মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

লাইবেরিয়ায় ইবোলা ভ্যাক্সিনের পরীক্ষা

প্রকাশিত : ৬ মার্চ ২০১৫

গত বছর পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইবোলা আতঙ্ক কিভাবে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই স্মৃতি এখনও তরতাজা। ইবোলা ভাইরাসকে কিন্তু আপাতত বাগে আনা গেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আর এ মাসের গোড়ায় লাইবেরিয়াতে রীতিমতো ব্যাপক আকারে ইবোলার টিকা নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও শুরু হয়েছে।

লাইবেরিয়াতে ইবোলার টিকা নিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। এই লাইবেরিয়াতেই ইবোলার প্রকোপ ছিল সবচেয়ে বেশি আর সেখানে এই মারণ-রোগের টিকা সফল হবে বলেই আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এ্যালার্জি এ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের অধিকর্তা ড. এ্যান্টনি ফওসি বলেছেন, এই ট্রায়াল শেষ হতে প্রায় বছরখানেক লাগবে এবং এটা কার্যকরী হবে বলেই তাঁদের আশা।

তিনি আরও জানান, প্রাণীদের ওপর প্রয়োগ করে এর ভালই সুফল মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন আর মালিতে স্বেচ্ছাসেবী মানুষদের ওপর প্রাথমিক ট্রায়ালেও দেখা গেছে এটা নিরাপদ।

‘ফলে এই পরীক্ষায় সাফল্যের হার ভাল হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। কিন্তু যতক্ষণ না- আমরা হাতেনাতে তার প্রমাণ পাচ্ছি, তার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়’, বলছিলেন ড. ফওসি।

ইবোলা ভাইরাসের এই টিকা তৈরি করেছে বিশ্বের নামী দুটি ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিএসকে আর মার্ক। পুরো ট্রায়ালটা চালানো হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে। নানা বিধিনিষেধ আর বহু শর্ত মেনে ভ্যাক্সিনগুলো নিয়ে যাওয়া হয়েছে লাইবেরিয়ার গোপন একটি স্থানে।

ইবোলার টিকা নিয়ে কাজ চলছে লাইবেরিয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রায় তিরিশ হাজার ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবী এই ট্রায়ালে অংশ নিতে এগিয়ে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ট্রায়ালের সঙ্গে যুক্ত লাইবেরিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী ড. স্টিভেন কেনেডি বিবিসিকে বলেছেন, এই স্বেচ্ছাসেবীরা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন। কারণ এই ভ্যাক্সিনে যে জাইরে স্ট্রেইনটা দেয়া হয়েছে সেটা একটা দুর্বল স্ট্রেইন।

তিনি বলছেন, ‘ইবোলা সংক্রমণ ঘটানোর কোন ক্ষমতা এর নেই। এর থেকে ইবোলা হবেও না। ফলে যে স্বেচ্ছাসেবীরা এই টিকা নেবেন, তাদের কারও ইবোলা হবে এটা একেবারেই অসম্ভব!’

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন লাইবেরিয়াসহ গোটা পশ্চিম আফ্রিকার মানুষ বুঝতে পারবেন, এই ট্রায়াল আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইবোলা যদি আবার কখনও ভয়ঙ্কর চেহারায় আবির্ভূত হয়, তখন তার মোকাবিলায় একটি কার্যকরী ভ্যাক্সিন হাতে থাকা আসলেই ভীষণ দরকার– যার ভিত গড়ে দিতে পারে এই ট্রায়াল।

প্রকৃতি ও বিজ্ঞান ডেস্ক

প্রকাশিত : ৬ মার্চ ২০১৫

০৬/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: