কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

জীবন নদীর ওপারে...

প্রকাশিত : ৬ মার্চ ২০১৫
  • নাজিব ওয়াদুদ

বিশ্বসাহিত্যের ঘনিষ্ঠ পাঠক, বিশেষত তুর্কী সাহিত্যবোদ্ধাদের ধারণা ছিল, সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার যদি কোন তুর্কী লেখক পান তো প্রথমে পাবেন ইয়াসার কামাল। বাস্তবে তা হয়নি। তাই বলে ইয়াসার কামালের অবস্থান টলে যায়নি। একজন মহান সাহিত্যিক হিসেবে দেশে-বিদেশে তিনি আজীবন জনপ্রিয়তা উপভোগ করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই মহান সাহিত্যিক মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর জন্ম ১৯২৩ সালের (মতান্তরে ১৯২২ সাল) ৬ অক্টোবর, সেই হিসেবে এই মৃত্যু অকালিক নয়। তবু তাঁর মৃত্যু সারা দুনিয়াজুড়ে ব্যাপক প্রচার লাভ করে। এতেই প্রমাণিত হয় একজন বড় লেখক হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা।

ইয়াসার কামালের প্রকৃত নাম কামাল সাদিক গোকসেলি। পিতার নাম সাদী, মার নাম নিজার। দক্ষিণ তুরস্কের ওসমানিয়া প্রদেশের হেমিটি (বর্তমান গোকসিদাম) গ্রামে তাঁর জন্ম। প্রথম মহাযুদ্ধের সময় তাঁর পিতামাতা কুর্দি এলাকা থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। ইয়াসার কামালের শৈশব-কৈশোর ছিল ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় জর্জরিত। খুবই অল্প বয়সে দুর্ঘটনাবশত ছুরির আঘাত লেগে তার ডান চোখটা নষ্ট হয়ে যায়। আর পাঁচ বছর বয়সে পিতাকে খুন হতে দেখেন মসজিদে নামাজপড়া অবস্থায়। এ ঘটনায় ১২ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁর বাকরুদ্ধ হয়েছিল। নয় বছর বয়সে তিনি পার্শ্ববর্তী গ্রামের স্কুলে ভর্তি হন। পরবর্তী লেখাপড়া করেছেন ওসমানিয়া প্রদেশের কাদরিলিতে, আত্মীয়দের বাড়িতে থেকে। মাধ্যমিক পড়াশোনা করেন আদানায়। লেখাপড়ার পাশাপাশি সে সময় তিনি তুলাধুনা কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। জীবিকার প্রয়োজনে তাঁকে তুলা কারখানার কেরানি, লাইব্রেরির কেরানি, কৃষিকর্মী, বিকল্প শিক্ষক, তুলা আহরণকারী, মাড়াইকল অপারেটর, ট্রাক্টর ড্রাইভার এবং ধানক্ষেতের সুপারভাইজারসহ কুড়ি ধরনেরও বেশি কাজ করতে হয়েছে। ধনী জোতদারদের ধানক্ষেতের সুপারভাইজার হিসেবে পাঁচ বছর কাজ করার সময় তাঁর অন্যতম দায়িত্ব ছিল গরিব কৃষকরা যাতে তাদের জমিতে সেচ দেয়ার জন্য পানি চুরি করতে না পারে। কথিত আছে, পাহারা দেয়ার বদলে বরং তিনি গরিব কৃষকদের শিখিয়েছিলেন কীভাবে রাতে সকলের অজ্ঞাতে পানি চুরি করতে হয়।

গ্রামের লোকদের সহযোগিতায় তিনি ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। বাধ্যতামূলক মিলিটারি সার্ভিস শেষ করে ইয়াসার কামাল ইস্তাম্বুলে ফ্রেঞ্চ গ্যাস কোম্পানিতে গ্যাস কন্ট্রোলারের চাকরি নেন। ১৯৪৮ সালে কাদিরলিতে ফিরে যান এবং আবার কিছুকাল ধানের খামারে কাজ করেন। তারপর বেশ কিছুকাল পত্রলেখকের কাজ করেন।

১৯৫০ সালে কমিউনিস্ট প্রোপাগা-া ছড়ানোর অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হন। কিছুদিন জেলে থাকার পর মামলা থেকে অব্যাহতি লাভ করেন। বেশ কিছুকাল বেকারত্ব নিয়ে কঠিন জীবনযাপন করতে হয় তাঁকে। শেষে সাংবাদিকতার কাজ পান। জুমহুরিয়াত কাগজে প্রকাশিত রিপোর্টাজ নিবন্ধ নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেন। অশ্রুতপূর্ব স্টাইল হিসেবে তাঁর লেখাগুলো বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করে। তাঁকে বার্ষিক জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন পুরস্কার-এ ভূষিত করা হয়। এ সময় তিনি নিজে একটি নিউজ সার্ভিস সংস্থা গড়ে তোলেন। ১৯৫১ সাল থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত তিনি সেটার পরিচালক ছিলেন।

১৯৬২ সালে তিনি টার্কিশ লেবার পার্টির সদস্য হন ইয়াসার কামাল। দলের নানান পদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৬৭ সালে এ্যান্ট নামে একটি মার্ক্সবাদী সাপ্তাহিক কাগজ প্রকাশ করেন। এই কাগজ নিয়ে তাঁকে মামলার ঝামেলা পোহাতে হয়। ১৯৭৩ সালে রাইটার্স সিন্ডিকেট গঠনের তিনি অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন, এবং এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম সভাপতি হিসেবে দু’বছর দায়িত্ব পালন করেন। কুর্দীদের ওপর সরকারী দমন অভিযানের প্রতিবাদ এবং কুর্দিশ ওয়ার্কার্স পার্টিকে সমর্থন করে নিবন্ধ লেখার অভিযোগে ১৯৯৫ সালে তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামি হতে হয়। কুড়ি মাস জেল হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।

এরপর থেকে তিনি পূর্ণকালীন লেখক হিসেবে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। নানান বিষয়ে লিখেছেন তিনি, কিন্তু উপন্যাসই তাঁর সাহিত্যচর্চার মূল ক্ষেত্র। তাঁর প্রথম দুটি উপন্যাসের পা-ুলিপি পুলিশ কেড়ে নেয়।

ইয়াসার কামাল ১৯৫২ সালে বিয়ে করেন। তাঁর স্ত্রী থালিডা সেরেরো ইস্তাম্বুলের এক ইহুদী পরিবারের মেয়ে, ওসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের প্রধান চিকিৎসক জাক মান্দিল পাশার নাতনি। তিনিই তাঁর স্বামীর ১৭টি বই ইংরেজীতে অনুবাদ করেন। ২০০১ সালে ৭৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হলে পরের বছর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তাঁর এই স্ত্রীর নাম আয়শা সামিহা বাবন। তিনি ইস্তাম্বুলের বিলগি ইউনিভার্সিটিতে গণসংযোগ বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।

ইয়াসার কামাল কৈশোরেই লোকসাহিত্যের প্রতি আকৃষ্ট হন। প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা করার সময় তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেন। তিনি লোককবিতা এবং গান সংগ্রহ ও রচনা করতেন এবং নিজে গাইতেন। আদানায় অবস্থানকালে ১৯৩৯ সালে তাঁর প্রথম লেখা, কবিতা, প্রকাশিত হয় স্বনামে। এরপর বিভিন্ন কাগজে তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে থাকে এবং লেখক-বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়। সে সময়ের দুই লেখক, তারা দুই ভাইও বটে, আবেদিন দিনো ও আরিফ দিনোর সঙ্গে তাঁর গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাঁর সাংস্কৃতিক মনোভূমি তৈরিতে এই দুজনের প্রভাব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আদানার লাইব্রেরিতে কেরানির কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে তিনি পড়ে ফেলেন প্রয়োজনীয় বইপত্র। এই সময় লেখক অরহ্যান কামালের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে।

ইয়াসার কামালের কথাসাহিত্যে প্রবেশ ১৯৪৪ সালে, মিলিটারি সার্ভিসে থাকার সময়, একটি গল্প লেখার মাধ্যমে। ১৯৫০ সালে ‘দ্য বেবি, দ্য শপকিপার’ এবং ‘মোহাম্মদ ও মোহাম্মদ’ গল্প লিখে সকলের দৃষ্টি কাড়েন। তাঁর লেখায় মানবিকতা, প্রকৃতি এবং আঞ্চলিকতার সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। এরপর তিনি ক্রমে ক্রমে বড় বড় গল্প ও উপন্যাস লিখতে শুরু করেন।

তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই আগিত্লার (১৯৪৩), লোককবিতা ও ব্যালাডের সঙ্কলন। ১৬ বছর বয়স থেকে এগুলো সংগ্রহ করেছেন তিনি। এসব লোকসাহিত্য তাঁর সাহিত্যের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করেছে সব সময়।

তিনি তাঁর নাম বদল করে ইয়াসার কামাল নাম ধারণ করেন জুমহুরিয়াত-এ সাংবাদিকতা শুরুর সময়। পরে তিনি এই নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন, চাপা পড়ে যায় তাঁর আসল নাম।

ইয়াসার কামালের প্রাথমিক সাহিত্যকর্মগুলোর পটভূমি চুকুরোভা এলাকার কৃষিজীবী মানুষের জীবন। সে সময়, বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে, তুরস্কে ব্যাপক শিল্পায়ন ঘটতে থাকে। সামন্তপ্রভু ও জোতদারদের মধ্যে শুরু হয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বের মাঝখানে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয় ক্ষুদ্র কৃষক সমাজ ও গ্রামবাসী লোকেরা। তাঁর বিশ্বখ্যাত রচনা মেমেদ, মাই হক উপন্যাসের নায়ক সামন্তপ্রভুদের অত্যাচার থেকে গ্রামবাসীদের রক্ষা করার জন্য পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সে তার অনুসারীদের নিয়ে সামন্তদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় এবং তাদের দখল থেকে পাঁচটি গ্রাম মুক্ত করে। গ্রামবাসীদের মধ্যে জমি বণ্টন করে দিয়ে সে আবার পাহাড়ে হারিয়ে যায় এবং লৌকিক নায়কে পরিণত হয়।

ড্রামিং আউট (১৯৫৫), ট্রিলজি দ্য উইন্ড ফ্রম দ্য প্লেইন (১৯৬০) ও আয়রন আর্থ, কপার স্কাই (১৯৬৩) একই ধরনের রচনা, অর্থাৎ কৃষকদের দুঃখ-কষ্ট এবং উৎপীড়নবিরোধী সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে লেখা। দ্য আনডাইং গ্রাস-এ দুঃখ-কষ্টের কথা থাকলেও তা উপস্থাপনের ভঙ্গিটি আলাদা। এখানে বাস্তবচিত্রণ পদ্ধতির বদলে মানবিক বিষয়গুলোকে তুলে ধরা হয়েছে। অন্য একটা ট্রিলজির মার্ডার ইন দ্য আয়রনস্মিথস মার্কেট এবং ইউসুফ, লিটল ইউসুফ খ-ে তিনি কালপরিক্রমায় সমাজের পরিবর্তনকে চিত্রায়িত করেছেন। কীভাবে সামন্তদের প্রভাব চলে গেল, রাজনীতির ক্ষমতাবলয়ে তাদের অনুপ্রবেশ ঘটল এবং দুর্নীতির গোড়াপত্তন হলো সর্বস্তরে সে কথা তিনি এসব উপন্যাসে বলেছেন। শিল্পায়ন ও পুঁজিবাদের আগ্রাসন অনগ্রসর কৃষিজীবী সমাজে যে বেকারত্ব এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় আমদানি করে তার চিত্র এঁকেছেন বেশ কটি উপন্যাসে।

সত্তর দশকে তিনি লেখার নতুন স্টাইল গ্রহণ করেন। বিষয়েরও পরিবর্তন ঘটান। গ্রাম ছেড়ে প্রবেশ করেন শহর এবং সমুদ্রতীরে। দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলার আবর্তে জীবন কতটা অশান্তিময় তার ছবি পাওয়া যায় এ সময়কার দ্য সাগা অফ এ সী-গাল (১৯৭৬), দ্য বার্ডস হ্যাভ অলসো গান : লং স্টোরিজ (১৯৭৮) প্রভৃতি উপন্যাসে।

লেখকের স্টাইল গড়ে উঠেছে আধুনিক উপন্যাসের গঠনরীতির সঙ্গে আনাতেলীয় পৌরাণিক কাহিনী, ব্যালাড, লোককাহিনী এবং লোকসঙ্গীতের সংমিশ্রণে। এই রীতি তাঁকে অনন্যতার স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। তিনি প্রতীকী ও পৌরাণিক জগত যেমন নির্মাণ করেন, তেমনি বাস্তব চিত্রায়ণ পদ্ধতিরও আশ্রয় নেন। প্রকৃতির বৈচিত্র্যকে উপস্থাপন করে তিনি তাঁর লেখাকে জীবন্ত ও কার্যকর করে তোলেন মুখের ভাষা, প্রবাদ, প্রবচন এবং গালি-গালাজ ব্যবহারের মাধ্যমে। বাস্তবতা, মানবিকতা এবং প্রকৃতির মধ্যকার স্বপ্নকে একটি পরস্পরসম্পৃক্ত শক্তি হিসেবে উপস্থাপনের সাফল্যই তাঁর স্টাইলকে অনন্য সাধারণতা দান করেছে। কাব্যময় ভাষা, অসম্ভব রকমের কল্পনাশক্তি এবং গল্প বলার আধুনিক ও মহাকাব্যিক স্টাইলকে সংমিশ্রিত ও আত্মস্থ করে তিনি সমকালের একজন মহান কথাশিল্পী হয়ে উঠেছেন।

মোস্তফা কামাল পাশা ধর্মনিরপেক্ষ আধুনিক তুরস্ক গড়ার অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে তুর্কী ভাষাকে আরবী ও ফারসী শব্দমুক্ত করতে গিয়ে ভাষাকে নীরস ও স্থবির করে তোলেন। এ সময় যে কজন লেখক তুর্কী ভাষাকে গতিশীল সাহিত্যিক ভাষা হিসেবে পুনর্গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন ইয়াসার কামাল সেসব অগ্রনায়কদের একজন।

ইয়াসার কামাল এখনও তুরস্কের জনপ্রিয়, সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক। তাঁর বইয়ের সংখ্যা তিরিশের অধিক। বিদেশেও, বিশেষত ইউরোপে, তাঁর জনপ্রিয়তা ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস মেমেদ, মাই হক চল্লিশটিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। অন্য অনেক রচনাও একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়ে চলেছে। তুরস্কের বাইরে তাঁর বইয়ের দেড় শতাধিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ তাঁর নাম সম্ভাব্য নোবেল পুরস্কারবিজয়ীদের তালিকায় ছিল। তাঁর কয়েকটি উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মিত হয়েছে। দেশে-বিদেশে অনেক পুরস্কার লাভ করেন ইয়াসার কামাল। দেশের ভারলিক প্রাইজ (১৯৫৬), ইলহান ইস্কান্দর এ্যাওয়ার্ড (১৯৬৬), দ্য ইন্টারন্যাশনাল ন্যান্সি থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল ফার্স্ট প্রাইজ (১৯৬৬), মাদারলি নভেল এ্যাওয়ার্ড (১৯৭৪), দ্য সাদাত সিমাভি ফাউন্ডেশন এ্যাওয়ার্ড ফর লিটারেচার (১৯৮৫), জেড হোমার পোয়েট্রি অ্যাওয়ার্ড (২০০৩), টার্কিশ পাবলিশার্স এ্যাসোসিয়েশন লাইফটাইম এ্যাচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড (২০০৩), প্রেসিডেন্সিয়াল কালচারাল এ্যান্ড আর্টিস্টিক গ্র্যান্ড প্রাইজ (২০০৮) ছাড়াও ফ্রান্সের প্রিক্স দু মিলিয়ুঁ লিভর এট্র্যাঞ্জার (১৯৭৯), প্রিক্স মন্ডিয়াল সাইনো ডেল ডুকা (১৯৮২), কমান্ডার ডে লা লিজিয়ন ডি’অনার ডে ফ্রান্স (১৯৮৪), জার্মানির পিস প্রাইজ অফ দ্য জার্মান বুক ট্রেড (১৯৯৭), ইটালির প্রিমিও ইন্টান্যাশনালি নোনিও (১৯৯৭), গ্রীসের সাভনোস প্রাইজ (২০০৩) প্রভৃতি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ফ্রান্স এবং তুরস্কের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করেছে।

তুর্কী সাহিত্যে উত্তর-আধুনিক রীতির আমদানিকারক অরহ্যান পামুকের আবির্ভাবের পর কেউ কেউ ইয়াসার কামালকে প্রাচীনপন্থী, ঐতিহ্যবাদী রীতির লেখক হিসেবে চিহ্নিত করার প্রয়াস পেয়েছেন। সে কারণেই তাঁকে শেষ পর্যন্ত নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়নি বলে অনেকের ধারণা। যাই হোক, নোবেল পাননি বলে ছোট লেখক হয়ে যাননি ইয়াসার কামাল। সমকালের অন্যতম বড় কথাশিল্পী হিসেবে তাঁর মর্যাদা তুরস্কে তো বটেই, বিশ্বসাহিত্যের পরিম-লেও অটুট হয়ে থাকবে।

প্রকাশিত : ৬ মার্চ ২০১৫

০৬/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: