মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ক্ষমতাসীনদের কঠোর মনোভাব ॥ পথ খুঁজছে বিএনপি

প্রকাশিত : ১২ মার্চ ২০১৫
ক্ষমতাসীনদের কঠোর মনোভাব ॥ পথ খুঁজছে বিএনপি
  • আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন হরতাল-অবরোধ অকার্যকর হয়ে গেছে। মানুষ হত্যাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোন সুযোগ নেই
  • হরতাল-অবরোধ ছেড়ে বিকল্প কোন কর্মসূচীতে যাওয়ার জন্য প্রতিদিনই বার্তা আসছে নীতিনির্ধারকদের কাছে মাঠ পর্যায় থেকে
  • পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিষয়ে খালেদা জিয়া কিংবা তারেক রহমান ছাড়া কেউ কিছুই জানে না

ওবায়দুল কবির ॥ বিএনপি-জামায়াতের প্রতি নমনীয়তা দেখিয়ে সংলাপ কিংবা আলোচনার টেবিলে সমস্যা সমাধানের কোন চিন্তা-ভাবনাই নেই সরকারের। কঠোর আইনী প্রক্রিয়ায় চলমান সহিংসতা বন্ধ করতে চায় সরকার। কঠোর মনোভাবে সঙ্কট সমাধান করে বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে ক্ষমতাসীনরা। তাদের প্রত্যাশা, খুব দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য চিরতরে বন্ধ হবে নেতিবাচক রাজনীতির ধারা। অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে বিএনপি। হরতাল-অবরোধ ছেড়ে বিকল্প কোন কর্মসূচীতে যাওয়ার জন্য দলের নীতিনির্ধাকদের কাছে প্রতিদিনই বার্তা আসছে মাঠ পর্যায় থেকে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবশ্য দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কিংবা লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমান ছাড়া আর কেউ কিছুই জানেন না। ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে বোঝা গেছে, সমস্যা সমাধানে সরকার সঠিক পথেই রয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কারও কোন দ্বিমত বা সংশয় নেই। তাঁরা বলছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনার কোন সুযোগ নেই। বিএনপি-জামায়াত গণতন্ত্রের পথ ছেড়ে সন্ত্রাসের পথে হাঁটা শুরু করেছে। পেট্রোলবোমায় পুড়িয়ে মেরেছে নিরীহ মানুষকে। এদের সঙ্গে জঙ্গীদের কোন পার্থক্য নাই। জঙ্গী-সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধে আলোচনার কোন সুযোগ থাকতে পারে না। আলোচনায় বসে সমঝোতা করে সন্ত্রাস বন্ধ করা হলে এই অপকর্মকে স্বীকৃতি দেয়া হবে। কিছুদিন পর আবারও তারা হরতাল-অবরোধ ডেকে সন্ত্রাস শুরু করবে। আইনী প্রক্রিয়ায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই সন্ত্রাস বন্ধ করা হলে আর কেউ এই পথে হাঁটার সাহস পাবে না। বাংলাদেশ থেকে চিরতরে এমন নেবিবাচক রাজনীতি বন্ধ হয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন, বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধ অকার্যকর হয়ে গেছে। সব কিছুই এখন স্বাভাবিক। এখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করার কোন কারণ নাই। আলোচনা করে সমস্যা সমাধানে কূটনীতিকদের আহ্বান সম্পর্কে ক্ষমতাসীনদের অবস্থানও খুব স্পষ্ট। তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আইএস ব্যাপক সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে। পাকিস্তানে জঙ্গীরা স্কুলে শিশুদের হত্যা করেছে। এদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা কেউ বলছেন না বা ভাবছেন না। আল কায়েদা-আইএস জঙ্গী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যদি আলোচনার সুযোগ না থাকে তবে বাংলাদেশে পেট্রোলবোমায় মানুষ হত্যাকারী বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ কোথায়। এখন যদি তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা হয় তবে যারা আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন কিংবা সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন তাঁদের পরিবারের কাছে সরকার কি জবাব দেবে।

নেতারা বলছেন, যেসব ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি বর্তমান পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। অতীতে বিএনপিকে বার বার আলোচনার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএনপি সেই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে আন্দোলনের নামে সহিংতার পথ বেছে নিয়েছে। ২০১০ সালে সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সদস্যদের নিয়ে সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে বিএনপির প্রতিনিধিদের রাখার জন্য নাম চাওয়া হয়। বিএনপি তখন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যায়নি। কমিটি সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করার আগে বিএনপির সঙ্গেও আলোচনার চেষ্টা করে। তখনও তারা সাড়া দেয়নি।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পর এই পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। পাশাপাশি শুরু হয় লাগাতার সংসদ বর্জন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা সংসদে বসে আলোচনার আহ্বান জানান। এই আহ্বানেও সাড়া দেননি বিএনপি নেতারা। উপরন্তু তারা একের পর এক সরকার পতনের হুমকি দিয়ে গেছেন। ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের আগে খালেদা জিয়া সরকার উৎখাতের আল্টিমেটাম দেন। তার সেই আল্টিমেটাম ব্যর্থ হয়। পরে লাগাতার কর্মসূচীর ঘোষণা দেয়। তাদের এই কর্মসূচীও সফল হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারে বিএনপিকে থাকার প্রস্তাব দেন। শুধু তাই নয়, সংববিধানের মধ্যে থেকে তাদের যে কোন দাবি মানতেও তিনি রাজী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বারষ্ট্রসহ যে কোন মন্ত্রণায় চাইলেও বিএনপিকে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবও সেদিন প্রত্যাখ্যান করেছিল বিএনপি। এমনকি জাতিসংঘ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে দুই পক্ষের একাধিক বৈঠক হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেও কোন সমাধানে পৌঁছতে পারেনি। সমঝোতার বদলে বিএনপি-জামায়াত সেদিন সহিংস পথে, জ্বালাও-পোড়াও করে নির্বাচন ঠেকাতে চেয়েছিল। লাগাতার হরতাল-অবরোধ দিয়ে সরকারের পতন ঘটাতে চেয়েছিল। তাদের কর্মসূচীতে যানবাহনে আগুন, বোমাবাজি, ভাংচুরের ঘটনায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ৫ শতাধিক স্কুল জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এত কিছু করেও তারা নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সর্বশেষ সংসদে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সংলাপে বসতে টেলিফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জবাবে বিরোধীদলের নেত্রী কি বলেছিলেন তা দেশবাসী শুনেছে। খালেদা জিয়া কোন আহ্বানেই সাড়া দেননি।

গত ৫ জানুয়ারি থেকে টানা দুই মাসের বেশি সময় ধরে অবরোধ-হরতাল দিয়ে রেখেছে বিএনপি-জামায়াত। এই কর্মসূচীতে সাধারণ মানুষের কোন সাড়া নেই। এই কর্মসূচীও এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কর্মসূচীর নামে চলছে সহিংসতা। আকস্মিকভাবে যানবাহনে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা, ভাংচুর, আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া, ককটেল সন্ত্রাস চলছেই। এই সহিংসতায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর খবর শোনার পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানাতে তার কার্যালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। সেদিন সৌজন্য দেখিয়েও খালেদা জিয়া সাক্ষাত দেননি। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার দিনগুলোতে অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহার করে নেয়ার আহ্বান জানন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি-জামায়াত তাদের অবস্থানের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন না করে পরীক্ষা ঠেকাতে জেহাদ ঘোষণা করেছে। যেদিন পরীক্ষা, সেদিনই হরতাল। সহিংসতার অবসানে দেশের ভেতর ও বাইরে বিভিন্ন মহল থেকে সংলাপের তাগিদ দেয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে ‘আগে সহিংসতা বন্ধ করার’ আহ্বান জানানো হয়। সহিংসতা বাদ দিলেই কেবল সংলাপ হতে পারে বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে ঘোষণা দেয়া হয়। কূটনীতিকদের পক্ষ থেকেও সমঝোতার জন্য সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা কোন আহ্বানে সাড়া না দিয়ে টানা কর্মসূচীর পাশাপাশি সহিংসতাও অব্যাহত রেখেছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া সরকারের আর কিছুই করার নাই বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

অন্যদিকে বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীই মনে করছেন দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা হরতাল-অবরোধ ও সহিংসতায় শুধু কিছু সাধারণ মানুষের প্রাণ গেছে। পঙ্গু হয়েছে অনেক মানুষ। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা জীবনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। কাজের কাজ হয়নি কিছুই। আন্দোলনে অগ্রগতি শূন্যের কোঠায়। হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে। বাকিরাও ঘরছাড়া। সিনিয়র নেতারা মুখ খুলছেন না। মাঠে আন্দোলন চালানোর মতো কেউই আর অবশিষ্ট নেই। প্রতিদিন অজ্ঞাত স্থান থেকে একটি গায়েবী বিবৃতি আর কতক্ষণ নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে পারে। স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কোন নেতাই জানেন না কার নির্দেশে দল পরিচালিত হচ্ছে। কার সিদ্ধান্তে বাড়ানো হচ্ছে হরতাল-অবরোধের মতো সহিংস কর্মসূচী। সহিংসতায় বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কারও কাছে বলার সুযোগ নেই। মাঠ পর্যায়ের নেতারা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য কিংবা সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। জানতে চান তাদের ভবিষ্যতের কথা। কারও কাছ থেকেই কোন জবাব পাওয়া যায় না। সবাইকে একটি কথা বলেই বিদায় করেন, ‘আমরা কিছুই জানি না’।

দলের কয়েকজন সিনিয়ন নেতার সঙ্গে আলাপ করে বোঝা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি তাদের কাছেও অস্বস্তিকর। তারা স্পষ্টই বুঝতে পারছেন বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে। এক নেতা বলেন, আমরা মুখে যাই বলি না কেন হরতাল-অবরোধ এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে এমন কর্মসূচী কার্যকর থাকা সম্ভবও নয়। এতে শুধু আমাদেরই নয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চারও ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবাদের ভাষা বলতে আর কিছুই রইল না। এখন বিরোধীদলের প্রতি বড় ধরনের কোন অন্যায় হলেও প্রতিবাদ করার কোন ভাষা অবশিষ্ট থাকল না। ভবিষ্যতে বিরোধীদলের গেলে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেও এই সমস্যায় পড়তে হবে। একই সঙ্গে বিএনপি নেতারা স্বীকার করেন, হরতাল অবরোধ থেকে বের হতে না পারলে এবং এই কর্মসূচীর স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটলে আগামী চার বছর আর তাদের কথা বলার কোন জায়গা থাকবে না। সরকারের সব কাজ নীরবে সমর্থন করে যেতে হবে। এমন পরিস্থিতি দলের জন্য হবে আত্মঘাতী। চার বছর পরে দলের সাংগঠনিক কাঠামোই খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।

নেতারা এটিও স্বীকার করেন, নেতিবাচক রাজনীতির কারণে দলের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন ক্রমশ কমছে। বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে মিলে পেট্রোলবোমায় মানুষ মারার ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষ কিছুতেই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি। শিক্ষা জীবন বাঁচানোর জন্য ছাত্রীছাত্রীদের রাজপথে নেমে আসা, প্রতিদিন প্রচার মাধ্যমে প্রকাশিত সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র বিএনরি রাজনীতিকে ‘ব্যাকফুটে’ ঠেলে দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এসএসসি পরীক্ষা ঠেকানোর উদ্যোগ। দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক কোন না কোনভাবে এই পাবলিক পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। পরীক্ষা ঠেকানোর এই কর্মসূচী কোন ভাবেই তারা স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। আমাদের দুর্ভাগ্য কথাগুলো বলার মতো কোন জায়গা নেই। শোনারও কেউ নেই। কারা কর্মসূচী দিচ্ছে, কোথা থেকে সিদ্ধান্ত আসছে আমারা কিছুই জানি না। এমনকি যে ব্যক্তিটি প্রতিদিন একটি বিবৃতির মাধ্যমে কর্মসূচী ঘোষণা করছেন তার অবস্থান সম্পর্কেও আমাদের ধারণা নেই।’

তাঁরা বলেন, নীতিনির্ধারক মহল থেকে কূটনীতিকদের একটি উদ্যোগের কথাও আমাদের বলা হয়েছিল। জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তব্যে আমরা মধ্যস্থতার একটা আশা করেছিলাম। তাও শেষ পর্যন্ত কিছু হয়নি। কূটনীতিকরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বললেও নিজেরা কোন উদ্যোগ নিতে এখন পর্যন্ত রজি হননি। সরকারের দিক থেকে আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে, তারা আলোচনায় বসতে রাজি নন। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনাও আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, শুধু দেশ নয়, তাদের দলীয় স্বার্থেও এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এর জন্য বিকল্প কোন কর্মসূচী খুঁজে নিতে হবে। বিকল্প কি হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, আমরা একটা সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করে নিতে পারি। সমাবেশ থেকে গণসংযোগকর্মসূচী ঘোষণা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে পারি। অবশ্য এতে ক্ষমতাসীনদের ইতিবাচক মনোভাব দেখাতে হবে। যেহেতু আলোচনার কোন সুযোগ নেই তাই সরকার কি করবে তা আমরা আগাম কিছু বলতে পারি না। জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ করে আমরা নতুন ধারারা কর্মসূচী ঘোষণা করলেই কেবল বোঝা যাবে সরকারের মনোভাব। তবে আমাদের বিশ্বাস দেশের স্বার্থে-জনগণের স্বার্থে সরকার এতে বাধা দেবে না। এভাবেই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটতে পারে।

প্রকাশিত : ১২ মার্চ ২০১৫

১২/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: