রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

লন্ডনে তারেক একজন শরণার্থী, কোন পাসপোর্ট নেই তার

প্রকাশিত : ১১ মার্চ ২০১৫
লন্ডনে তারেক একজন শরণার্থী, কোন পাসপোর্ট নেই তার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেলেও এখন সেখানে তিনি শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছেন। ইতিমধ্যেই তাঁর পাসপোর্টের মেয়াদও ফুরিয়েছে। তবে তিনি পাসপোর্ট নবায়নের জন্য এখনও বাংলাদেশ সরকারের কাছে কোন আবেদন করেননি। এদিকে তারেক রহমানকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ব্রিটিশ সরকারকে দেয়া চিঠির জবাবের প্রতীক্ষায় রয়েছে সরকার। একাধিক কূটনৈতিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের বাংলাদেশী পাসপোর্টটির বৈধতা হারিয়েছেন। আর এই কারণেই দুই মাস আগে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনেও মালয়েশিয়া যেতে পারেননি তিনি। তারেক ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে যাওয়ার পর ওই বছরের ডিসেম্বরে তাঁর পাসপোর্ট সর্বশেষ নবায়ন করেন। মেয়াদ ২০১৩ সালে শেষ হয়েছে। এরপর তিনি পাসপোর্ট নবায়ন করতে কখনই লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করেননি বলে দূতাবাস থেকে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। আর তারেক রহমান এখনও ব্রিটিশ পাসপোর্টও পাননি।

তারেক রহমান শরণার্থী হিসেবে লন্ডনে অবস্থানের কারণে গত ২৪ জানুয়ারি ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তখন কুয়ালালামপুরে যেতে পারেননি। তিনি গত ছয় বছর ধরে যুক্তরাজ্যেই অবস্থান করছেন।

২০০৮ সালে জরুরী অবস্থার সময় গ্রেফতারকৃত তারেক জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাড়ি দিলেও সেখানে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচীতে তিনি অংশগ্রহণ করে আসছিলেন। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাসহ ডজনখানেক মামলা মাথায় নিয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেককে ফিরিয়ে আনতে অনেকদিন ধরেই তৎপরতা চালাচ্ছে বর্তমান সরকার।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একাধিকবার আহ্বানের ফলে যুক্তরাজ্য সরকারও তারেকের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। যদিও চিকিৎসাকেই অবস্থানের কারণ হিসেবে দেখিয়ে আসছেন তিনি। ২০০৮ সালে জরুরী অবস্থার সময় গ্রেফতারকৃত তারেক জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাড়ি দিলেও সেখানে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচীতে তিনি অংশগ্রহণ করে আসছিলেন। মামলায় পলাতক থাকা তারেকের বিভিন্ন বক্তব্যে বিতর্কের ঝড় বইলে এক পর্যায়ে বাংলাদেশের আদালত তার বক্তব্য-বিবৃতি প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

১৯৫৮ সালে গৃহীত শরণার্থী সনদের ওপর ভিত্তি করে তারেক এখন লন্ডনে শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছেন। তবে ওই সনদ অনুযায়ী শরণার্থী যে দেশে থাকে সেখানে কোন রাজনৈতিক তৎপরতায় অংশ নিতে পারে না। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যকে অবহিত করেছে বাংলাদেশ।

লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশন তারেকের বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতরসহ সংশ্লিষ্ট সব কার্যালয়ে তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্র দফতরে চিঠিও দেয়া হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী স্বাক্ষরিত চিঠি গত ১৬ জানুয়ারি লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়। সেখান থেকে চিঠিটি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, তারেক লন্ডনে যাওয়ার পর আর দেশে ফেরত আসেননি। তিনি আইনের চোখে একজন পলাতক আসামি। লন্ডনে তিনি (তারেক রহমান) তার অবস্থানের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছেন যার ফলে বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং স্বার্থ ক্ষুণœ হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালে যখন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন তখন তাকে হত্যা করার চেষ্টা মামলায় তারেক রহমান একজন অভিযুক্ত এবং বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন। গত বছর ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামাত জোট দেশে যে সহিংস তা-ব চালিয়েছে তার একজন প্রধান হোতা হিসেবে তিনি কাজ করেছেন এবং বর্তমান সরকারকে বিশৃঙ্খলা ও অবরোধ সৃষ্টির মাধ্যমে উৎখাত করার জন্য তারেক বিভিন্ন ধরনের ভিডিও বার্তা ও অন্যান্য উপায়ে ইন্ধন যুগিয়ে যাচ্ছেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, লন্ডনে তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজাকার, খুনি ও পাকবন্ধু’ ও ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের বেআইনি প্রেসিডেন্ট ও তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা হওয়া উচিত’ বলে মন্তব্য করে ইতিহাস বিকৃতির অপপ্রয়াস চালিয়েছেন।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তারেককে ফেরতের বিষয়ে দেয়া চিঠির জবাবের প্রতীক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকার। যুক্তরাজ্যের পাঠানো জবাবের প্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে সরকার।

এর আগে লন্ডনে একাধিকবার তারেক রহমান বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে ইতিহাস বিকৃত করে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে লন্ডনে বিএনপির এক জনসভায় তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজাকার, খুনি ও পাকবন্ধু’ বলে অভিহিত করেন। তার এ মন্তব্যে সরকারসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন মহলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই বক্তব্যে তিনি তার বাবা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক এবং প্রথম রাষ্ট্রপতি বলেও দাবি করেন। ওই বক্তৃতায় ‘স্বাধীনতার ঘোষণা আসার আগে ইয়াহিয়া খানকে প্রেসিডেন্ট মেনে নিয়ে সমঝোতা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু’ এমন মন্তব্যও করেন বিএনপির এই সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। এছাড়া গত বছর যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনিস্টারে বিএনপির কর্মসূচী পালনের জন্য হল ভাড়া নিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগও ওঠে। বিএনপির এক নেতার কাছ থেকে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে সেই হল ভাড়া পরিশোধ করা হয়। একই সঙ্গে ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকাও সরিয়ে ফেলা হয়। এ নিয়ে সে সময় বিএনপি থেকে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।

প্রকাশিত : ১১ মার্চ ২০১৫

১১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: