আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জাতীয় জাদুঘরে বসন্ত বিকেলে হাছন রাজা লোক উৎসব

প্রকাশিত : ৩ মার্চ ২০১৫
জাতীয় জাদুঘরে বসন্ত বিকেলে হাছন রাজা লোক উৎসব
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বসন্ত বিকেলে সোমবার জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় হাছন রাজা লোক উৎসব। রাত অবধি চলা আয়োজনে কথা ও গানে ভাটি বাংলার কিংবদন্তি এই মরমী কবিকে জানানো হয় শ্রদ্ধাঞ্জলি। বিভিন্নভাবে এই মরমী শিল্পীকে মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য উৎসবে হাছন রাজা পরিষদ সম্মাননা দেয়া হয় ড. মৃদুল কান্তি চক্রবর্তী (মরণোত্তর), হুমায়ূন আহমেদ (মরণোত্তর) ও শিল্পী সেলিম চৌধুরীকে। উৎসবের আয়োজন করে হাছন রাজা পরিষদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সম্মেলক কণ্ঠে গীত হয় হাছন রাজার গান ‘লোকে বলে বলে রে ঘরবাড়ি ভালা না আমার’। অনুষ্ঠানে হাছন রাজার প্রোপৌত্র, চতুর্থ বংশধর সামারীন দেওয়ানের গবেষণাগ্রন্থ ‘হাছন রাজা : জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা। সামারীন দেওয়ান জানান, আগে কখনও শোনা যায়নি হাছনের এ রকম একশরও বেশি গান নিয়ে একটি বই প্রকাশ করা হয়েছে। গানগুলো সিডিতেও সংরক্ষণ করা হবে। আলোচনাপর্ব শেষে ছিল নৃত্য-গীতের আয়োজন। সঙ্গীত পরিবেশন করেন ময়মনসিংহের ত্রিশালের জাহিদুল কবির ও তাঁর দল এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের বাউলরা। এছাড়াও মরমী কবির গান শুনিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন সেলিম চৌধুরী। মূল সঙ্গীতানুষ্ঠান শুরুর আগে হাছন রাজার ওপর একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়। এরপর হাছন রাজা পরিষদের শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে গেয়ে শোনান, ‘মাটিরও পিঞ্জিরার মাঝে বন্দী হইয়া রে’ এবং ‘ছাড়িলাম হাছনের নাও গানটি।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামন নূর, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি ড. আনোয়ারুল করিম ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহীত উল আলম। হাছন রাজা লোক উৎসবের আহ্বায়ক ড. এ কে এ মুবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য বক্তব্য দেন মলয় চক্রবর্তী রাজু।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশের লোকসাহিত্য বা সঙ্গীতের কোন প্রসঙ্গ আসলেই প্রথমেই যাঁর কথা সামনে আসে তিনি হাছন রাজা। তার গানে-লেখনীতে ইহকাল-পরকাল, সমাজ-সংসার, ভোগবিলাস ও পরিবেশ-পরিস্থিতির নানা দিক খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি শুধু মানুষকে ভালবাসতেন না, পশুপাখি ও প্রকৃতিকেও মনে ঠাঁই দিয়েছিলেন তিনি।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আমি হাছন রাজার গানের ভক্ত। তাঁর গান শুনি। তিনি ছিলেন মানবতার কবি, ভালবাসার কবি, উদার দর্শনের কবি, যে দর্শন বিশ্বকে ধারণ করে। আমরা এখন এই দর্শনের অভাববোধ করছি। এখন যে দুঃসময় পার করছি আমরা, মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, মুক্তবুদ্ধির চর্চার কারণে মুক্তমনা মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, ঠিক সে সময় এ উৎসব গুরুত্ব বহন করে। আজ যদি হাছন রাজা থাকতেন তিনি এসবের প্রতিবাদে সবার আগে থাকতেন। আমরা ধ্বংস চাই না, হত্যা চাই না রক্তপাতের মধ্য দিয়ে কোন মহৎ লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। যা হয়েছে মহত্ব ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে।

সিরো সাদোসিমার ক্যানভাসে বাংলাদেশের জীবনধারা ॥ ঢাকাস্থ জাপানের রাষ্ট্রদূত সিরো সাদোসিমা। কূটনৈতিক পরিচয়ের বাইরে তাঁর আরেক পরিচয় চিত্রশিল্পী। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি রয়েছে তাঁর বিশেষ ভালবাসা। সেই আবেগের প্রকাশ ঘটেছে সাদোসিমার চিত্রপটে। রং-তুলির ছোঁয়ায় এঁকেছেন এদেশের মানুষের জীবনধারা। কর্মসূত্রে বাংলাদেশে বসবাসের কারণে আকৃষ্ট হয়েছেন এই ভূখ-ের প্রকৃতি ও যাপিত জীবনের প্রতি। সেসব অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির বয়ান মেলে ধরেছেন আপন ক্যানভাসে। আর এমন ২৩টি চিত্রকর্ম নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে শুরু হলো শিল্পীর চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। শিরোনাম ‘দ্য রিমেমবারেন্স অব এ কান্ট্রি : ফুল অব কালারস, ফুল অব শেডস’। আয়োজন করেছে চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগ।

সোমবার বসন্তের সন্ধ্যায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চারুকলা অনুষদের ডিন চিত্রশিল্পী অধ্যাপক নিসার হোসেন। আপন অনুভূতি ব্যক্ত করেন সিরো সাদোসিমা।

প্রদর্শনীর কিউরেট করেছেন চারুকলার অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। সবগুলো ছবি চিত্রিত হয়েছে এ্যাক্রেলিম মাধ্যমে। সেসব চিত্রকর্মে উপস্থাপিত হয়েছে পুরান ঢাকার সরু গলির রিক্সাজটের দৃশ্য, আছেন গ্রাম বাংলার মানুষের জীবন, খেটে খাওয়া শ্রমিকের জীবনচিত্র, সবজি বিক্রেতার নারীর জীবনগাঁথা, ধামরাইয়ের কর্মব্যস্ত নদীর ঘাট, মিরপুরের টং দোকান, বৃক্ষছায়ায় বসে আদিবাসী নারীদের আড্ডা, কোন এক গ্রামের নারী-পুরুষরা দলবেঁধে স্বাগত জানাচ্ছে শিল্পীকে- এমন নানা বিষয়।

ছয় দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে ৭ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১২টা সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

প্রকাশিত : ৩ মার্চ ২০১৫

০৩/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: