মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন

প্রকাশিত : ৫ মার্চ ২০১৫, ০১:৩৮ পি. এম.
 কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া জামায়াত নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামান সুপ্রীমকোর্টের দেয়া চূড়ান্ত রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য আজ বৃহস্পতিবার আবেদন করেছেন। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৪৪টি গ্রাউন্ডে ৪৫ পৃষ্ঠার এই রিভিউ আবেদন করেন তার আইনজীবী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

গত বছরের ৩ নবেম্বর সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (বর্তমানে প্রধান বিচারপতি) নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপীল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কামারুজ্জামানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ- বহাল রাখে। বেঞ্চের অপর তিন বিচারপতি হলেনÑ বিচারপতি মোঃ আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণার সময় আদালত বলে, সর্বসম্মতিক্রমে কামারুজ্জামানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদ- প্রদান করা হলো। অর্থাৎ- চার বিচারপতির মধে তিনজনই কামারুজ্জামানের মৃত্যুদ- বহালের পক্ষে রায় দেন এবং একজন অপরাধ প্রমাণের বিষয়ে একমত হলেও মৃত্যুদ-ের বিরোধিতা করেন। তিনি কামারুজ্জামানকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি ৫৭৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে আপীল বিভাগ। ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে লালকাপড়ে মোড়ানো মৃত্যুপরোয়ানার সঙ্গে সুপ্রীমকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ও পৌঁছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। ওই দিন বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ মৃত্যুপরোয়না ও পূর্ণাঙ্গ রায় পড়ে শোনানো হয় কামারুজ্জামানকে। তিনি ওই সময় আইনজীবীদের সঙ্গে আলাপ করে রিভিউর সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছিলেন। কামারুজ্জামানের ইচ্ছা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি পাঁচজন আইনজীবী তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি রিভিউ করতে বলেন। এরপর বুধবার তাঁর আইনজীবীরা আবারও দেখা করে আজ রিভিউ করা হবে বলে জানান।

এর আগে ২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদ-সহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয় ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে কামারুজ্জামান আপীল করেন। আপীল বিভাগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রায়টি সিএভি (রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ) রেখেছিল সুপ্রীমকোর্ট। এরপর গত ৩ নবেম্বর আপীল বিভাগ চূড়ান্ত রায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ-ই বহাল রাখে। মাত্র কয়েক মিনিটে দেয়া আপীল বিভাগের এই সংক্ষিপ্ত রায়ে আসামি কামারুজ্জামানের আপীল আংশিক মঞ্জুর করা হয়। সর্বসম্মতিক্রমে বেঞ্চের চার বিচারপতিই কামারুজ্জামনকে দোষী সাব্যস্ত করলেও এক বিচারপতি তাঁকে মৃত্যুদ- না দিয়ে ভিন্ন সাজা দেন। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মৃত্যুদ-ের রায় আসে।

প্রকাশিত : ৫ মার্চ ২০১৫, ০১:৩৮ পি. এম.

০৫/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: