রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ইউরোপে বাড়ছে ইহুদী বিদ্বেষ

প্রকাশিত : ১১ মার্চ ২০১৫
  • এনামুল হক

ইউরোপে ইহুদী-বিদ্বেষ বাড়ছে। প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলা ও তারপর কোপেনহেগেনের গোলাগুলির ঘটনার পর এই আশঙ্কা নতুন করে দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই যে ইহুদী বিরোধিতা বাড়ছে তার বাস্তব তথ্যপ্রমাণও আছে।

তেল আবিবের ক্যান্টর সেন্টারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ২০০০ এর দশকের প্রথম থেকে ইউরোপে ইহুদী বিরোধী হামলা অধিকতর ঘন ঘন রূপ ধারণ করে। ২০০৩ সাল থেকে এই হামলার সংখ্যা উঠা নামা করতে থাকে। ২০০৯ সালে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনীদের যুদ্ধের সময় সংখ্যাটা বেশ বেড়ে যায়। গত বছরের গ্রীষ্মে গাজায় ইসরাইলী হামলার পর ইহুদী বিরোধিতা চরম রূপ ধারণ করেছে বলে দাবি করা হয়। অবশ্য ইসরাইল বিরোধিতাকে অনেক সময় ইহুদী বিরোধিতার সঙ্গে এক করে গুলিয়ে ফেলা হয়ে থাকে। ফিলিস্তিনীদের প্রতি সহানুভূতিশীলরা অভিযোগ করে থাকে যে ইসরাইলপন্থী গ্রুপগুলো ইসরাইলবিরোধী বক্তব্য ও সমালোচনাকে বিকৃতভাবে তুলে ধরার জন্য ইহুদী বিরোধিতা শব্দটার অপপ্রয়োগ করে আসছে।

তবে ইহুদীদের প্রতি ইউরোপীয়দের মনোভাব কি সে সম্বন্ধে পরিচালিত জরিপে পরস্পরবিরোধী তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। গত নবেম্বরে ফরাসী গবেষণা সংস্থা কন্ডাপোলের এক নমুনা জরিপে দেখা যায়, ২৫ শতাংশ নর-নারী একমত যে অর্থনীতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইহুদীরা অত্যধিক ক্ষমতার অধিকারী। অন্যদিকে চরম বর্ণবাদী জার্মানিতে ২০১০ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ৩ শতাংশ বিশুদ্ধ জার্মান মনে করে বিশ্বে ইহুদীদের হাতে অত্যধিক ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি রয়েছে। তুর্কী বংশোদ্ভূত জার্মানদের মধ্যে এমন মত ২৫ শতাংশের এবং আরব বংশোদ্ভূত জার্মানদের ৪০ শতাংশের।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত নবেম্বরে স্বীকার করেন যে তাঁর দেশে ইহুদীদের প্রতি ঘৃণাও বিদ্বেষ বাড়ছে। শুধু জার্মানি কেন, ইউরোপজুড়ে এই বিদ্বেষ বাড়ছে। এমনকি খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে ইহুদীদের প্রভাব প্রতিপত্তি সর্বব্যাপী সেখানেও ঘৃণা বা বিদ্বেষ থেকে উদ্ভূত অপরাধসমূহের দুই-তৃতীয়াংশের টার্গেট হলো ইহুদীরা। ২০১১ সালের এফবিআই রিপোর্টে এ কথা স্বীকার করা হয়েছে। ইউরোপের ইহুদী গ্রুপগুলো ধর্ম নিরপেক্ষ সংখ্যাগুরুদের হাতে উপেক্ষিত হলে অনেক সময় আরেক ধর্মীয় সংখ্যালঘুর সঙ্গেÑ খোদ মসুলমানদের সঙ্গে জোট বাঁধে। তাই দেখা যায় ইহুদী ও মসুলমান সংগঠনগুলো কোশের এবং হালাল পদ্ধতিতে পশু জবাই এবং খৎনা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ প্রতিহত করার জন্য একজোট হয়ে কাজ করেছে।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

প্রকাশিত : ১১ মার্চ ২০১৫

১১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: