আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জয়কে অপহরণ ও হত্যার চক্রান্ত নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

প্রকাশিত : ৯ মার্চ ২০১৫, ১২:৪৬ এ. এম.
  • তদন্তের সর্বসম্মত দাবি

সংসদ রিপোর্টার ॥ বিপুল অর্থের বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল জাতীয় সংসদ। তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে বিএনপির কোন নেতা বা হাইকমান্ড জড়িত, নেপথ্যের খলনায়করা কারা এবং অর্থের যোগানদাতাদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশেও তদন্ত কার্যক্রম শুরুর জন্য সরকারের প্রতি সর্বসম্মত দাবি জানিয়েছেন সরকার ও বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যরা।

তাঁরা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার সুগভীর ষড়যন্ত্র থেকেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আদালতের রায়েই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যে জড়িত তা প্রমাণ হয়েছে। বিএনপি এক ঢিলে দুই পাখি মারতেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তা হলো তরুণ প্রজন্মের অহঙ্কার ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যা করে কুখ্যাত তারেক রহমানের পথকে প্রশস্ত করা। বাবা (জিয়াউর রহমান) ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-, মা (খালেদা জিয়া) ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার প্রচেষ্টা এবং এবার মা-ছেলে দু’জনে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদকে অপহরণ করে বড় ক্ষতি করার চেষ্টার সঙ্গে জড়িত। খুনীকে সুযোগ দিলে সে তার উদ্দেশ্য হাসিল করবেই। তাই খুনীদের আর ছাড় নয়, কঠোরহস্তে দমন করতে হবে।

সংসদ সদস্যদের দাবির প্রতি একমত পোষণ করে স্পীকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া তাঁর রুলিংয়ে বলেন, এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রটি খাটো করে দেখলে চলবে না। আইন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রায়ের কপি এনে তা পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনে তদন্ত করে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিএনপির হাইকমান্ডটি কে তাকে খুঁজে বের করা এবং বিচারের মুখোমুখি করা। একইসঙ্গে জাসদের মইনুদ্দীন খান বাদলের দাবিটিকেও যুক্তিযুক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন আত্মঘাতী মহিলাকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথাও ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনারও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে রবিবার রাতে পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁরা এসব দাবি জানান। অনির্ধারিত এ আলোচনার সূত্রপাত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। প্রায় পৌনে দু’ঘণ্টাব্যাপী এই অনির্ধারিত বিতর্কে অংশ নেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, এ্যাডভোকেট তারানা হালিম, জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজি ও জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান। আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

সরকারী দলের সিনিয়র নেতা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আলোচনার সূত্রপাত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের ঘটনা তুলে ধরে বলেন, বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে ৫ লাখ ডলার ঘুষ প্রদানের চুক্তি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি জাসাসের এক নেতার ছেলে রিজভী আহমেদ সিজার ধরা পড়েছে এবং বিচারে কারাদন্ড তার হয়েছে। আর সিজার নিজেই আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে সে এ কাজটি করেছে।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, পাপ বাপকেও ছাড়ে না। আমাদের দেশে বিচার হলে বলা হতো রাজনৈতিক। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে প্রমাণ হয়েছে, জড়িতদের শাস্তি হয়েছে। প্রমাণ হয়েছে এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ড জড়িত।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিএনপির হাইকমান্ডটি কে? কে অর্থের যোগান দিয়েছে, নেপথ্যে কে রয়েছে- তা অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, শয়তানের কাছে যারা বিবেক বিক্রি করে, তারা শয়তানের পক্ষেই কথা বলবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ছেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল বলেন, যুগে যুগেই মীরজাফরদের জন্ম হয়। জিয়া সরাসরি মীরজাফরদের বংশধর কিনা জানি না, তবে একাত্তরে এবং ১৫ আগস্টের ঘটনার আগে জিয়া কী করেছে তা তদন্ত করা উচিত।

সাবেক আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয় নতুন প্রজন্মের অহঙ্কার, একজন মেধাবী সন্তান। জয়কে ধ্বংস করতে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ২২ বার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও নতুন প্রজন্মের অহঙ্কার সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। জাসাসের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনের পুত্র রিজভী আহমেদ সিজার এই ঘটনার জন্য দায়ী। এই আমিন উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুৃ হচ্ছেন সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দিন আহমেদ। কে ৫ লাখ ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এর পেছনে কোন্ কোন্ বিএনপি নেতা জড়িত অবশ্যই তা খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

প্রকাশিত : ৯ মার্চ ২০১৫, ১২:৪৬ এ. এম.

০৯/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: