আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সিরাজ মাস্টার নিজ হাতে আমার চাচাকে জবাই করে হত্যা করে

প্রকাশিত : ৫ মার্চ ২০১৫
  • যুদ্ধাপরাধী বিচার
  • আহমেদ আলীর জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাটের তিন রাজাকার কসাই হিসেবে পরিচিত শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার, আব্দুল লতিফ তালুকদার, খান আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২৫তম সাক্ষী আহমেদ আলী শেখ জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দী শেষে আসামি পক্ষের সাক্ষীকে জেরা করেছেন। আজ পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেছেন, রাজাকাররা আমার চাচা কাঞ্চনসহ ১৯ জনকে ধরে নিয়ে আসে। এরপর আসামি সিরাজ মাস্টার নিজ হাতে আমার চাচাকে বেয়নেট দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। পরে অন্য রাজাকাররা আটককৃতদের ছোরা দিয়ে হত্যা করে। অন্যদিকে পটুয়াখালীর রাজাকার ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের নবম সাক্ষী রাখাল চন্দ্র ভক্ত জবানবন্দীতে বলেছেন, আসামি ফোরকান নিজ হাতে গুলি করে এলেম উদ্দিনকে হত্যা করে। জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে জেরা করার জন্য আজ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে আসামি পক্ষের আইনজীবী অষ্টম সাক্ষীকে জেরা করেন। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ আদেশগুলো প্রদান করেছেন।

বাগেরহাটের তিন রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সাক্ষী জবানবন্দী প্রদান করেছেন। আজ পরবর্তী সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। সাক্ষীকে জবানবন্দীতে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। অন্যদিকে আসামি পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট আবুল হাসান।

সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম আহমেদ আলী শেখ। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৬২/৬৩ বছর। আমার ঠিকানা, গ্রাম-কান্দাপাড়া, থানা ও জেলা-বাগেরহাট। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধেও সময় আমার বয়স ছিল ১৮/১৯ বছর। সে সময় আমি কৃষি কাজের পাশাপাশি ইট-বালির ব্যবসা করতাম। একাত্তরে ১৮ জুন শুক্রবার আমি বাড়ি থেকে গরু নিয়ে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী মাঠে যাই। সে সময় আমি শুনতে পাই পাকিস্তানী আর্মি ও রাজাকাররা আমাদের গ্রামে এসেছে। আমি বাড়িতে ফিরে আসলে আমার মা আমাকে জানায় যে, রাজাকাররা আমার চাচা কাঞ্চন শেখকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গেছে। মা আমাকে জানায় যে, আসামি সিরাজ মাস্টার আমার চাচাকে ধরে নিয়ে গেছে। আমার চাচা আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিল। আমার মায়ের এই কথার পরে আমি ভেতর পথে কান্দাপাড়া বাজারের দিকে রওনা হই।

সাক্ষী আরও বলেন, কান্দাপাড়া বাজারের ঝোপের পেছনে গিয়ে দেখি আমার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী শেখসহ অনেকেই আত্মগোপন করে আছে। সেখান থেকে আমি দেখতে পাই রাজাকাররা আমার চাচা কাঞ্চন শেখসহ মোট ১৯ জনকে ধরে নিয়ে মারধর করতে করতে বাজারে নিয়ে আসে। রাজাকারদের দলে আনুমানিক ২০/২৫ জন ছিল। সঙ্গে ১৫/২০ পাকিস্তানী সেনা ছিল। এরপর আসামি সিরাজ মাস্টার নিজ হাতে আমার চাচাকে বেয়নেট দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। পরে অন্য রাজাকাররা আটককৃতদের ছোরা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। ওই ঘটনায় আমার চাচ কাঞ্চন শেখের সঙ্গে আরও যারা নিহত হন তাদের মধ্যে আব্দুল আলী, মকবুল আলী ও সবুরকে চিনতাম।

ফোরকান মল্লিক।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পটুয়াখালীর রাজাকার ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের নবম সাক্ষী রাখাল চন্দ্র ভক্ত জবানবন্দীতে বলেছেন, আসামি ফোরকান নিজ হাতে গুলি করে এলেম উদ্দিনকে হত্যা করে। জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে জেরা করার জন্য আজ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে আসামি পক্ষের আইনজীবী অষ্টম সাক্ষীকে জেরা করেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছেন। সাক্ষীকে জবানবন্দীতে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল। এ সময় প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন মুন্নি উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম খান।

সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম রাখাল চন্দ্র ভক্ত। পিতা মৃত বিপেন ভক্ত। গ্রাম-কাকড়াবুনিয়া, থানা-মির্জাগঞ্জ, জেলা-পটুয়াখালী। আমি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। আমি কৃষি কাজ করি। ১৯৭১ সালের ৫ ভাদ্র বেলা আনুমানিক ২টার সময় কাকড়াবুনিয়া বাজারের দিকে থেকে গোলাগুলির শব্দ পাই। তখন আমি গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলাম। আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজাকার ফোরকান মল্লিকের নেতৃত্বে রাজাকাররা আমাদের গ্রামে আসে। এর পর আমি কাকড়াবুনিয়া বাজারে আসি। সেখানে এসে দেখি এলেম উদ্দিন গুলি বিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় লোকদের কাছে শুনতে পাই রাজাকার ফোরকান মল্লিকের গুলিতে এলেম উদ্দিন মারা গেছে। আরও শুনতে পাই ফোরকান মল্লিকের গুলি করে সনৎকুমারকে হত্যা করেছে। ফোরকান মল্লিক সেলিমের চাচা হাতেম আলীকে হত্যা করে এবং তার মেয়ে আলেয়াকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এছাড়া আসামি এলাকায় লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গেও জড়িত।

প্রকাশিত : ৫ মার্চ ২০১৫

০৫/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: