকরণের কর্মসূচী শুরু করেছে।

প্রকাশিত : ১২ মার্চ ২০১৫

১২/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: