মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আমার দেখা সেরা জয়- ইতিহাস

প্রকাশিত : ১১ মার্চ ২০১৫
আমার দেখা সেরা জয়- ইতিহাস
  • এবার আরও এগিয়ে যাওয়ার পালা
  • খন্দকার জামিল উদ্দিন

কিছু কিছু অনুভূতি থাকে যেগুলো কখনও ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর আমার অনুভূতিও ঠিক সেরকম। আমার এই অনুভূতি স্বপ্ন পূরণের অনুভূতি। এটি সেই স্বপ্ন, যে স্বপ্ন আমি বিশ্বকাপ শুরুর অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি। আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম এবং আমি নিজেও বলেছি, কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে সহযোগী দেশ দুটির পাশাপাশি টার্গেট থাকবে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করা। সেই লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ সমর্থ হয়েছে। দেশের ষোলো কোটি মানুষ তাই উদ্বেলিত, মহাখুশি। অভিনন্দন জানাই বাংলাদেশ দলকে এমন বিরোচিত নৈপুণ্যের মধ্যদিয়ে উদ্ভাসিত জয় ছিনিয়ে আনায়। আমার দেখা এযাবতকালের সেরা জয় এটিই, মাশরাফিরা যা অর্জন করেছে এ্যাডিলেডে। এমন একটা সময়ে এই জয় এলো যখন ইনজুরিতে আমাদের দল আক্রান্ত। এমন অবস্থায় দলের অভূতপূর্ব এই সাফল্য বাংলাদেশের ক্রিকেটের মোড় অনেকটা ঘুরিয়ে দেবে বলে আমার বিশ্বাস। বাংলাদেশের ক্রিকেটের চলার পথে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় পাথেয় হয়ে থাকবে, এটা আমার আশা। এই জয়ে টিম স্পিরিট যেমন বাড়বে ঠিক তেমনি সামনে আরও ভাল খেলতে দলকে উৎসাহিত করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা আমার কাছে মনে হয়েছে সেটি হলো, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো পরিবেশে বাংলাদেশ যে এমন একটা পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। পৃথিবীর সবচেয়ে আশাবাদী মানুষটিও বোধ হয় এতটা কল্পনা করেননি।

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার স্বপ্ন মুঠোবন্দী হলো। তবে এখানেই কিন্তু আমাদের থেমে থাকলে চলবে না। আরও দূরের পথ পাড়ি দিতে হবে মাশরাফিদের। গ্রুপপর্বেব শেষ ম্যাচে সামনে প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। তাদের হারাতে পারলে খেলোয়াড়দের মনোবল আরও বেড়ে যাবে। পূর্ণ আত্মবিশ্বাসসম্পন্ন দল হিসেবে যাতে আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারি সেজন্য নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও আমাদের ভাল খেলতে হবে, যাতে কোয়ার্টার ফাইনালে আত্মবিশ্বাসটা আমাদের তুঙ্গে থাকে। আবারও বলব, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর দারুণ এক অনুভূতি কাজ করছে আমার মনে। এই দলের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের একটা সখ্য ছিল। বলতে গেলে এই দলের অনেক খেলোয়াড়কেই আমি কোলেপিঠে করে মানুষ করেছি। এই জয়ের সঙ্গে তাই আমার আবেগের ব্যাপার জড়িত, ভালবাসার ব্যাপার জড়িত। সব মিলিয়ে টাইগারদের পারফরম্যান্সে আমি ভীষণ খুশি।

কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এবার সামনে তাকানোর পালা। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গেলেই আমাদের হবে না। এখন লক্ষ্যটাকে আরও বড় করতে হবে। আমাদের অনেক দূরে তাকাতে হবে। সেজন্য নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও ভাল খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। কিউইদের বিপক্ষে ম্যাচটা যদি আমরা জিততে পারি তাহলে আমার মনে হয়, বাংলাদেশ পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারবে। কোয়ার্টার ফাইনালে যে দলই প্রতিপক্ষ হোক না কেন, মনে হয় না বাংলাদেশ তাদের ছেড়ে কথা বলবে। কোয়ার্টার ফাইনালেও প্রতিপক্ষকে চমকে দেবে বাংলাদেশ, আমাদের ছেলেদের ওপর এটা আমার বিশ্বাস।

তবে এজন্য অবশ্যই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। সঙ্গে আগের ম্যাচগুলোর ভুলত্রুটিগুলো দ্রুত শুধরে নিতে হবে। আগের ম্যাচগুলো থেকে বলব, টুর্নামেন্টে আমাদের ফিল্ডিংটা মোটেও প্রত্যাশিত মানের হয়নি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষদিকে তামিম ক্যাচ ফেলে দেয়ায় আমরা ম্যাচ প্রায় হারতে বসেছিলাম। আসলে আমাদের ক্যাচিং দুর্বলতা অনেক বেশি চোখে পড়েছে এবারকার বিশ্বকাপে। ক্যাচিংটা ঠিকমতো করতে হবে। দলের ব্যাটিংঅর্ডার নিয়ে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা ঠিক হবে না। ইমরুল কায়েস দলে যোগ দেয়ার মাত্র দু’দিনের মাথায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ধরনের অবিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ কিন্তু এখন নেই। সৌম্য যেখানে ওপেন করতে পারে সেখানে অভিজ্ঞ নাসিরকে বসিয়ে ইমরুলকে খেলানোর কোন প্রয়োজন ছিল না। সামনের ম্যাচগুলোতে এ ধরনের ভুল থেকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। ব্যাটিংঅর্ডার নিয়ে এত বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না। ফিল্ডিংটা উন্নত করতে হবে। পাশাপাশি মাথায় রাখতে হবে, ওপেনিংটাও আমাদের ধারাবাহিক হচ্ছে না। ওপেনিংয়ে তাই নজর দিতে হবে। ওপেনাররা যাতে ধারাবাহিক ভাল করে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এ দুর্বলতা আমাদের অবশ্যই কাটাতে হবে। এই দুর্বলতা কাটাতে পারলে সামনের ম্যাচগুলোতে আরও বড় স্কোর হয়ত করতে পারব আমরা।

বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের প্রত্যেকের প্রাথমিক স্বপ্নই পূরণ হয়েছে। সবার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমরা ভালভাবেই করতে পেরেছি। এখন স্বপ্নকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পালা। স্বপ্নের আসলে কোন পরিধি নেই। আমরা স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি। তাই এখন আমরা প্রত্যেকেই চাইব আমাদের দল আরও এগিয়ে যাক। অন্যদের ভাবনা কী জানি না, তবে আমার ব্যক্তিগত আশা হচ্ছে- আমরা সেমিফাইনালে খেলব। তারপর ম্যাচ বাই ম্যাচ আমরা চিন্তা করব। যদি আমরা সেমিফাইনালে খেলতে পারি, তাহলে সত্যিই সেটি হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি বিশ্বাস করি সেটি খুব ভালবাবেই সম্ভব। কারণ ২০০৩ বিশ্বকাপে কেনিয়ার মতো দলও সেমিফাইনালে খেলেছে। যদি বিশ্বকাপে কেনিয়া সেমিফাইনাল খেলতে পারে তবে আমরা কেন পারব না? সেই বিবেচনায় আমি এখন খুবই আশাবাদী সেমিফাইনালের ব্যাপারে। যদি পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা আমরা ধরে রাখতে পারি, আমাদের টপঅর্ডার যদি জ্বলে উঠতে পারে, বোলাররা যদি ঠিকমতো বল করতে পারে, ফিল্ডাররা ঠিকমতো ক্যাচগুলো ধরতে পারে তাহলে আমার মনে হয় না সেমিফাইনালে যাওয়াটা আমাদের জন্য অসম্ভব কোন বিষয়। আশা করি, বাংলাদেশ সেমিফাইনালে খেলবে এবং মনে হয় আমরা প্রত্যেকেই এখন একই স্বপ্ন দেখছি।

অনুলিখন : তোফায়েল আহমেদ

প্রকাশিত : ১১ মার্চ ২০১৫

১১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: