কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

খালেদাকে গ্রেফতার না করার বিষয়ে বিদেশী চাপ নেই

প্রকাশিত : ৮ মার্চ ২০১৫
  • মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার না করার বিষয়ে বিদেশী কোন চাপ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন বিদেশী চাপের কাছে মাথানত করার মতো মানুষ নন।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ সব তথ্য প্রকাশ করে আরও বলেছেন, আন্দোলনের নামে দেশব্যাপী নাশকতার মতো ভীতিকর অবস্থা তাড়াতাড়িই কেটে যাবে। কারণ জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া কিছুতেই আন্দোলন হয় না।

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ সব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা এবং সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত সাংবাদিকরা দেশের সমসাময়িক রাজনীতি, বিভিন্ন ঘটনা ও সাগর-রুনি মামলার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি খোলামেলা উত্তর দেন।

গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল থাকলেও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে তাঁকে গ্রেফতার না করতে বিদেশী চাপ আছে কিনা, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার না করার বিষয়ে বিদেশী চাপ নেই। প্রধানমন্ত্রী বিদেশী চাপ বিশ্বাস করেন না। বিদেশী চাপে মাথানতও করেননি। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেছেন। আমরা আইন অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকা-ের ঘটনা উদ্ঘাটনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনা উদ্ঘাটনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তবে এটার তদন্ত দ্রুতই সম্পন্ন করা হবে।

সাগর-রুনিসহ রাজধানীর সিক্স মার্ডার এবং মাওলানা ফারুকী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই কেন? জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাগর-রুনি আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ। এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তবে আমরা রহস্য উদ্ঘাটন করবই। মাওলানা ফারুকী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। আসামি শনাক্ত হয়েছে।

এরপর সাংবাদিকরা অভিজিত হতাকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিজিত হত্যাকাণ্ডে অনেক লোক জড়িত ছিল। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ হত্যাকা-ের ঘটনায় ফারাবী ছাড়াও আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দ্রুতই তারা ধরা পড়বে।

এ সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, অভিজিত হত্যাকা-ের পর পরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই তদন্তের জন্য এসেছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার অযোগ্যতা আছে কিনা? জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমাদের গোয়েন্দাদের কোন অযোগ্যতা নেই। আমাদের গোয়েন্দারা ব্যর্থ হননি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অভিজিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। বাংলাদেশে তাঁদের একটি ইউনিটে এফবিআইর কয়েকজন কাজ করেন। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হতে এসেছেন এক-দু’জন। তাঁরা তদন্তে সহযোগিতা করবেন। তাঁদের দেশেও আমাদের এ্যাম্বাসিতে এনএসআই রয়েছে। তাঁরাও একইভাবে কাজ করেন।

রাজনৈতিক হরতাল-অবরোধে দেশে পেট্রোলবোমাসহ নানা সহিংসতা এক সপ্তাহের মধ্যে কমে আসার কথা বলা হলেও আবারও বেড়েছে। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আপনার মন্তব্য কী? জবাবে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ভয়াবহতা অনেক কমে গেছে, আরও কমবে। জনগণ এ ধরনের আন্দোলন চায় না। যেখানে গণমানুষের সম্পৃক্ততা নেই সেখানে আন্দোলন চলে না। সহিংসতা তাড়াতাড়িই বন্ধ হবে, হচ্ছে।

অভিজিত হত্যাকা-ের সময় পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোন অবহেলা ছিল কিনা, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অভিজিত হত্যাকা-ের ঘটনায় যুগ্ম-কমিশনারসহ আরও সাতজন কাজ করছেন। পুলিশের অবহেলা থাকলে তদন্তের পর তা জানা যাবে। আসলে হত্যাকা-টি পরিকল্পনামাফিক করা হয়েছে।

নাশকতাকারীদের ধরার সময় পুলিশ সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করে হয়রানি করছে, আবার উৎকোচ নিয়ে ছেড়েও দিচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে আসাদুজ্জামান বলেন, সন্দেহভাজন গ্রেফতারের সময় দুই-একজন নিরীহ লোক গ্রেফতার হতে পারেন। এটা অস্বাভাবিক নয়। তবে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযুক্ত না প্রমাণিত হলে ছেড়ে দেয়া হয়।

কিন্তু এ দায়িত্ব পালনের সময় যদি কোন পুলিশ কোন ধরনের উৎকোচ নেয় বা হয়রানি করে থাকে সেটাও তদন্ত হবে। পুলিশ উৎকোচ নেয় না- আমি তা বলব না। তবে যারা নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন রাজনৈতিক নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে না।

এ জবাবের বিপরীতে একটি উদাহরণ টেনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন- যশোরে বিএনপি নেতাকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যেগুলো জানানো হয় সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি আমি দেখব।

চলমান আন্দোলনের দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকরা পুলিশী হয়রানির শিকার হচ্ছে- এমন অভিযোগের বিপরীতে আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদান করে বলেন, গণমাধ্যমের কর্মীরা সত্যের সন্ধানে ঘোরেন। তারা যেন সুন্দর পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সে ব্যবস্থা রাখব।

মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে মহাখালী পর্যন্ত রাস্তাটুকু চলমান আন্দোলনের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায়ই এখানে গাড়িতে হামলা অগ্নিসংযোগ ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ ঘটছে। এটি এখন রাজধানীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রাস্তায় পরিণত। রাতে এ রাস্তার মাঝখানে ট্রাক দিয়ে দখল করে রাখা হয়। এতে পাবলিক যানবাহন চলতে পারে না। জনকণ্ঠের এ প্রতিনিধির এমন এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কিছু সমস্যা আছে। যেহেতু ট্রাক ও বাসের ঠাঁই দেয়ার মতো উপযুক্ত স্থানের অভাব, তাই যান চলাচলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য চিন্তা করা হচ্ছে- হয় মহাখালী টার্মিনাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়া, না হয় নতুন একটি ট্রাক টার্মিনাল তৈরি করা। তবে এত ভয়ঙ্কর নয়। আমার জানা মতে, দুটো খালি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে, যারা আগুন দিয়েছে তারাও গ্রেফতার হয়ে গেছে। এখন সব ঠিক হয়ে গেছে।

প্রকাশিত : ৮ মার্চ ২০১৫

০৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: