মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

এবার ইংলিশ বধের প্রতিজ্ঞা টাইগারদের

প্রকাশিত : ৭ মার্চ ২০১৫
এবার ইংলিশ বধের প্রতিজ্ঞা টাইগারদের

মিথুন আশরাফ ॥ চার বছর আগে ২০১১ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল তিন ‘ল্যান্ড’। আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও হল্যান্ড। তিন ‘ল্যান্ড’কেই হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বে তিন ‘ল্যান্ড’ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। এবারও কী তাহলে তিন ‘ল্যান্ড’ বধ করবে বাংলাদেশ? স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছে মাশরাফিবাহিনী। এবার ইংল্যান্ড বধের পালা। সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় এ্যাডিলেডে এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। যদি কোনভাবে ইংল্যান্ড বধ করা যায় তাহলে তো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্নই সফল হয়ে যাবে বাংলাদেশের! পারবে বাংলাদেশ তা করতে? অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড যেতে যেতেই বাংলাদেশের সময় অপচয় হয়ে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ায় আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ম্যাচ শেষে যেতে হয়েছে নিউজিল্যান্ডে খেলতে। নিউজিল্যান্ডে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে আবার যেতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়। শুক্রবারই মাশরাফিবাহিনীর এ্যাডিলেডে পৌঁছে যাওয়ার কথা রয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে আবার নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনে যেতে হবে। সেখানে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড হচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। খেলাটি হবে ১৩ মার্চ। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড যেতে যেতেই বাংলাদেশের সময় চলে যাচ্ছে। যেখানে শক্তিশালী দলগুলো এক ম্যাচ খেলার পর আরেক ম্যাচ সময় পাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সেই সময়টুকুও পাচ্ছে না। ইংল্যান্ডই যেমন সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছে ১ মার্চ। এরপর আবার মাঠে নামবে বাংলাদেশের বিপক্ষে। মাঝখানে ৭ দিন সময় পেয়েছে ইংল্যান্ড অথচ বাংলাদেশ সেই তুলনায় এক ম্যাচ শেষে তিন দিন মাত্র সময় পাচ্ছে। সেই সময়ের মধ্যে আবার একদিন চলে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসতে। শুক্রবার দিনটি এভাবেই গেছে। মাঝখানে দুইদিন শনিবার ও রবিবার শুধু অনুশীলন করার সুযোগ পাচ্ছে অথচ ইংল্যান্ড এক সপ্তাহর মতো অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছে। বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে নিজেদের ভালভাবে গুছিয়ে না নিলে কী আর হয়। আইসিসি এমনই নিয়ম করে দিয়েছে, সেই নিয়মে অল্প সময়ের ব্যবধানে ম্যাচ খেলা এবং অল্প দিন অনুশীলন করার ভেজালে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। এরপরও আশা আছে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে যে দুর্দান্তভাবে জয় তুলে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটারদের মধ্যে আলাদাভাবে আত্মবিশ্বাসও বেড়ে গেছে। যে বিশ্বাসই এখন ভরসা হয়ে ধরা দিচ্ছে। ইংল্যান্ড বধে তা ভালভাবেই কাজে দিতে পারে। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাই যেমন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি শেষে বলেছেন, ‘আমি অনেক খুশি। তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমান রান করেছে। ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিতে পেরেছেন তাঁরা।’ মাশরাফি এখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দিকেই তাকিয়ে আছেন, ‘আমরা আমাদের সেরাটা দিয়েই চেষ্টা করব (ইংল্যান্ডকে হারাতে)। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং ভাল করার চেষ্টা করব।’ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে নিউজিল্যান্ডকে নিয়েও খানিকটা ভাবছেন মাশরাফি। বলেছেন, ‘যদি তাদের (ইংল্যান্ডের) বিপক্ষে না পারি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পারতেই হবে।’ নিউজিল্যান্ড নিয়ে ভাবার কোন দরকারই পড়বে না, যদি ইংল্যান্ড বধ করা যায়। কিংবা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনভাবে (পরিত্যক্ত হওয়া, টাই হওয়া) ১ পয়েন্ট নিতে পারলেও হয়, বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করে নেবে।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৬ উইকেটের জয়ে যার অবদান সবচেয়ে বেশি, সেই ৯৫ রান করা তামিম অবশ্য শুধু ইংল্যান্ডকে নিয়ে ভাবতে রাজি নন। পরের দুটি ম্যাচ নিয়েই ভাবতে চান। সঙ্গে আফগানিস্তানের বিপক্ষে যে ইংল্যান্ডের ম্যাচ আছে, সেটিও তামিমের স্মরণে আছে, ‘আমি যা বুঝি, বাকি দুটি ম্যাচের একটি জিততেই হবে, যদি না ইংল্যান্ড আফগানিস্তানের কাছে হেরে যায়। এটুকু বলতে পারি, ইংল্যান্ড ম্যাচের জন্য এর চেয়ে ভাল প্রস্তুতি আর হতে পারত না।’ সত্যিই তাই। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দলের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে ব্যাটিং করল (তামিম ৯৫ রান, মাহমুদুল্লাহ ৬২ রান, মুশফিক ৬০ রান, সাকিব অপরাজিত ৫২ রান ও সাব্বির অপরাজিত ৪২ রান) তার তুলনা হয় না। বড় স্কোর তাড়া করতে গিয়ে মেজাজ, ধৈর্য না হারিয়ে যে খেলে জেতা যায়, তাই দেখাল বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ‘রিহার্সেল’ও হয়ে গেল এবং তা ভালভাবেই হলো।

কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের মধ্যে যে কোন একটি ম্যাচ জিততেই হবে বাংলাদেশকে অথবা আফগানিস্তানের বিপক্ষে যে ইংল্যান্ডের ম্যাচ রয়েছে, সেটিতে ইংল্যান্ড হারলেও হয় কিংবা বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ পরিত্যক্ত অথবা টাই হলেও হয়, বাংলাদেশ চলে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। এতসব হিসাবে না গিয়ে এখন ইংল্যান্ড বধ করা গেলেই তো হয়। বাংলাদেশের সামনে সেই ইংল্যান্ড বধের পালা এবার।

প্রকাশিত : ৭ মার্চ ২০১৫

০৭/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: