মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ম. ম. মোর্শেদ ॥ একজন গুণী শিল্পী

প্রকাশিত : ৫ মার্চ ২০১৫

নাটকে একজন অভিনয়শিল্পীর ভিন্ন ভিন্ন বৈচিত্রপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ থাকে। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হয় না। আরেকটু ভেঙ্গে বললে বলতে হয়, সিনেমায় একজন নায়ক সব সময় নায়কের চরিত্রে অভিনয় করে, একজন ভিলেন সব সময় নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করে। সেটা হয়ে যায় একঘেয়ে। নায়ক নায়িকার বাবা-মার চরিত্রগুলো নির্ধারিত ও নির্দিষ্ট। চলচ্চিত্রে একজনের মুখ দেখলে দর্শকরা বুঝে নেয় সে নায়ক না ভিলেন। কিন্তু নাটকের বিষয়টি ভিন্ন। নাটকে কিছু কিছু চরিত্র থাকে, যেগুলো প্রধান চরিত্র নয়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বা ছোট ছোট সময়ের উপস্থিতির পরও কিছু কিছু চরিত্র অনন্য হয়ে উঠতে পারে শিল্পীর অভিনয় দক্ষতার কারণে। বাংলাদেশের নাটাঙ্গনে কিছু অভিনেতা আছেন যারা প্রধান চরিত্রে অভিনয় না করলেও নিজ দক্ষতায় হয়ে ওঠেন নাটকের মূল আকর্ষণ। তেমনি এক সফল অভিনয়শিল্পী হচ্ছে ম. ম. মোর্শেদ। ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় দিয়ে নাটকে কাজ শুরু করলেও আজ তিনি নিজস্ব অভিনয় প্রতিভার গুণে হয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী। মেধা, মমন ও একাগ্রতা দিয়ে তিনি প্রতিটি চরিত্রকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। দর্শকরা যেন বার বার তাঁর উপস্থিতি দেখতে চায় প্রতিটি দৃশ্যপটে। ম. ম. মোর্শেদ যখন যে চরিত্রেই অভিনয় করেন না কেন, তাকে বাস্তবধর্মী ও প্রাণবন্ত করতে তার জুড়ি নেই। তবে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে তাঁর আগ্রহ বেশি। কখনও রিক্সাওয়ালা কখনওবা বিশ্ববিদ্যালয়েল শিক্ষার্থী। পাড়ার মাস্তান থেকে মসজিদের ইমাম। মুদি দোকানদার থেকে সিনেমার পরিচালক, ছিঁচকে চোর থেকে সাহায্যাকারী বন্ধু যখন যে চরিত্রেই অভিনয় করেন সেটাকেই বাস্তবধর্মী করতে পারেন তিনি। চরিত্রের সঙ্গে মিশে যাওয়া, একে প্রাণবন্তভাবে উপস্থাপন, দর্শকদের মধ্যে বিনোদন সবকিছুই দেয়ার ক্ষমতা রাখেন এই গুণী অভিনয়শিল্পী। মোর্শেদ অভিনীত প্রতিটি চরিত্র নিয়ে নিরীক্ষণ করা যেতে পারে। ইদানীং এই অভিনেতা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও সফল হয়েছেন।

কখন কিভাবে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হলেন- জানাতে চাইলে ম. ম. মোর্শেদ বলেন, ‘বরিশালে উদয়ন স্কুলে পড়ার সময় থেকেই অভিনয় জীবনের শুরু। স্কুল ছুটির পর প্রতিদিন বাসায় ফেরার পথে এক নাটকের দলের মহড়া দেখতে দেখতেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। একদিন দুই বন্ধু মিলে যুক্তি করলাম যে, আমরাও নাটকে অভিনয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করব। কিন্তু সেদিন বন্ধু আর এলো না, পরে একাই গেলাম মহড়াকক্ষে। কথা বলতে চাইলাম কিন্তু আগ্রহ দেখালেন না। পরে খুব দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের আগ্রহের কথা জানালাম। থিয়েটারের প্রধান ব্যক্তি জানালেন পরদিন আসতে। এভাবে কয়েক দিন ঘোরার পর সেই গ্রুপের সঙ্গে কাজ শুরু করি। আবৃতিও করেছি। ঢাকা এসেও মঞ্চে কাজ করেছি। এভাবে আস্তে আস্তে টিভি নাটকের সঙ্গে যুক্ত হই।

ইদানীং ম. ম. মোর্শেদ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সফল হয়েছেন। এই গুণী শিল্পীর প্রথম অভিনীত সিনেমা ‘নাচোলের রানি’। গত বছর মুক্তি পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত সিনেমা ‘একাত্তরের মা জননী’। এই সিনেমায় কাদের আলী নামের রাজাকারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। নানা কারণে চরিত্রটি আলোচিত। চরিত্রটিতে ম. ম. মোর্শেদ যুবক রাজাকার ও বৃদ্ধ রাজাকার চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন। এই ছবির কাহিনী লিখেছেন কথাশিল্পী আনিসুল হক, আর পরিচালনা করেছেন, শাহ্ আলম কিরণ।

দুটি সিনেমায় অভিনয় করলেও তিনি প্রায় ৭০টির বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন। তবে সংখ্যা দিয়েই একজন অভিনেতার মূল্যায়ন করা ঠিক নয়।

অভিনয় নিয়েই আছেন এবং থাকবেন ম. ম. মোর্শেদ। তিনি এটাকে শুধু পেশা হিসেবেই নেননি। তার ধ্যান, জ্ঞান ও সাধনা এই অভিনয়। ভবিষ্যতে নাটক লিখতে বা পরিচালনায় আসতে চান কিনা, তা সময় বলে দেবে বলে তিনি মনে করেন।

আবু সুফিয়ান কবির

প্রকাশিত : ৫ মার্চ ২০১৫

০৫/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: