রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

নিজের সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সাঙ্গাকারার!

প্রকাশিত : ৪ মার্চ ২০১৫
  • বিউটি পারভীন

নিজের সঙ্গেই যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নিজেকেই নিজে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন ক্রমাগত। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং স্তম্ভ কুমার সাঙ্গাকারা। সে কারণেই হয়ত আরও বেশি জ্বলে উঠেছেন তিনি। চলমান একাদশ বিশ্বকাপে টানা দুটি শতক হাঁকিয়েছেন সাঙ্গাকারা। এ দুটি ম্যাচেই কোন বোলার তাঁকে সাজঘরে ফেরাতে পারেননি। থেকেছেন অপরাজিত। আগের ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হাঁকানো ২২তম সেঞ্চুরিটি ছিল তাঁর নিজের দ্রুততম। আর পরের ম্যাচেই তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে গিয়ে আরও দ্রুতবেগে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের ২৩তম শতক আদায় করে নিয়েছেন। ৩৭ বছর বয়সে তিনি এ দুটি শতক হাঁকিয়ে এখন ওয়ানডের ইতিহাসে সর্বাধিক শতক হাঁকানোর তালিকায় চার নম্বরে।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের ২৩তম সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সাঙ্গাকারা এখন এককভাবে ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বাধিক সেঞ্চুরির তালিকায় চার নম্বরে উঠে এসেছেন। তাঁর ওপরে শ্রীলঙ্কার সাবেক ওপেনার সনাথ জয়সুরিয়া। তিনি ২৮ শতক হাঁকিয়েছেন। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক রানের দিক থেকে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ৩৪ ম্যাচে ১২২৫ রান করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারাকে। সাঙ্গাকারার বিশ্বকাপ রান সমান ম্যাচে এখন ১২৫৯। তবে তাঁর ওপর আছেন অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং (১৭৪৩) ও ভারতের শচীন টেন্ডুলকর (২২৭৮)। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের ৪০০তম ম্যাচ খেলতে নামেন সাঙ্গাকারা। ইতিহাসে চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে এ মাইলফল ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। আর ৪০০তম ম্যাচে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি হাঁকানোর অনন্য রেকর্ডের মালিক হয়ে যান। এর আগে এই ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন ভারতের শচীন টেন্ডুলকর (৪৬৩) এবং সাঙ্গাকারার দুই স্বদেশী সনাথ জয়সুরিয়া (৪৪৫) ও মাহেলা জয়াবর্ধনে (৪৪৫*)। তবু শতকটা ছিল তাঁর নিজের অন্য যে কোন শতকের চেয়ে দ্রুতবেগের। ৭৩ বলে এদিন তিনি শতক ছুঁয়ে ফেলেন। ম্যাচে তিলকারতেœ দিলশানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে দেশের পক্ষে ২১০ রানের সেরা জুটি গড়েন তিনি। দু’বার নতুন জীবন পাওয়া তারকা এই ব্যাটসম্যান মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শেষ পর্যন্ত খেলেন হার না মানা ১০৫ রানের ইনিংস। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে বরাবরই সফল সাঙ্গাকারা। লাল-সবুজের দেশের বিরুদ্ধে পঞ্চম শতক তুলে নিয়ে সে স্বাক্ষর আরেকবার রেখেছেন তিনি।

২০০০ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ানডে অভিষেকের পর ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বিশ্বের বাঘা বাঘা বোলারদের শাসন করেছেন সাঙ্গাকারা। আগেই ষোষণা দিয়ে রেখেছেন বিশ্বকাপের পরই ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন। বিদায়ক্ষণটা তাই স্মরণীয় করে চলেছেন সাঙ্গাকারা। পরের ম্যাচে নিজেকেই ছাড়িয়ে গেলেন। এবার দ্বিতীয় উইকেটে তাঁর সঙ্গী হলেন ২৫ বছর ১৭১ দিন বয়সী তরুণ লাহিরু থিরিমান্নে। ২১২ রানের জুটি গড়ে ছাড়িয়ে গেলেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গড়া রেকর্ডটাকে। থিরিমান্নে শতক হাঁকিয়ে লঙ্কানদের পক্ষে বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হয়ে গেলেন। ২১২ রানের জুটিটা বিশ্বকাপে লঙ্কানদের পক্ষে যে কোন উইকেটে তৃতীয় সেরা। থিরিমান্নের এমন এক অর্জনের দিনেও আলো হয়ে থাকলেন অভিজ্ঞ সাঙ্গাকারা। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে আসা এ নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে এসে যেন আরও দুর্ধর্ষ হয়ে উঠেছেন। তিনিও শতক হাঁকান। বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর সবেমাত্র তৃতীয় সেঞ্চুরি। আগে খেলা বিশ্বকাপগুলোয় মাত্র একটি শতক ছিল তাঁর। এবার টানা দুই ম্যাচেই শতক হাঁকালেন। বুড়ো হাড়ে ভেল্কিটা অন্যরকমই দেখালেন এদিন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ওয়ানডেতে নিজের হাঁকানো ২৩ শতকের মধ্যে এটিই ছিল দ্রুততম। এদিন তিনি মাত্র ৭০ বলেই শতক ছুঁয়ে ফেলেন। আগের ম্যাচেই ৭৩ বলে শতক হাঁকিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৯ রানের ইনিংস খেলে সাঙ্গাকারা ওয়ানডের সর্বাধিক রানের তালিকায় পন্টিংকে ছাড়িয়ে উঠে গিয়েছিলেন দুই নম্বরে। সেটাকে যেন আরও বাড়িয়ে নিচ্ছেন তিনি। এবার সেঞ্চুরির রেকর্ড ছোঁয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন দ্রুতগতিতে। ক্যারিয়ারের ২৩তম শতক হাঁকিয়ে তিনি এখন এককভাবে চার নম্বরে। তাঁর ওপরে আছেন শচীন (৪৯), পন্টিং (৩০) এবং স্বদেশী জয়াসুরিয়া (২৮)।

চলতি বিশ্বকাপে তাঁর সঙ্গে সর্বাধিক সেঞ্চুরির প্রতিযোগিতা চলছে স্বদেশী দিলশান, ভারতের বিরাট কোহলি এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলের মধ্যে। দিলশান অবশ্য ২১ শতক হাঁকিয়ে অনেকখানি পিছিয়ে গেলেন। তবে কোহলি আর গেইল উভয়ের ওয়ানডে সেঞ্চুরি সংখ্যা ২২টি করে। এবার এ দু’জনকেই ছাড়িয়ে গেছেন সাঙ্গাকারা। বিশ্বকাপে সর্বাধিক শতক ৬টি হাঁকিয়েছেন শচীন, ৫টি আছে পন্টিংয়ের। আর চারটি করে হাঁকিয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলী, মাহেলা জয়াবর্ধনে, মার্ক ওয়াহ ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। তিন শতকের মালিক সাঙ্গাকারা এখন সবাইকে ছোঁয়ার অপেক্ষায়। যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন তাতে করে এ বিশ্বকাপেই সেটা করে ফেলতে পারেন তিনি। আর এসব কারণেই লঙ্কান শিবিরজুড়েই সাঙ্গাকারা বন্দনা। বিশ্বকাপে দেশের পক্ষে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করলেও থিরিমান্নে দাবি করেছেন বিশ্বসেরা সাঙ্গাকারা। আর নিজেকে বুড়ো দাবি করে সাঙ্গাকারা জানালেন এখনও তিনি উপভোগ করেন দীর্ঘসময় উইকেটে থেকে ব্যাটিং করা। দারুণ খুশি লঙ্কান অধিনায়ক ম্যাথুস। থিরিমান্নে ও সাঙ্গাকারার প্রশংসা ঝরেছে তাঁর কণ্ঠে। টানা দুটি অপরাজিত শতক হাঁকিয়ে বেশ পুলকিত সাঙ্গাকারা নিজেও। তিনি বলেন, ‘৩০০ রান তাড়া করতে নামা সবসময়ই বেশ চাপের। সেজন্য দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করা জরুরী।

আমি বুড়ো হয়ে যাচ্ছি, কিন্তু এখনও দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করাটা বেশ উপভোগ করছি।’ লঙ্কানদের পক্ষে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার পরও থিরিমান্নে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন সাঙ্গাকারার বিষয়ে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আমি মনে করি তিনিই বিশ্বের এক নম্বর। তিনি বেশি বেশি স্ট্রাইকে থাকছেন এবং অনেক বাউন্ডারি হাঁকাচ্ছেন। তাঁর ব্যাটিং আমাদের দলের জন্য খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখছে।’

প্রকাশিত : ৪ মার্চ ২০১৫

০৪/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: