কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ৯০ কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা

প্রকাশিত : ৯ মার্চ ২০১৫
ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ৯০ কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা
  • জালিয়াত চক্রের ১১ সদস্য গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তাদের চেহারা-সুরত বেশ আকর্ষণীয়। বারবার ভাল করে দেখেও মনে সন্দেহ জাগেনি। কিন্তু খটকা লাগে অন্যত্র। এত টাকার এফডিআর হস্তান্তর করার জন্য কারও তো আমমোক্তারনামা তৈরি করার কথা নয়। অবাধ তথ্য প্রবাহ ও প্রযুক্তির যুগে প্রতি মুহূর্তেই ঢাকা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনায়াসে যোগাযোগ করা সম্ভব। এই একটা মাত্র সন্দেহের অবসান ঘটাতেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটু কৌশলী হয়। তাতেই ধরা পড়ে যায় রাজধানীর শক্তিশালী একটি ব্যাংক জালিয়াত চক্র। চক্রটি রবিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে ব্রাক ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৯০ কোটি টাকা উত্তোলনের সময় ধরা পড়ে। এ চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করা হয়। তারা হলেন- হাসিবুল হাসান (৩৪), মিরাজুল ইসলাম (৩৪), সাব্বির রহমান (২৪), মোঃ নজরুল হক (৪২), শাহাবুর রহমান বাবুল (৬৫), খোরশেদ আলম (৩৪), দেলোয়ার হোসেন (৪৫), সেলিম আহমেদ (৪৪), শাহজাহান (৫২), কাজী শাহাদত হোসেন (৫৭) এবং মাহবুবুর রহমান কাজল (৩০)।

পুলিশ জানায়-ব্র্যাক ব্যাংকের ওই শাখায় সাইফুল ইসলাম নামে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক ব্যক্তির বেশকিছু টাকা এফডিআর করা আছে। এ চক্রটি জাল আমমোক্তারনামা তৈরি করে ওই হিসাব থেকে টাকা তোলার চেষ্টা করছিল।

গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ কবীর জানান, রবিবার বেলা ১টার দিকে ব্র্যাক ব্যাংকের গুলশান শাখায় এ জালিয়াতির চেষ্টা হয়। কয়েক দিন আগে তারা টাকা তোলার জন্য কাগজ নিয়ে ব্যাংকে যোগাযোগ করে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে জানায়। আর তাদের রবিবার টাকা নিতে আসতে বলা হয়। সে অনুযায়ী দুইজন রবিবার দুপুরে কাগজপত্র নিয়ে ব্যাংকে হাজির হলে তাদের বলা হয়, এতো টাকা নেয়ার জন্য আরও বেশি লোক থাকা উচিত। তখন দলের আরও নয়জন সেখানে হাজির হয় এবং পুলিশ সবাইকে গ্রেফতার করে।

ব্যাংকের ওই শাখার ম্যানেজার শেখ মোহাম্মদ আশফাক সাংবাদিকদের বলেন, একটি প্রতারক চক্র একজন কাস্টমারের অনুপস্থিতিতে এফডিআর ভাঙিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। পুলিশের সহায়তায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের কেউ জড়িত কি-না এমন প্রশ্নে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার লুৎফুল কবির বলেন, এটাই তদন্ত করে দেখার বিষয়। আমরা একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছি।

এর আগে গতবছর ২৬ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের লালমাটিয়া শাখা থেকে গ্রাহকদের ৫৫ চেক চুরি হলে বিষয়টি গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে। ‘হারিয়ে যাওয়া’ এ সব চেকের মধ্যে একটি জমা দিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক থেকে টাকা তোলারও চেষ্টা হয়। এরপর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৪ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে চেক ও নথি খোয়া যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। গত বছর ডিসেম্ব^রে ব্যাংকের চেক জালিয়াতি করে বিভিন্ন এ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যাংক কর্মকর্তাসহ সাতজনকে গ্রেফতারও করা হয়। এবার ধরা পড়ে সবচেয়ে প্রভাবশালী চক্র।

প্রকাশিত : ৯ মার্চ ২০১৫

০৯/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: