মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অর্থনৈতিক ঝুঁকির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি

প্রকাশিত : ১১ মার্চ ২০১৫
  • এডিপি বাস্তবায়ন, প্রাক্কলিত রাজস্ব আদায় ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ

এম শাহজাহান ॥ হরতাল-অবরোধের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আর্থ-সামাজিক খাতে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে কাজ শুরু করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন ও প্রাক্কলিত রাজস্ব আদায়ের মতো তিনটি বিষয় সামনে রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে অর্থমন্ত্রণালয়। এছাড়া স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের রূপান্তরের যে পরিকল্পনা রয়েছে তাও যাতে বাধাগ্রস্ত না হতে পারে সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির সাম্প্রতিক অবস্থান শীর্ষক রিপোর্টে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সরকার।

জানা গেছে, হরতাল-অবরোধের কারণে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন ও প্রাক্কলিত রাজস্ব আহরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোটের হরতাল-অবরোধ ও নাশকতার কারণে বাড়ছে অর্থনৈতিক ঝুঁকি। এগিয়ে যাওয়া অর্থনীতিকে পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাণিজ্যিক সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকা- দেশের অর্থনীতির বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র।

সূত্র মতে, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও গত ২০০৯-১০ অর্থ বছর হতে ২০১৩-১৪ পর্যন্ত সময়কালে গড়ে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ হারে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। প্রেক্ষিত পরিকল্পনার লক্ষ্যানুযায়ী জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব বিনিয়োগ বাড়ানো ও বিনিয়োগের উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে। ইতোমধ্যে বেসরকারী খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও নীতি সহায়তার মাধ্যমে বিকাশোপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ফলে জাপান, চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসছেন। এছাড়া বিনিয়োগ আকৃষ্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিবীক্ষণের জন্য আটটি অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত করা হয়েছে। এ প্রকল্পগুলো হচ্ছেÑ পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র প্রকল্প, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ, ঢাকা মাচ র‌্যাপিড ট্রানজিট, এলএনজি নির্মাণ প্রকল্প, মাতাবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ ও পায়রা সমুদ্র বন্দর নির্মাণ।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জনকণ্ঠকে বলেন, ফাস্ট ট্র্যাকের এ সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগও বাড়বে। তিনি বলেন, দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করতে হলে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন। আর বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন অবকাঠামো নির্মাণ। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে দারিদ্র্য ও অসমতা হ্রাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার সফলতা পেয়েছে। সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকারী অন্যতম দেশ হিসেবে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে বাংলাদেশ।

এদিকে, ভিশন-২১ বাস্তবায়নে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরে জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৪ সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়িত হয়েছে বরাদ্দের ২৮ শতাংশ। গত অর্থবছরে একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল বরাদ্দের ২৭ শতাংশ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর অধিকতর কার্যকারিতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়ানো এবং অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অত্যধিক ব্যয়ের প্রবণতা হ্রাসের লক্ষ্যে পরিকল্পনা কমিশন বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোটের চলমান হরতাল-অবরোধ ও নাশকতার কারণে দেশে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এডিপি বাস্তবায়নও কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, হরতাল-অবরোধে এডিপি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। শুধু এডিপি নয়, অর্থনীতির সব সূচকে এর প্রভাব পড়ে। তাই সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যানুযায়ী ভিশন-২১ বাস্তবায়নে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

এদিকে, ভিশন-২১ বাস্তবায়নে সরকার নির্ধারিত কর্মসূচী বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অর্থের। এ অর্থ আসে সরকারের রাজস্ব আয় থেকে। গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে এনবিআর রাজস্ব সংগৃহীত হয় ১ লাখ ৩ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯২ শতাংশ। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১ লাখ ১১ হাজার ৯৬১ কোটি বা লক্ষ্যমাত্রার ৮৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছে এনবিআর। অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। এর মূলেও রয়েছে হরতাল-অবরোধ ও নাশকতা। রাজনৈতিক এ কর্মসূচীর কারণে ট্যাক্স ও ভ্যাট আদায়ে পিছিয়ে পড়েছে সরকার।

ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরাও রয়েছেন চাপের মুখে। এ বাস্তবতায় ভিশন-২১ বাস্তবায়ন ও দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে নিয়ে যেতে হলে চলমান হরতাল-অবরোধ আইন করে হলেও বন্ধের দাবি করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এফবিসিসিআই। এ ছাড়া এফবিসিসিআইয়ের এ দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে দেশের সব বাণিজ্যিক সংগঠনগুলো। জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, অর্থনীতিকে পিছিয়ে দেয়ার জন্যই এ ধরনের কর্মসূচী। এটা অর্থনীতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে পারলে অনেকের অসৎ উদ্দেশ্য সাধিত হতে পারে। তাই হরতাল-অবরোধের নামে দেশে সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, মধ্যম আয়ের দেশ স্বপ্ন নয়, এটা বাস্তব। হরতাল-অবরোধ বন্ধ হওয়াসহ দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে সরকার ঘোষিত ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে চলে যেতে সক্ষম হবে।

প্রকাশিত : ১১ মার্চ ২০১৫

১১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: