মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

গরমে স্বস্তির পোশাক

প্রকাশিত : ৬ মার্চ ২০১৫
  • রেজা ফারুক

প্রকৃতিতে চলছে ঋতু বদলের তোড়জোড়। ধীরে ধীরে বসন্তের পর্দা নেমে আসার গুঞ্জন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। শান্ত, নিটোল নিসর্গ ক্রমশ ধারণ করছে গরমের উষ্ণতা। এই গ্রীষ্মময় উষ্ণতায় স্বভাবতই পাল্টে যাবে জীবনধারা। চৈত্রের খরতাপের স্পর্শ শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যখন অনুভূত হবে, তখনই একটু শীতল পরশের আকাক্সক্ষায় হাঁসফাঁস করে উঠবে মন। চৈত্রের বায়ুম-লে প্রচ- উত্তাপ সঞ্চায়িত হওয়ার প্রাক্কালে দৈনন্দিন জীবনযাপনের ধারায়ও আসবে পরিবর্তন। ফুরফুরে হাওয়া। আরামদায়ক পোশাক-পরিচ্ছেদ। ফ্যানের বাতাস। এসির শীতার্ত আমেজের জন্য গরমে শরীর ও মন ব্যাকুল হয়ে উঠবে বলে আগেভাগেই এ সব অনুষঙ্গ গরমকালে নিত্যদিনের দরকারি বিষয় হিসেবে জায়গা করে নেবে। পাশাপাশি সাজগোজ প্রসাধনী ব্যবহারেও আসবে চেঞ্জ। ঋতুবৈচিত্র্যের এই বাংলায় অনাদিকাল ধরে বছর জুড়েই চলে ঋতুর সঙ্গে মানিয়ে চলার নানা পূর্ব-প্রস্তুতি। চলতি গরমেও চলছে গরমকে রোধ করা কিংবা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলার আয়োজন। তবে সবচেয়ে চোখে পড়ছে গরমে স্বস্তিদায়ক পোশাকের ব্যবহারের বিষয়টা। নগরজীবনে তো বটেই। এমনকি গ্রামে-গঞ্জে গরমে আরামপ্রদ পোশাক পরিধানের আয়োজন যেন এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। বিশেষ করে নগরজীবনে একটু অন্যরকমভাবে গরমে কী কী ধরনের ফ্যাশনেবল পোশাক পরা যায় তার প্রস্তুতিটা প্রতিবছরেই প্রত্যক্ষ করা যায়। তবে যে বিষয়টা লক্ষ্যণীয় তাহলো-ফ্যাশন ট্রেডে পোশাকের ডিজাইন, আঙ্গিকের রূপবদল। এবারের গ্রীষ্মেও চলছে তেমনি আয়োজন। ফ্যাশন হাউসগুলো একটু নতুনমাত্রায় ড্রেসে বৈচিত্র্যপূর্ণ ডিজাইনকে উদ্ভাসিত করেছে ক্রেতার পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে। গ্রীষ্মকালীন পোশাকের উজ্জ্বলতায় আলোচিত হয়ে উঠেছে ঢাকার বিভিন্ন শপিং জোনের দেশীয় ফেব্রিক দিয়ে তৈরি ফ্যাশনেবল ড্রেস কালেকশন করা আউটলেটগুলো আর সে সব আউটলেটগুলোতে এরই মধ্যে গরমের ড্রেস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রতিনিয়ত বাড়তে শুরু করেছে ভিড়। গ্রীষ্মকালটা যেহেতু বাংলাদেশে বেশি সময় স্থায়ী হয়। সে কারণে আয়োজনটাও থাকে অন্য সময়ের থেকে একটু বেশি। বিশেষ করে টিনএজারদের প্রিয় ড্রেস যেহেতু টি-শার্ট তাই শাহবাগের আজিজ মার্কেটে তরুণ-তরুণীদের আসা-যাওয়াটা বেড়েছে আগের তুলনায় একটু বেশি। কেননা আজিজ মার্কেট থেকে বিভিন্ন ধরনের ফ্যাশনেবল টি-শার্ট সংগ্রহ করা যায় সহনীয় দামে। এ ছাড়া গরমে অফিস, ইউনিভার্সিটি এবং ঘরোয়া পরিবেশে মহিলাদের একটু স্বস্তি দায়ক শাড়ি কিংবা থ্রি-পিস হলে ভীষণ স্বস্তিতে থাকেন তাঁরা। তাই মহিলারাও ছুটছেন তাঁদের শাড়ির আউটলেটগুলোতে, যেহেতু টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়িটা বেইলী রোডে একটু বেশি পাওয়া যায় তাই বেইলীরোডে তাদের যেমন যাওয়া-আসাটা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি অন্যান শপিং জোনের শাড়ির শো-রুম থেকেও তাদের সুতি শাড়ি সংগ্রহ করছেন তারা। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির দামটা নাগালের মধ্যে বলে গরমে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির চাহিদাও বেড়ে যায় বহুগুণ।

এ তো গেল টি-শার্ট শাড়ির গল্প। এর সঙ্গে সুতির ফতুয়া, পাঞ্জাবি, শার্টসহ যে কোন আরামবাহী ড্রেস গরমকালে সবার কাছেই বেশ প্রিয়। তবে নগরজীবনে ফতুয়া, পাঞ্জাবি, শার্টেও এসেছে ফ্যাশনের নান্দনিক ছোঁয়া। যা পরলে পরে একজন ফ্যাশন সচেতন মানুষকে দারুণভাবে উৎফুল্ল করে। প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন হাউসগুলোতে এখনই চলছে গরমের পোশাক প্রদর্শনী এবং বেচা-বিক্রির ধুম। সব বয়সের নারী-পুরুষই সময় করে ছুটছেন গরমের পোশাক সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। যেন সারা গরমকালটা কাটে স্বস্তিতে, আরামে। বিশেষ করে পোশাকের বদৌলতে। তবে পোশাকটি যেন অবশ্যই শিল্পের স্পর্শে সিক্ত থাকে। তাছাড়া গরমকালটা হলো বহুমুখী স্বভাবের। প্রচ- গরমে শরীর হয়ে ওঠে অসহনীয় । পক্ষান্তরে, ঝড়-বৃষ্টিতে পথঘাট হয়ে যায় কর্দমাক্ত। এ ক্ষেত্রে মহিলাদেরকে নিদারুণ বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। ফলে তাদেরকে গরমে ঘামের বিড়ম্বনা এবং বৃষ্টিবাদলের সময় শাড়ি-থ্রি -পিসে কাদা লাগা এবং হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার উপক্রম হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। এ ধরনের পরিবেশের জন্য তাই ড্রেস এবং কী কালারের ড্রেস পরাটা উপযোগী সেদিকেও লক্ষ্য রাখাটা জরুরী।

ঘাম, ঝড়-বৃষ্টি ছাড়া ধুলোবালি উড়িয়ে নেয়া দমকা হাওয়ার মুখোমুখি যখন-তখন, যাকে তাকে হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। এ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখেও পোশাক পরা ও সাজসজ্জা করাটা একান্ত দরকার। সব মিলিয়ে গরমের সময়ে প্রশান্তি বিজাড়িত প্রহর উপভোগ করতে হলে চাই স্বস্তিকর সুতির পোশাক। তবেই হয়ত পুরো গ্রীষ্মকালটা বিড়ম্বনাহীন পার করাটা সহজতর হবে।

রঙের দিকটাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে গরমের পোশাক পরাটা যেমন ঠিক। একইভাবে বৃষ্টির দিনের সঙ্গে মানানসই পোশাক পরার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সুতির ফতুয়া, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস এবং টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি যেমন গরমে সবার কাছে অধিকমাত্রায় গ্রহণীয় পোশাক। তেমনি প্রিন্টের সুতি শাড়ির কদরও মহিলাদের কাছে কম নয়।

গরমের যে সুতির ড্রেস-তার সুতির ফতুয়া ৪০০ থেকে ১০০০, টি শার্ট ২০০ থেকে ৪০০, থ্রি পিস ৮০০ থেকে ২০০০, শার্ট ৬০০ থেকে ১২০০, পাঞ্জাবি ৪০০ থেকে তাঁতের শাড়ি ৪০০ থেকে ১৫০০, প্রিন্টের সুতি শাড়ি ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে সংগ্রহ করা যাবে।

অবশ্য ক্ষেত্র বিশেষে উল্লিখিত ড্রেসের দামে ভিন্নতাও রয়েছে। সর্বোপরি গ্রীষ্মের তাপদাহ থেকে সুরক্ষায় সুতির ড্রেসই সবার জন্য বিশেষ উযোগী সারা গরমকাল জুড়ে।

পোশাক : নকশা

প্রকাশিত : ৬ মার্চ ২০১৫

০৬/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: