কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

নাটক দেখার আমন্ত্রণ রইল...

প্রকাশিত : ৫ মার্চ ২০১৫
  • -নূনা আফরোজ

প্রাঙ্গণে মোরের আয়োজনে আগামীকাল থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হতে যাচ্ছে সাত দিনব্যাপী ‘দুই বাংলার নাট্যমেলা-২০১৫ : রবীন্দ্রনাট্য ও অন্যান্য’। উৎসবের প্রাসঙ্গিকতা এবং আয়োজন নিয়ে আনন্দকণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিনেত্রী-নির্দেশক-সাংগঠনিক পরিচালক এবং উৎসবের আহ্বায়ক নূনা আফরোজ। স্বাক্ষাতকারটি গ্রহণ

করেছেন অপূর্ব কুমার কু-ু

জনকণ্ঠ : দুই বাংলার নাট্যমেলা উৎসব আয়োজনের প্রেক্ষাপট নিয়ে বলুন।

নূনা আফরোজ : বিগত সময়ে সারাবছর নিয়মিত এবং নান্দনিক নাটক পরিবেশনের পাশাপাশি বাৎসরিক উৎসবের আয়োজনের মধ্যে দিয়ে একটা আনন্দঘন সময় এবং নতুন নতুন নাটক দেখার পরিবেশ আমরা তৈরি করি। এরই ধারাবাহিকতায় রবীন্দ্র নাট্যমেলা, কর্ণফুলী নাট্যোৎসব, সৈয়দ শামুসুল হকের ৮ নাটকের মঞ্চায়ন নিয়ে জাগো বাহে কণ্ঠে সবাই নাট্যোৎসব প্রভৃতি আয়োজন করেছি। এবারে আমরা রবীন্দ্রনাথের পাঁচটি নাটকসহ এপার বাংলা ও ওপার বাংলার মোট ১২টি নাটক নিয়ে ৬ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত মোট সাত দিনব্যাপী নাট্যোৎসব করতে যাচ্ছি। অত্যন্ত শ্রদ্ধা নিয়ে এবারে আমরা আমাদের উৎসব নাট্যাভিনেতা ও নির্দেশক খালেদ খানকে নিবেদন করছি।

জনকণ্ঠ : রক্তকরবী, মেয়েটি, হাওয়াই এবং তৃতীয় আরেকজনসহ মোট ওপার বাংলার চারটি নাট্য প্রযোজনাকে আপনারা আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কোন্ মান বিবেচনায় নাটক চারটিকে আমন্ত্রণ জানালেন।

নূনা আফরোজ : প্রথমত প্রাঙ্গণেমোর বিনিময়ে বিশ্বাসী না। ধরেন, অভিনেতা নির্দেশক গৌতম হালদারের দল ‘নয়ে নাটুয়া’ কখনই উৎসবের আয়োজন করে না। ফলে তাঁদের আমন্ত্রণ করার সুযোগ নেই। এতদসত্ত্বেও দুই বাংলার নাট্যোৎসবে আমরা তাঁদের আগেও আমন্ত্রণ জানিয়েছি এবং এই নাট্যমেলায় জানালাম। তার কারণ অত্যন্ত উঁচুমানের প্রযোজনা। বিনিময়ের আড়ালে সব সময় মান ধরে রাখা দৃশ্যত দৃশ্যমান হয় না। ফলে মান নিয়ন্ত্রণে আমরা সেখানকার উল্লেখযোগ্য প্রযোজনাগুলো স্বচক্ষে দেখি, যদি কোন নাটক নাও দেখে থাকি তবে বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব-দর্শকদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে তবেই আমন্ত্রণ জানাই। রক্তকরবীতে দেখা যাবে থিয়েটারের ফিল্মেটিক অবয়র, মেয়েটি নাটকে দেখা যাবে অভিনয়ের প্রতাপ, হাওয়াই নাটকে দেখা যাবে মেঘনাদ বধখ্যাত অভীনেতা গৌতম হালদারের উচ্ছ্বাস আর তৃতীয় আরেকজন নাটকে দর্শক দেখবে দুই বাংলায় একই স্ক্রিপ্টের ভিন্ন মঞ্চায়ন।

জনকণ্ঠ : সাধারণত প্রাঙ্গণেমোর উৎসব উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমিকে বর্ণিল সজ্জায় শোভিত করে। এবারের সজ্জায় বিশেষত্ব কী থাকবে।

নূনা আফরোজ : এমনিতেই প্রাঙ্গণেমোর দলের নামফলকের প্রচ্ছদ, সত্যজিৎ রায়ের আঁকা রবীন্দ্রনাথের অবয়বে। সেই থিম থাকবে। জাতীয় নাট্যশালায় খালেদ খান কর্নার করা হবে যেখানে খালেদ খানের ডকুমেন্টেশান প্রদর্শিত হবে। বহিরাঙ্গে দুটি মানব প্রতিকৃতির অবয়বে কমলা এবং হলুদ রঙ্গের মিশ্রণে নান্দনিক দৃশ্যসজ্জা তুলে ধরবে যা একাধারে উল্লাস, বিভাজনের বিপরীতে মিলন এবং মানব আত্মার মুক্তির বারতা ঘোষিত হবে। এসবের মাঝে অভিভাবক হয়ে দাঁড়াবেন অঙ্কনে-চিত্রনে এবং সজ্জায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

জনকণ্ঠ : উৎসব প্রকাশনায় কোন বিশেষত্ব থাকছে কিনা।

নূনা আফরোজ : স্বাভাবিকভাবে প্রতিটি প্রযোজনার সকল তথ্য অর্থাৎ নাটকের কাহিনী, অভিনেতা-অভিনেত্রী-কলাকুশনীর নাম, নির্দেশকের ভাবনা সেসব তো থাকছেই। এর বাইরে নাট্যকারদের ছবি এবং নির্দেশকদের থিয়েটার প্রফাইল ও থাকছে। উপরন্তু আমাদের লেখায় খালেদ খানকে স্মরণের প্রসঙ্গও থাকছে।

জনকণ্ঠ : এবারে নাট্যবিষয়ক সেমিনার আয়োজন বাদ পড়ল কেন।

নূনা আফরোজ : বিগত উৎসবগুলোতে সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়েছে। বিষয় কেন্দ্রিক প্রবন্ধ পাঠ এবং আলোচনা হতো। কিন্তু এবারে বিষয় হিসাবে তিনটি। রবীন্দ্রনাথ, অন্যান্য এবং খালেদ খান। ফলে কোন একটি নির্দিষ্ট দিকে যেতে না চাওয়ার কারণেই সেমিনারের অনুপস্থিতি।

জনকণ্ঠ : উভয় বাংলার নাট্যব্যক্তিত্বদের মাঝ থেকে বিশিষ্ট দু’জন ব্যক্তিত্বকে সম্মান প্রদান করা যেত কিনা?

নূনা আফরোজ : এবারেই আমরা সম্মাননা প্রদান করছি না তবে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে সম্মাননা প্রদানের ঘোষণা করতে যাচ্ছি। সামনের বছর থেকে সেরা নাটক প্রযোজনা এবং সেরা অভিনয় নিয়ে দুটি ক্যাটাগরিতে প্রদান করতে যাচ্ছি খালেদ খান পদক। প্রাঙ্গণেমোর প্রবর্তিত এই পদকের ঘোষণায় আমারা খালেদ খানের স্ত্রী মিতা হক এবং কন্যা জয়িতা খানকে আমন্ত্রণ জানাব।

জনকণ্ঠ : প্রাঙ্গণেমোর তাদের উৎসব আয়োজনে যাদের সহযোগিতায় কৃতজ্ঞ।

নূনা আফরোজ : প্রাঙ্গণেমোরের নিজ্বস্ব শক্তি, নিবেদিত কর্র্মীদের মিলিত প্রচ্ছেষ্টা, বন্ধু সদস্যদের আন্তরিকতা। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশান এবং সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে যারা প্রকত বন্ধুর মতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

জনকণ্ঠ : উৎসব আয়োজনে দলীয়কর্মীদের ভূমিকার মূল্যায়ন যদি করেন।

নূনা আফরোজ : ওরা ছাড়া প্রাঙ্গণেমোরের এই বিশাল ও বিস্তৃত উৎসব হওয়া সম্ভব না। মাস তিনের আগে থেকে শুরু করলেও গত ২৫-৩০ দিন ধরে প্রত্যেকেই প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে নিরলস এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে। ওরাই আমার শক্তি, ওরাই আমার থিয়েটার- আমার ভালবাসা।

জনকণ্ঠ : উৎসব অনুরাগী দর্শকদের উদ্দেশ্যে যে আহ্বান জানাতে চান।

নূনা আফরোজ : প্রাঙ্গণেমোর কখনও দর্শকদের বঞ্চিত করেনি, করবেও না। নিজেরা যেমন ভাল মানের নাটক দর্শকদের উপহার দেয় ঠিক তেমনি এবারের উৎসবেও দু’বাংলার ভাল ভাল নাটককেই আনা হয়েছে। ফলে অনুরাগী দর্শকদের কাছে রইল, প্রাঙ্গণেমারের পক্ষ থেকে নাটক দেখার আমন্ত্রণ।

জনকণ্ঠ : আপনাকে ধন্যবাদ।

নূনা আফরোজ : আপনাকেও ধন্যবাদ।

প্রকাশিত : ৫ মার্চ ২০১৫

০৫/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: