মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ১২৫ জঙ্গী সংগঠন সক্রিয়, চারটি আত্মঘাতী

প্রকাশিত : ৭ মার্চ ২০১৫
  • ১২ উৎস থেকে বার্ষিক আয় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা

রাজন ভট্টাচার্য ॥ স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানের ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িকতা চর্চাই বর্তমান বাংলাদেশে জঙ্গী উত্থান ও উগ্র মৌলবাদের মূল কারণ। তাছাড়া স্বাধীনতার ৪২ বছরেও দেশবিরোধীদের বিচার না হওয়ায় তাদের ঔদ্ধত্য বেড়েছে। সঙ্কীর্ণ স্বার্থে ধর্মের অপব্যবহার করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করাই তাদের মূল লক্ষ্য। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রকাশ্য ও গোপন জঙ্গী সংগঠনের ১২৫-এর বেশি চিহ্নিত গ্রুপের সক্রিয় অবস্থান বাংলাদেশে। এর মধ্যে আত্মঘাতী গ্রুপের সংখ্যা চারটির বেশি। গ্রুপের সদস্যের অনেকেই দেশে-বিদেশে অস্ত্র পরিচালনায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। রয়েছে বিভিন্ন আকৃতির কর্মীবাহিনী। মাদ্রাসা শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে অনেকের। ১২ উৎস থেকে জঙ্গী সংগঠনসমূহের বার্ষিক আয় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। এ মুনাফার সর্বোচ্চ ২৭ ভাগ আসে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা, লিজিং কোম্পানি থেকে। ২৩১ বেসরকারী সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের অর্থনীতির উত্থানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে তা বাংলাদেশের জন্য মহাবিপর্যয়ের কারণ হতে পারে বলে মনে করেন গবেষকরা। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, জঙ্গী সংগঠনগুলো পৃথক নামে থাকলেও লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক।

সর্বশেষ অসাম্প্রদায়িক লেখক অভিজিৎকে ঘোষণা দিয়ে হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে ফের তাদের শক্তি জানান দিয়েছে। তেমনি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদারতার বিষয়টিও অনেকটা স্পষ্ট। ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ফারাবী শফিউর রহমান গ্রেফতার হলেও পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে অভিজিৎকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। হত্যাকা-ের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তাছাড়া ত্রিশালে ফাঁসি ও যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত জেএমবি সদস্যদের কমান্ডো স্টাইলে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা দেশে জঙ্গী উত্থান ও তাদের তৎপরতার বিষয়টি আবারও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাল। ২০০১ সাল থেকে পরবর্তী সময়ে সারাদেশে জঙ্গী উত্থান ও কর্মকা- প্রমাণ করে তাদের অন্যতম টার্গেট বাংলাদেশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের ‘বাংলাদেশে মৌলবাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ বিষয়ক সাম্প্রতিক গবেষণায় জঙ্গী তৎপরতা, কর্মকা-, আর্থিক উৎস, কারণসহ সার্বিক চিত্র উঠে এসেছে।

মৌলবাদের বিকাশ ॥ অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে সমাজ গঠন, সাংস্কৃতিক কর্মকা- ও এর বিকাশ ছিল এ অঞ্চলের মানুষের জীবনচর্চার মাধ্যম। সময় বদলেছে। সৃষ্টি হয়েছে পরিবর্তনের আবহ। নানা কায়দায় ভর করেছে মৌলবাদ। গবেষণা বলছে, পূর্ব বাংলার ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে প্রথম বড় মাপের পশ্চাদমুখী রূপান্তর ঘটেছে গত শতাব্দীতে যখন ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ এলো। অর্থাৎ মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান আর হিন্দুদের জন্য হিন্দুস্থান। সাম্প্রদায়িক ধর্মভিত্তিক দেশ বিভাজনে ইসলাম ধর্মের উদারনৈতিক মানবিক ধারার সুফি-ওলামারা বাধা দিতে পারলেন না। মূল ধারার বিপরীতে পশ্চাদমুখী এ রূপান্তর হঠাৎ ঘটেনি। এর পেছনে জঙ্গীবাদী সুনির্দিষ্ট ধারা যেমন ওহাবী ইত্যাদি কাজ করছে। ফলে ইসলাম ধর্মেও মানবকল্যাণকামী সুফি-ওলামা চেতনার এক ঋণাত্মক উত্তরণ ঘটাল, যা ছিল উদারনৈতিক মানবতাবাদী তা রূপান্তরিত হলো সঙ্কীর্ণ জঙ্গীতে। উদ্দেশ্য, সঙ্কীর্ণ স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা। অর্থাৎ ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে এদেশে ইসলাম ধর্মের বিকাশে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। তা হলো, কৃষি উন্নয়নের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক বিকাশের ধারা থেকে সশস্ত্র মৌলবাদ ধারণাপুষ্ট রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের প্রবণতা; যা বর্তমান জামায়াতসহ উগ্র সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীর কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে প্রমাণ মিলছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, পাকিস্তানে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার এ ধারা দিন দিন বাড়তে থাকে। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সব হিন্দুকে হিন্দুস্থানী বানাতে তৎকালীন সামন্তসেনা শাসকদের চব্বিশ ঘণ্টা সময়ও লাগেনি। জারি করলেন শত্রু সম্পত্তি আইন। যেখানে হিন্দু মানেই শত্রু। রাষ্ট্র পরিতোষিত ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িকতার এমন নমুনা পূর্ব বাংলার ইতিহাসে এর আগে কখনও দেখা যায়নি। পাকিস্তান রাষ্ট্রের পুরো সময় রাষ্ট্র পরিচালন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনে ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িকতাকে পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিগত ৪২ বছর স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর কোন বিচার হয়নি। তাদের আস্ফালন দেখেছে বিশ্ববাসী। এটা পরবর্তীতে তাদের ঔদ্ধত্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। এ ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠী (কোন অর্থেই সুফি-ওলামাদের মতো ধার্মিক নন) উগ্র সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন তাদের কিছু অনুসারি বাংলাদেশে মৌলবাদী রাজনৈতিক-অর্থনীতির প্রতিভূ।

মৌলবাদের রাজনীতি ও অর্থনীতি ॥ মৌলবাদের অর্থনীতি ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতির এক ঘনীভূত প্রকাশ। গবেষণায় বলা হয়, মৌলবাদের অর্থনীতি অসাম্প্রদায়িক চেতনাবিরুদ্ধ। এক কথায় এ অর্থনীতি আমাদের মুক্ত স্বাধীনতা উদ্ভূত ’৭২-এর সংবিধানের মূল চেতনাবিরুদ্ধ। জনকল্যাণমুখী বিকাশ আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা এবং অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক মানস কাঠামো সৃষ্টির ব্যর্থতা থেকেই পুষ্ট মৌলবাদ ও তার অর্থনীতি। এ ব্যর্থতাই মৌলবাদের অর্থনীতির উৎপাদন ও পুনরুৎপাদনের প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এ ব্যর্থতাই ধর্মের নামে জোরজবরদস্তি করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে উদ্যত জঙ্গীবাদের সীমাহীন জঙ্গিত্বের প্রধান কারণ।

জঙ্গী কর্মকা-ে সংশ্লিষ্ট ও জঙ্গীবাদ সমর্থনকারী ইসলামীসংস্থাসমূহ ॥ গবেষণায় বিভিন্ন সংগঠনের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে- আফগান পরিষদ, আহলে হাদিস আন্দোলন, আহলে হাদিস যুব সংঘ (এএইচজেএস), আহলে হাদিস তবলিগা ইসলাম, আহসাব বাহিনী (আত্মঘাতী সুইসাইড গ্রুপ), আল হারামাইয়েন (এনজিও), আল হারাত আল ইসলামিয়া, আল ইসলাম মার্টায়ার্স ব্রিগেড, আল ইসলামী সংহতি পরিষদ, আল জাজিরা, আল জিহাদ বাংলাদেশ, আল খিদমত, আল কুরত আল ইসলামী মার্টায়ার্স, আল মারকাজুল আল ইসলামী, আল মুজাহীদ, আল কায়েদা, আল সাঈদ মুজাহিদ বাহিনী, আল তানজিব, আল উম্মাহ, আল্লার দল, আল্লার দল ব্রিগেড (আত্মঘাতী), আল ইয়াম্মা পরিষদ, আমানাতুল ফারকান আল খাইরিয়া, আমিরাত-ই-দিন, আমরা ঢাকাবাসী, আনজুমানে তালামজিয়া ইসলামীয়া, আনসারুল্লাহ মুসলামিন, আরাকান আর্মি (এএ), আরাকান লিবারেশন ফ্রন্ট (এএলপি), আরাকান লিবারেশন পার্টি, আরাকান মুজাহিদ পার্টি, আরাকান পিপলস আর্মি, আরাকান রোহিঙ্গা ফোর্স, আরাকান রোহিঙ্গা ইসলামী ফ্রন্ট, আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (এআরএনও), ইউনাইটেড স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন অব আরাকান মুভমেন্ট, ইবতেদাদুল আল মুসলিমা, ইকতেদুল তাহাল আল মুসলেমিন, ইকতেদুল তুহাল-আল-মুসলেমিন (আইটিএম), ইন্টারন্যাশনাল খাতমে নব্যুয়ত মুভমেন্ট, ইসলাহুল মুসলেমিন, ইসলামী বিপ্লব পরিষদ, ইসলামী জিহাদ গ্রুপ, ইসলামী লিবারেশন টাইগার অব বাংলাদেশ (আই্এলটিবি), ইসলামী প্রচার মিডিয়া, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ইসলামী সৈন্য, ইসলামিক সলিডারিটি ফ্রন্ট, ইয়ং মুসলিম, এবতেদাতুল আল মুসলামিন, এহসাব বাহিনী, ওয়ারেট ইসলামিক ফ্রন্ট, ওয়ার্ড ইসলামিক ফ্রন্ট ফর জেহাদ, কালেমায়ে-জামাত, কালেমা ই-দাওয়াত (অধ্যাপক আবদুল মতিদ এ দলের প্রধান), কতল বাহিনী (আত্মঘাতী গ্রুপ), খাতেমী নব্যুয়াত আন্দোলন পরিষদ বাংলাদেশ (এএনএপিবি), খাতেমী নব্যুয়াত কমিটি বাংলাদেশ, খিদমত-ই-ইসলাম, খিলাফত মজলিশ, খিতল-ফি-সাবিলিল্লাহ, খিলাফত-ই-হুকমত, ছাত্র জামায়েত, জাদিদ-আল-কায়েদ, জাগ্রত মুসলিম বাংলা, জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), জামাত-এশ-সাদাত, জামায়াত-উল-ইসলাম মুজাহিদ, জামাহ-তুল-মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি), জামাত-ই-মাদারাসিন বাংলাদেশ, জামাত-ই-তুলবা, জামাত-ই-ইয়াহিয়া, জামাত-ইল-ফালিয়া, জামাতুল ইসলাম মুজাহিদ, জামাতে আহলে হাদিস, জামেয়া মোহাম্মদিয়া আরাবিয়া, জামিয়াতি ইসলামী সলিডারিটি ফ্রন্ট, জামিয়াতুল ইয়াহিয়া উত তুরাজ, জঙ্গী হিকমত, জয়শে-মুস্তাফা, জয়শে- মোহাম্মদ, জামাতুল-আল-শাদাত, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব আরাকান, ন্যাশনাল ইউনাইটেড পার্টি অব আরকান (এনইউপিএ), নিজামায়ে ইসলামী পার্টি, ফারইস্ট ইসলামী, তা আমির উল দীন, তাহফিজ হারমাইন, তামির উদ্দিন বাংলাদেশ, তানজিম বাংলাদেশ, তানজিন-ই-খাতেমি নব্যুয়ত, তাওহিদী জনতা, দাওয়াত-ই-ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলাম রক্ষা কমিটি, বাংলাদেশ সন্ত্রাসবিরোধী দল, বিশ্ব ইসলামী ফ্রন্ট, মজলিশ ই তাফিজা খাতেমি নব্যুয়ত, মুজাহিদী তোয়াবা, মুসলিম লিবারেশন ফ্রন্ট অব বার্মা, মুসলিম মিল্লাত শরীয়াহ কাউন্সিল, মুসলিম জুদাহিদীন বাংলাদেশ (এমএমবি), মুসলিম রক্ষা মুজহাদিল, রোহিঙ্গা ইনডিপেন্ডেন্টস ফোর্স, রোহিঙ্গা ইসলামী ফ্রন্ট, রোহিঙ্গা প্যাট্রিয়াটিক ফ্রন্ট, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, রিভাইভাল অব ইসলামী হেরিটেজ (এনজিও), লিবারেশন মিয়ানমার ফোর্স, লুজমা মককা আল খায়েরা, শাহাদাত-ই-আল হিকমা, শাহাদাত-ই-নব্যুয়াত, শহীদ নাসিরুল্লাহ খান আরাফাত ব্রিগেড (আত্মঘাতী গ্রুপ), সত্যবাদ, সাহাবা সৈনিক, হরকত-ই-ইসলাম আল জিহাদ, হরকাত-ইল-জিহাদ, হায়েতুল ইগাসা, হেফাজেতে খাতেমী নব্যুয়ত, হিজব-ইত-তাহিরির, হিজবা আবু ওমর, হিজবুল মাহাদী, হিজবুল্লাহ আদেলী বাংলাদেশ, হিজবুল্লাহ ইসলামী সমাজ, হিজবুত-তাওহিদ ও হিকমত-উল-জিহাদ। সর্বশেষ আনসারউল্লাহ বাংলা টিম-৭ অভিজিৎ হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

জঙ্গী সংগঠন/প্রকাশ্য গোপন ॥ প্রকাশ্য ও গোপন জঙ্গী সংগঠনের ১২৫ চিহ্নিত গ্রুপ রয়েছে। তাদের অনেকে গোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করে, প্রকাশ্যে কার্যক্রম নেই। নেতাকর্মীর অনেকে অতীতে প্রধান পৃষ্ঠপোষকতা দানকারী দলটির সদস্য ছিল। এরা বড়-মাঝারি, ছোট-বিভিন্ন আকারের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, যাদের রয়েছে বিভিন্ন আকৃতির কর্মীবাহিনী। এদের অনেকেই দেশে-বিদেশে অস্ত্র পরিচালন-প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। মাদ্রাসা শিক্ষার একাংশের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে অনেকের। এদের মধ্যে হিযবুত তাহরির নিষিদ্ধ হলেও তাদের তৎপরতা আছে খোদ রাজধানীতেই। চলতি মাসেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত এই সংগঠনের পোস্টার দেখা গেছে।

অর্থনৈতিক ভিত্তি ও সামাজিক সংগঠন ॥ বাংলাদেশে মৌলবাদের অর্থনীতির বার্ষিক নিট মুনাফা প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। এ মুনাফার সর্বোচ্চ ২৭ ভাগ আসে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক, বীমা, লিজিং কোম্পানি থেকে)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক আট ভাগ আসে বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা থেকে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ১০ দশমিক আট ভাগ, ওষুধ শিল্প ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ১০ দশমিক চার ভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৯ দশমিক দুই ভাগ, রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে ৮ দশমিক পাঁচ ভাগ, সংবাদমাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে আসে সাত দশমিক আট ভাগ, পরিবহন যোগাযোগ ব্যবসা থেকে আসে ৭ দশমিক পাঁচ ভাগ। এর মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বার্ষিক আয় ৫৪০ কোটি টাকার বেশি। খুচরা-পাইকারি-ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে আয় ২১৬ কোটি টাকা, ওষুধ খাত থেকে আয় ২০৮ কোটি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮৪ কোটি, পরিবহন যোগাযোগ খাত থেকে বার্ষিক আয় দেড় শ’ কোটি টাকা। ২৩১ বেসরকারী সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাদের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিষিদ্ধ করা ও সরকারী তত্ত্বাবধানে পরিচালনের দাবি উঠেছে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে।

প্রতিরোধে করণীয় ॥ জঙ্গী ও মৌলবাদী কর্মকা- প্রতিরোধে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, সাম্প্রদায়িক জঙ্গিত্ব এখনই নির্মূল করা সম্ভব নয়। কারণ যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে তা কয়েকদিনে ভেঙ্গে ফেলা যাবে না। বাস্তবে যা সম্ভব তা হলো- ক্ষতি হ্রাসের কৌশল দ্রুত বাস্তবায়ন করা। স্বল্পমেয়াদী কৌশলসমূহের মধ্যে রয়েছেÑ ’৭১ সালে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ করেছেন, যারাই মৌলবাদী জঙ্গীদের গডফাদার তাদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন ও কার্যকর করা। জঙ্গীদের অর্থ ও অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে সরকারের যা কিছু জানা আছে তা অতিদ্রুত গণমাধ্যমে প্রকাশ করা, তাদের অর্থ ও অস্ত্রের উৎস বন্ধ করা, জঙ্গীদের সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াফত করা, বাজেয়াফতকৃত সম্পদ সরকারের তত্ত্বাবধানে এনে মৌলবাদী জঙ্গীদের কারণে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের পরিবারকে এবং পঙ্গুত্ববরণসহ যারা আহত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া।

সামাজিক-সাংস্কৃতিক মানব উন্নয়ন কর্মকা-ে জঙ্গীদের অর্থ ব্যয় করা। জঙ্গী কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, সরকারের মধ্য থেকে যারা জঙ্গীবাদকে উৎসাহিত করছে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া এবং সরকার থেকে তাদের বহিষ্কার করা। ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার আন্দোলন জোরদার করা। মানুষের মধ্যে জঙ্গীদের প্রকৃত চেহারা-লক্ষ্য-উদ্দেশ্য উন্মোচনে ব্যাপক প্রচার চালানো। জঙ্গীবাদ নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের মধ্যে রয়েছে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য বিলোপসহ অসাম্প্রদায়িক মানস কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা। সেই সঙ্গে লক্ষ্য বাস্তবায়নে অসাম্প্রদায়িক সকল মানুষের ঐক্যের বিকল্প নেই বলেও মনে করে বিশেষজ্ঞরা।

সাংগঠনিক কাঠামো ॥ সমাজের সকল সেক্টরে রয়েছে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সরাসরি যোগাযোগ। তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় কাঠামোর মধ্যে রয়েছে প্রধান পৃষ্ঠপোষক, প্রধান কার্যালয়, যার রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফ্রন্ট। যেমন- ছাত্র সংগঠন, কৃষক সংগঠন, শিল্প শ্রমিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও পেশাভিত্তিক সংগঠন। প্রকাশ্য কার্যক্রম হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সকল স্তরের নির্বাচনে অংশ নেয়া। সরকার-স্বায়ত্তশাসিত, ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রভাব বিস্তার-ক্ষমতা। পেশাজীবী সংস্থাসমূহে তাদের মতাদর্শে প্রভাবিত ব্যক্তির উপস্থিতি ও নিজস্ব গণমাধ্যম (সংবাদপত্র ও টেলিভিশন) বের করা। তাই এসব কিছুর বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত-প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রকাশিত : ৭ মার্চ ২০১৫

০৭/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: