আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মাশরাফিদের সাফল্যে উদ্বেলিত তারকা ফুটবলাররা

প্রকাশিত : ১১ মার্চ ২০১৫
  • রুমেল খান

জাহিদ হাসান এমিলি ॥ ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ আটে খেলার ছাড়পত্র পাওয়াটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বিরাট অর্জন। পুরো জাতির জন্য নিঃসন্দেহে এটা এক আনন্দময় ঘটনা এবং ঐতিহাসিক দিন। তবে সত্যি কথা বলতে কি, আমি এতটা আশা করিনি। তবে মাশরাফিবাহিনী আমার ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করায় আমি মোটেও অখুশি নই। বরং মহা আনন্দিত।

তবে এই সাফল্যের মধ্যেও দু-একটি ব্যাপার সবার মতো আমাকে অস্বস্তি দিচ্ছে। তামিম ইকবাল ওই ক্যাচটি যেভাবে ফেলে দেন, তা ছিল অমার্জনীয়। ম্যাচটি আমরা হেরে গেলে সব দোষ গিয়ে পড়ত তামিমের ওপর। ভাগ্য ভাল, সেরকম কিছু হয়নি। আরেকটি ব্যাপার হলো- আহত ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের পরিবর্তে ইমরুল কায়েসকে বাংলাদেশ থেকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে তাকে অসি কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ না খাইয়েই নামিয়ে দেয়া হলো এবং তিনি ব্যর্থও হলেন। এটা অবশ্য টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। কেননা ইমরুল পরীক্ষিত পারফর্মার। তাঁর অতীত রেকর্ড মোটেও ফেলনা নয়। ভাগ্য খারাপ বলেই তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। আশা করি পরের ম্যাচে তিনি ঠিকই ঝলসে উঠতে সক্ষম হবেন।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে অনেকেই বলেছিলেন, এ ম্যাচে বাংলাদেশের স্পিনাররা অনেক ভাল করবেন, ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা স্পিনে তেমন ভাল খেলে না। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে ঠিক উল্টোটি। ম্যাচে রাজত্ব করেছে বাংলাদেশী পেসাররাই। শুরুতে যখন ওদের উইকেট পড়ছিল না, তখন স্পিনে কাজ না হওয়ায় পেসাররাই উইকেটের পতন ঘটিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন। প্রাথমিক এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা তারা বজায় রেখেছে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ মাঠের মতো এই মাঠটিও কিন্তু পেস সহায়ক। এ ম্যাচেও তার ব্যত্যয় হয়নি।

মাহমুদুল্লাহ্র সেঞ্চুরি প্রসঙ্গে বলব, এই সেঞ্চুরি শুধু মাহমুদুল্লাহ্কেই নয়, আনন্দে ভাসিয়েছে গোটা জাতিকেই। ম্যাচের কঠিন সময়ে ব্যাট হাতে শক্ত হাতে একপ্রান্ত আগলে রেখেছেন তিনি। আর তাঁকে যোগ্য সাহচর্য দিয়েছেন মুশফিকুর রহীমও। ইচ্ছে করলে তিনিও সেঞ্চুরি করতে পারতেন, হাতে অনেক বলও ছিল। কিন্তু স্বার্থপরের মতো সিঙ্গেলস নিয়ে তিনি দলের বিপদ বাড়াতে চাননি। নিজের সেঞ্চুরির কথা ভাবেননি। দলের রান দরকার, তাই তিনি বিগ শট খেলতে গিয়েছেন। তার দুর্ভাগ্য তিনি আউট হয়ে যান।

আমাদের পরের ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে। যেহেতু এক ম্যাচ হাতে রেখেই আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেছি, কাজেই ওই ম্যাচটি আমাদের জন্য হবে একেবারেই চাপহীন ম্যাচ। কেননা আমাদের হারানোর কিছু নেই। কাজেই আশা করব বাংলাদেশ দল ম্যাচটি উপভোগ করবে এবং চেষ্টা করবে স্বাগতিক ব্ল্যাকক্যাপস্দের হারিয়ে ইংল্যান্ডের মতো আরেকটি জয় কুড়িয়ে নিয়ে দেশবাসীকে আবারও অনাবিল চিত্তসুখে অবগাহন করাতে।

মামুনুল ইসলাম ॥ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল যে এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে কমপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলবে, এটা আমি আগেই জানতাম এবং মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতাম। কেননা, এ লেভেল পর্যন্ত খেলার সামর্থ্য আমাদের ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের আছে। শেষ আটে যাওয়ায় এখন স্বভাবতই আমাদের স্বপ্নের পরিধির আরও বিস্তৃত হলো। সেটা হলো এখন আমরা সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখতেই পারি। আমি বলতে চাই সারপ্রাইজ আরও বাকি আছে। কোয়ার্টারে উঠে ক্রিকেটাররা এখন অনেক বেশি উজ্জীবিত। তারা এই আসরে খেলছে সত্যিকারের একটা দল হিসেবে। খেয়াল করলে দেখবেন দলে নির্দিষ্ট কোন ম্যাচ উইনার নেই। এখানে সবাই ম্যাচ উইনার। একেক ম্যাচে দলের বিপর্যয়ে হাল ধরছে একেক ক্রিকেটার। ব্যাটি-বোলিং ক্লিক করছে। তারা যে ধারাবাহিকভাবে এত ভাল খেলছে, এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বা এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তাদের যে সামর্থ্য, তাতে এখন তারা যে কোন কিছুই করতে পারে। আরেকটা ব্যাপার, বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচেই দেখা গেছে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বাংলাদেশী দর্শকের সংখ্যাই বেশি। তারা যেভাবে স্বদেশী খেলোয়াড়দের সমর্থন করেছে, তা ছিল সত্যিই ইতিবাচক।

ইমরুল কায়েসকে কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ না খাইয়েই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে ওপেন করানো এবং তার ব্যর্থতা সম্পর্কে বলব, এটা টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। পরের ম্যাচে সে নিশ্চয়ই ভাল খেলবে।

এ ম্যাচে স্পিনাররা ব্যর্থ হয়েছেÑ এটা বলব না। কেননা অস্ট্রেলিয়ার পিচগুলো হচ্ছে পেসারদের অনুকূলে। তাছাড়া দিবারাত্রির ম্যাচে সন্ধ্যার পর শিশিরের কারণে স্পিনারদের বল করতে সমস্যা হয়। এখানেও তাই হয়েছে।

রিয়াদের সেঞ্চুরি বিশাল এক সফলতা আমাদের জন্য। যতদূর জানি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটাই সে করেছে, তাও বিশ্বকাপের মতো আসরে! তাঁকে অভিনন্দন।

দলের রানের চেয়ে নিজের সেঞ্চুরি কিছু নয়Ñ সম্ভবত এ জন্যই হাতে বেশকিছু বল থাকার পরও ৮৯ রানে মুশফিকুর বিগশট খেলতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরে। তাঁর এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই ছিল সঠিক।

বাংলাদেশ দল এখন যে পর্যায়ের ক্রিকেট খেলছে, তাতে এখন তারা পরবর্তী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারাতেই পারে। আমি আবারও বলব, হয়ত আমাদের জন্য আরও সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে!

হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস ॥ কে কী মনে করবেন জানি না। হয়ত অনেকেই বলবেন খেলার সঙ্গে রাজনীতি মেশানো ঠিক নয়। তবে কথাটি না বলেও পারছি না। যে দেশটি আমাদের বাংলাদেশকে প্রায় দুইশো বছর শাসন করেছে, সেই ইংল্যান্ডকে আমি মোটেও পছন্দ করি না। দুই চোখে দেখতে পারি না! ক্রিকেটের জনক হিসেবে যারা নিজেদের দাবি করে, সেই ইংল্যান্ডকে যখন বাংলাদেশ হারাল এবং তাদের ঝেঁটিয়ে বিশ্বকাপ থেকেই গেট আউট করে দিল, তখন আমি যে কী পরিমাণে খুশি হয়েছি, তা বলে বোঝাতে পারব না। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, আমরাও পারি! খেলা দেখেছি শেখ রাসেলের ক্যাম্পে বসে। সঙ্গে ছিল গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ লিটনসহ অনেকেই।

শেষ আটে ওঠার পথে যদি কলঙ্ক কিছু থাকে, তা হচ্ছে দুই ওপেনারের অল্প রানে আউট, বিশেষ করে কায়েসের আউট এবং ফিল্ডার তামিমের সহজ ক্যাচ মিস করাটা। একটা সুযোগ মানে অনেক বড়। বিজয়ের পরিবর্তে খেলার সুযোগ পেয়ে সেটা নষ্ট করেছেন কায়েস। তারপরও মনে করি পরের ম্যাচে খেলার সুযোগ দেয়া উচিত কায়েসকে।

একটা ম্যাচে বিশ্বের যে কোন স্পিনারই মার খেতে পারে উইলোবাজদের কাছে। এ ম্যাচেও তাই হয়েছে। কিন্তু এটাকে খুব বেশি বড় করে দেখা উচিত হবে না।

রিয়াদ এমন একজন ব্যাটসম্যান, যিনি কিনা সবসময়ই তাঁর ব্যাটিং গড় ঠিক রাখেন। ভাল ব্যাটসম্যান অবশ্যই। তাঁর সেঞ্চুরি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের জন্য মাইলফলক এবং ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

নিউজিল্যান্ড বেশ শক্তিশালী দল। তাছাড়া ওরা স্বাগতিকও বটে। ফলে দর্শক সমর্থনও তাদের বেশি। তারপরও আগামী ম্যাচে তাদের সঙ্গে মোকাবেলায় বাংলাদেশ জিতবে, এই কামনাই করি।

প্রকাশিত : ১১ মার্চ ২০১৫

১১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: