মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সামনে প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড, তবে ভাবনায় ইংল্যান্ড

প্রকাশিত : ৪ মার্চ ২০১৫
  • রোকসানা বেগম

আর এক দিন পর বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশের সামনে আসছে আরেকটি ম্যাচ। বিশ্বকাপে এবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছোট্ট দল স্কটল্যান্ড হলেও পরীক্ষা বড়ই দিতে হবে। তবে এ ম্যাচটির চেয়েও বেশি ভাবনা যেন পরের ম্যাচটি নিয়ে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচটি জিতলেই যে, কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের।

স্কটল্যান্ড দুর্বল দলও। ইংল্যান্ড শক্তিশালী দল। তবে আপাতত সামনে যেহেতু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ, তাই স্কটিশদের নিয়েই ভাবতে রাজি বাংলাদেশ। পরের হিসেব পরে দেখা যাবে। বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাব্বির রহমান রুম্মন যেমন বলেছেন, ‘স্কটল্যান্ডকে হারানো কোন ব্যাপার না। আমাদের মধ্যে এ নিয়ে কোন ভাবনা নেই। যদি আমরা ঠিকমতো খেলতে পারি, ন্যাচারাল খেলাটা খেলতে পারি, তাহলে স্কটল্যান্ডকে হারানো কোন ব্যাপার না। আমাদের প্রস্তুতি সবসময়ই ভাল ছিল। ভাল থাকেও। একটা ম্যাচ হারের পর আমাদের জন্য পরবর্তী ম্যাচটা অনেক কঠিনই থাকে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা ম্যাচ। এই ম্যাচ আশা করছি আমরা জিতব ইনশাআল্লাহ।’

নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন সবসময়ই বাংলাদেশের জন্য কঠিন। ২০১০ সালে সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলেছে বাংলাদেশ। টেস্ট, ওয়ানডে, টি২০ মিলিয়ে (৫টি টেস্ট, ৬টি ওয়ানডে, ১টি টি২০) নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ১২টি ম্যাচ খেলে। সব ক’টিতে হেরেছে। এ কন্ডিশনে আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতা শক্তিশালী দলও আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরেছে। সাব্বির বলেন, ‘প্রতিবারই বিশ্বকাপে ছোট্ট দল বড় দলকে হারায়। ক্রিকেটে সবকিছুই বাস্তব। যদি আমরা শতভাগ দিতে পারি, কোন না কোন বড় দলকে হারাতে পারব।’

সাব্বির বলছেন, যদিও স্কটল্যান্ডকে হারানো কোন ব্যাপার না, পেসার শফিউল ইসলাম সেই পথে হাটেননি। প্রতিপক্ষ দুর্বল হলেও সমীহই করছেন। বলেছেন, ‘আমাদের অবশ্যই ভাল খেলতে হবে। এত সহজ হবে না। স্কটল্যান্ড এ সমস্ত কন্ডিশনে খেলে অভ্যস্ত। আমরা নাম অনুযায়ী যদি খেলতে পারি ভাল হবে। সামনে যে খেলাটা আছে; সেটা নিয়েই এখন ভাবতে হবে।’

এক একটি করে ম্যাচ আসছে বাংলাদেশের সামনে, প্রতিপক্ষ পুরাতন পাচ্ছে, চেনা পাচ্ছে; তবে মাঠ নতুনই ধরা দিচ্ছে। এবার বৃহস্পতিবার ভোর চারটায় বাংলাদেশের সামনে সেই পুরনো প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। কিন্তু মাঠ নতুন, নেলসনের সেক্সটন ওভাল। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ এক এক করে তিনটি ম্যাচ খেলে ফেলেছে। প্রথমটিতে ক্যানবেরার মানুকা ওভালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১০৫ রানে জিতেছে, দ্বিতীয়টিতে ব্রিসবেনের গাব্বায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছে। তৃতীয় ম্যাচটি বাংলাদেশ খেলেছে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরেছে ৯২ রানের বড় ব্যবধানে।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সবাই জেতার আশা করছে। করাটাই স্বাভাবিক। এবার বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত স্কটল্যান্ড তিনটি ম্যাচ খেলেছে। একটিতেও জিততে পারেনি। এবার কেন? এর আগে দুইবার (১৯৯৯ সালে ৫টি ম্যাচ, ২০০৭ সালে ৩টি ম্যাচ) বিশ্বকাপ খেলে কোন জয়ই তুলে নিতে পারেনি স্কটল্যান্ড। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মোট ১১টি ম্যাচ খেলে জয়ের খাতা শূন্য স্কটল্যান্ডের। টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোতো আছেই, হল্যান্ড, আফগানিস্তানের কাছেও হেরেছে তারা। বাংলাদেশতো সেই তুলনায় অনেক ভাল দল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বলতে গেলে ‘বড়’ দলও।

এ দলটির বিপক্ষে এর আগে বাংলাদেশও যে চারটি ম্যাচ খেলেছে, একটি পরিত্যক্ত হয়েছে; তিনটিতেই জিতেছে। জয়গুলো খুব সহজভাবেই মিলেছে। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথমবার খেলে। প্রথমবারেই ২২ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে যেটি বাংলাদেশের প্রথম জয়ও ছিল। এরপর ২০০৬ সালে দেশের মাটিতে পরপর দুই ম্যাচে ৬ উইকেট ও ১৪৬ রানের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এসব হিসেবে স্কটল্যান্ড সহজ প্রতিপক্ষই। বাংলাদেশও ম্যাচটিতে জিতবে ধরেই নেয়া যায়। তবে দল যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাজেভাবে হেরেছে, বাজে ফিল্ডিংয়ের খেসারত দিয়েছে; এমনটি হলে বিপদ যে আবারও ঘনিয়ে আসবে না, তা কেউই বলতে পারে না। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাই এ আক্ষেপ করেছেন। বলেছেন, ‘আমরা প্রচুর ফিল্ডিং প্র্যাকটিস করেছি। তারপরেও এমন বাজে ফিল্ডিং হয়েছে। কোন অযুহাতই এর পেছনে চলে না। আশা করছি যেন এ থেকে দ্রুতই বের হতে পারি। সেটিই আমাদের জন্য ভাল হবে।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াতেই খেলেছে। নিউজিল্যান্ডে খেলেনি। এবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলবে। বাংলাদেশের সামনে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার সুযোগ কম থাকলেও বিশ্বকাপের শুরু থেকেই সেই সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। এখন পর্যন্ত যে তিনটি ম্যাচ স্কটল্যান্ড খেলেছে, তাদের সব ক’টি ম্যাচ হয়েছে নিউজিল্যান্ডেই। অথচ বাংলাদেশ মাত্র চার দিন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। হাতে থাকা সময় এখন বাংলাদেশের সামনে অনেক কঠিন পরিস্থিতিরই তৈরি করে দিয়েছে।

এ কঠিন পথে যদি বাংলাদেশ হোচটও খায়, কোয়ার্টার ফাইনাল ওঠার পথ খোলাই থাকবে। পরের ম্যাচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই ম্যাচটিতে শুধু জিতলেই হবে। শুধু ইংলিশদের হারালেই বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার স্বপ্নপুরণ হয়ে যাবে বাংলাদেশের। কিভাবে? বাংলাদেশ সামনের তিন ম্যাচের (স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ বাকি) মধ্যে যে কোন দুটিতে জিতলেও যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে, আর শুধু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলেও যাবে। তিন ম্যাচের দুটি জিতলে পয়েন্ট হবে ৭। ইংল্যান্ডের বাকি (বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বাকি) থাকা ২ ম্যাচ জিতলে হবে ৬। আর যদি শুধু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে বাংলাদেশ, পয়েন্ট হবে ৫। ইংল্যান্ড আরেকটি ম্যাচ জিতলে হবে ৪। বাংলাদেশ তখন কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করে নেবে। আর তাই সামনের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড হলেও পরের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে নিয়েই ভাবনা থাকছে বাংলাদেশের।

প্রকাশিত : ৪ মার্চ ২০১৫

০৪/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: