মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তদন্তে এফবিআই

প্রকাশিত : ৪ মার্চ ২০১৫

অভিজিৎ হত্যাকা-ে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সেই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ের ভেতর লেখক ও ব্লগার ড. অভিজিৎ রায়ের হত্যার ঘটনায় এই সিদ্ধান্ত অপরাধী ধরার ব্যাপারে আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের সার্বিক সহযোগিতার বিষয়টি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সে কথা বলাই বাহুল্য। বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর এফবিআই তদন্তে এলেও সংশ্লিষ্টদের সার্বিক সহযোগিতার অভাবে তদন্ত এগোতে পারেনি। তখন একজন বিচারপতিকে নিয়ে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনও গঠন করা হয়। কমিশন একটি রিপোর্টও পেশ করে। কিন্তু রিপোর্টটি জনসম্মুখে প্রকাশ করেনি তৎকালীন সরকার। বরং শুরু থেকেই এ ঘটনার দায় এড়াতে বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়েছে তারা। এখানে উল্লেখ্য, হুজির জঙ্গীরা সিলেট হযরত শাহজালাল (র) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালায়। এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বাংলাদেশে এসে তদন্ত করে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের অনুসন্ধানে হুজি প্রধান মুফতি আবদুল হান্নানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসে।

সাম্প্রতিককালে এফবিআইয়ের দুটি তদন্ত থেকে উপকৃত হয়েছে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুরের ব্যাংকে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেকের নামে ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকার সন্ধান দেয় এফবিআই। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা টাকা উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনায় এফবিআই মূল সহায়তা করে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া পাচার করা টাকা উদ্ধার সম্ভব হতো না।

অভিজিৎ হত্যাকা-ের তদন্ত থেমে নেই। হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত সিআইডির ক্রাইম সিনের সংগ্রহ করা অভিজিতের মাথার মগজের কিছু অংশসহ নানা আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বাংলা একাডেমি থেকে সিসি ক্যামেরা জব্দ করে ধারণকৃত ফুটেজের পর্যালোচনা চলছে। সর্বশেষ তদন্তে সাফল্য এসেছে হত্যার দায় স্বীকার করে স্ট্যাটাস দেয়া শফিউর রহমান ফারাবীকে গ্রেফতারের ঘটনায়।

সুতরাং এটা মেনে নেয়া যায় যে, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট তদন্তে প্রাথমিক অগ্রগতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশিক্ষিত ও পেশাদার সংস্থা এফবিআই তদন্ত শুরু করলে নিশ্চয়ই আরও কিছু পয়েন্ট সামনে চলে আসবে, যা আততায়ী চক্রকে শনাক্ত করতে বিশেষ সহায়তা করতে পারে। দেশবাসী আশা করে অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড তদন্তে বিদেশী তদন্ত সংস্থাকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। মনে রাখা জরুরী, অভিজিতের খুনীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়টি বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশিত : ৪ মার্চ ২০১৫

০৪/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: