আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রাচীন নিদর্শন ধ্বংস

প্রকাশিত : ৯ মার্চ ২০১৫

জঙ্গীরা ধর্মের দোহাই দিয়ে একের পর এক প্রাচীন প্রতœতত্ত্ব, মহামূল্যবান নিদর্শন ও সংগ্রহশালা ধ্বংস ও লুটপাট করে বিশ্ব ঐতিহ্যকে নিশ্চিহ্ন করার তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয়Ñ জঙ্গীরা প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন এসব প্রত্মসামগ্রী ধ্বংস করেই বসে থাকছে না; বরং এই বলে প্রচার করছে যে, এসব মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন ইসলামসম্মত নয়, তা ইসলাম ধর্মকে অসম্মান করে। গণমাধ্যমে এসব ধ্বংসলীলা প্রচার হওয়ায় বিশ্ববাসী উদ্বিগ্ন। তারা জঙ্গীদের ধ্বংসলীলার তীব্র নিন্দা করেন।

ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গীরা ইরাকের নিমরুদ শহরে প্রাচীন আসিরীয় সভ্যতার নিদর্শন ধ্বংস করতে শুরু করেছে। এ ঘটনার এক সপ্তাহ আগে জঙ্গীরা মসুল জাদুঘর গুঁড়িয়ে দেয়। জাদুঘরে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকের পুরাকীর্তি ছিল। আসিরীয় সভ্যতার এক অনন্য রতœ নিমরুদ। প্রাচীনকালে ইরাক, সিরিয়া ও তুরস্কের অংশজুড়ে ছিল আসিরীয় সভ্যতার বিস্তার। ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে দজলা নদীর তীরে ব্যবিলনীয় সভ্যতার অন্যতম নিদর্শনের এই শহর। ঐতিহাসিকদের দেয়া প্রদত্ত বিবৃতিতে জানা যায়, বিংশ শতকের প্রতœতাত্ত্বিক আবিষ্কারের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার হলো নিমরুদ। ১৯৮৮ সালে সেখান থেকে রতœ ও মূল্যবান পাথরের এক সংগ্রহ মাটি খুঁড়ে বের করা হয়। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে নিমরুদ শহরের এসব প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন পৃথিবীর মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিত। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে জঙ্গীরা একটি বুলডোজার দিয়ে নিমরুদ প্রাসাদ ধ্বংস করা শুরু করে। শহরটিতে ৩ হাজার বছরের পুরনো আসিরীয় সভ্যতার দুর্লভ নিদর্শন রয়েছে।

ইরাকের মসুল এখন আইএসের মূল ঘাঁটি। মসুল শহরের পাশেই সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে নিমরুদ শহর। আইএস জঙ্গীরা যুদ্ধের পাশাপাশি ইরাকের প্রসিদ্ধ নগরীর মূল্যবান প্রতœসম্পদ, ঐতিহ্য, নিদর্শন ধ্বংসের পরিকল্পনা নেয়। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানের তালেবান জঙ্গীরা ২০০১ সালে সে দেশের কাবুল জাদুঘরে রক্ষিত ৬০০০ মূর্তিসহ বামিয়ানের বিশাল বৌদ্ধ মন্দির থেকে শুরু করে প্রাচীন ঐতিহ্য, নিদর্শন ধ্বংস করে। একইভাবে আইএসের জঙ্গীরাও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি নেতা এডলফ হিটলারও হাজার হাজার বই-পুস্তক পুড়িয়ে দিয়েছিল। হাজার হাজার বছরের সভ্যতা, ঐতিহ্য, নিদর্শন মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায়। পশ্চাৎপদরা সামনের দিকে অগ্রসর হতে ভয় পায় যার ফলে তারা তা ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর থাকে। কিন্তু মানুষের সহজাত ধর্ম তো এগিয়ে যাওয়ার। এতসব ধ্বংসের পরও মানুষ অগ্রসর হবে এটাই সবার প্রত্যাশা।

প্রকাশিত : ৯ মার্চ ২০১৫

০৯/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: