মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মানবশিশুর মতো শিখতে পারে কবুতরও

প্রকাশিত : ৬ মার্চ ২০১৫
  • এনামুল হক

কবুতরের মগজের পরিমাণ আমাদের কণি আঙ্গুলের মাথার চেয়ে বেশি নয়। তাই বলে তাদের বুদ্ধি কম, এ কথা বলার উপায় নেই। বরং দেখা গেছে তাদের মস্তিষ্ক যেভাবে কাজ করে, তা আমাদের থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়। মানবশিশু যেভাবে নতুন নতুন শব্দ শেখে, কবুতরও সেভাবে বিভিন্ন বস্তুকে শ্রেণীভুক্ত ও নামকরণ করতে পারে। সেটা শুধু গুটিকয়েক বস্তুকে নয়Ñ বরং প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট উভয় ধরনের বস্তুকে। এক সমীক্ষায় এ সব কবুতরকে ১২৮টি ছবিকে ১৬টি শ্রেণীতে বিভক্ত করতে দেখা এবং সে কাজটা তারা একই সঙ্গে করেছে। বিজ্ঞানীরা কবুতর নিয়ে যত বেশি গবেষণা করছেন, তত বেশি তারা জানতে পারছেন, কিভাবে ওদের মস্তিষ্ক কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক পরিচালিত নতুন এক গবেষণার প্রেক্ষাপটে গবেষক দলের অন্যতম মনস্তত্বের অধ্যাপক এড ওয়াসারম্যান বলেন, গবেষণার ফলাফল থেকে দেখা যায়, শিশুরা যেভাবে কথা বা শব্দ শেখে এবং কবুতর যেভাবে কথা বা শব্দের সমার্থক কিছু শেখে, তার মধ্যে সাদৃশ্য আছে।

ওয়াসারম্যান জীবজন্তুর বুদ্ধিবৃত্তির ওপর কয়েক দশক ধরে গবেষণা চালিয়ে আসছেন। তাঁর মতো গবেষকদের কাছে সর্বশেষ এই গবেষণাটি আরও একটি প্রমাণ যে, প্রাইমেট হোক, পাখি হোক আর কুকুরই হোকÑ জীবজন্তুরা একদা যেমন ধারণা করা হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান এবং তাদের কাছ থেকে বিজ্ঞানীদের আরও অনেক কিছু শেখার আছে। তিনি বলেন, কবুতরের ওপর পরিচালিত সর্বশেষ গবেষণার সূত্রটি ১৯৮৮ সালে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রকল্প থেকে নেয়া হয়েছে। সেখানে গবেষকরা আবিষ্কার করেন যে, কবুতররা চার শ্রেণীর বস্তুর মধ্যে পার্থক্য টানতে পারে। এবারের পরীক্ষায় গবেষকরা ‘নামের খেলার’ একটা কম্পিউটার সংস্করণকে কাজে লাগান। এখানে তিনটি কবুতরকে ১৬টি মৌলিক শ্রেণীর ১২৮টি বস্তুর সাদাকালো ছবি দেখানো হয়। সেই ১৬টি মৌলিক শ্রেণী হলোÑ শিশু, বোতল, কেক, গাড়ি, ক্রেকার, কুকুর, হাঁস, মাছ, ফুল, টুপি, চাবি, কলম, ফোন, নক্সা, জুতো ও গাছ। কবুতরগুলোকে এরপর দুই ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকের একটির ওপর ঠোকর মারতে হয়েছিলÑ ওই ছবির সঠিক প্রতীকের ওপর এবং বাদবাকি ১৫ শ্রেণীর ছবির মধ্যে থেকে ইচ্ছামতো বেছে নেয়া একটি বেঠিক ছবির ওপর। কবুতরগুলো এ কাজটা শেখায় সফলই শুধু হয়নি, উপরন্তু তারা অর্জিত শিক্ষাকে ১৬টি শ্রেণীর প্রত্যেকটির চারটি নতুন ছবির ক্ষেত্রেও বিশ্বস্ততার সঙ্গে স্থানান্তরিত করে।

কবুতর যে অন্যান্য পাখি এমনকি অনেক জীবজন্তুর চেয়েও বুদ্ধিমান, তা অনেক আগে থেকেই জানা। তাদের অনেক মেধা বা প্রতিভার মধ্যে একটা হলো, আপন নীড়ে ফেরার সহজাত প্রবৃত্তি। আর এই প্রবৃত্তির বলেই তারা চোখ বাঁধা অবস্থাতেও শত শত মাইল দূর থেকে নিজের বাড়ি ফেরার পথ ঠিকই খুঁজে নিতে পারে। মানুষের চেয়ে তাদের দৃষ্টিশক্তি প্রখর। সে কারণে মার্কিন কোস্টগার্ড এদেরকে সাগরে হারিয়ে যাওয়া কমলা রঙের লাইফ জ্যাকেটধারী ব্যক্তিদের সন্ধান করার কাজে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে এরা মার্কিন সেনাবাহিনীর বার্তা বাহকের কাজ করেছে। এভাবে তারা অনেকের প্রাণ বাঁচিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটিজিক তথ্য যুগিয়েছে।

অবশ্য গবেষকরা বলেন, কবুতর নিয়ে তাঁরা যে পরীক্ষাটি চালিয়েছেন, তা এক কম্পিউটার চালিত মডেল পদ্ধতি, যা যে কোন প্রাণীকে শেখানো যায়। সেটা যে কবুতরই হতে হবে, এমন কোন কথা নেই। কম্পিউটার স্ক্রিনের সঙ্গে ইন্টারএ্যাকট করতে পারে এমন যে কোন ধরনের প্রাণীর বেলায় এ পদ্ধতি কাজে লাগানো সম্ভব।

গবেষক দলের অন্যতম সদস্য মনস্তত্ববিদ বব ম্যাকমারে বলেন, শিশুরা যে পদ্ধতিতে শব্দাবলী শেখে, তা মানুষের ক্ষেত্রে অনন্য নাও হতে পারে। পূর্ববর্র্তী বা পটভূমিগত পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়াই শিশুরা হাজার হাজার শব্দাবলী শেখার সুবিশাল কাজের সস্মুখীন হয়। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ধারণা ছিল যে, এ ধরনের শেখার ব্যাপারটা শুধু মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; কিন্তু এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানবশিশুরা যে পদ্ধতিতে এই বিশাল সমস্যার সমাধান করে থাকে, তা আরও অনেক প্রজাতিও কাজে লাগাতে পারে।

সূত্র : এ্যানিমেল সায়েন্স

প্রকাশিত : ৬ মার্চ ২০১৫

০৬/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: