আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সহিংসতার প্রতিবাদী প্রকাশে পথনাটক উৎসব শুরু

প্রকাশিত : ২ মার্চ ২০১৫
সহিংসতার প্রতিবাদী প্রকাশে পথনাটক উৎসব শুরু
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জীবনেরই প্রতিধ্বনি উঠে আসে পথনাটকে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার উচ্চারণ আর মানবকল্যাণের বার্তা থাকে সেখানে। সেই সূত্র ধরে চলমান সহিংসতার প্রতিবাদী প্রকাশে শুরু হলো সপ্তাহব্যাপী বাংলাদেশ পথনাটক উৎসব। ‘আগুনে পুড়ছে দেশ, বাঁচাও জীবন বাঁচাও প্রতিবেশ’ সেøাগানে অনুষ্ঠিত উৎসবের আয়োজক বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ। রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে হত্যাকা-, সন্ত্রাস ও সহিংসতা প্রতিরোধের উচ্চারণ এসেছে এবারের উৎসবে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন নাট্যদলের ৩১টি পথনাটকে সজ্জিত উৎসব প্রাঙ্গণ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

রবিবার বসন্ত বিকেলে একঝাঁক বর্ণিল বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরার সভাপতিত্বে আলোচনা করেনÑ চলচ্চিত্র নির্মাতা ও নাট্য নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল আক্তারুজ্জামান। উৎসবের ঘোষণা পাঠ করেন নাট্যকর্মী অলক বসু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান।

পঞ্চভাস্করের শিল্পীদের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এছাড়াও সহিংসতাকারীদের মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁদের কণ্ঠে গীত হয় ‘আবার তোরা মানুষ হ’। গান শেষে সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, সংস্কৃতি হচ্ছে সকল অসঙ্গতি মোকাবেলার হাতিয়ার। অভিজিৎ রায়ের হত্যাকা-ের নিন্দা ও মৌলবাদের আসন্ন পরাজয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রক্তপাতের মধ্য দিয়ে কোন মহৎ লক্ষ্য অর্জিত হয়নি, যা হয়েছে মহত্ত্ব ও আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে। আর অভিজিৎকে শুধু হত্যাই করা হয়নি, এ হত্যাকা- নিয়ে উল্লাস করা হয়েছে। তবে এ রক্ত বৃথা যাবে না। একদিন এ রক্তের মধ্য দিয়েই ধুয়ে মুছে যাবে এদেশের মৌলবাদী তৎপরতা।

নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, আন্দোলনের নামে অবরোধ-হরতালের মুখে দেশে বিরাজ করছে অচল অবস্থা। প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ধর্মের নামে হত্যা করা হলো লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে। স্বাভাবিক জীবন ও চিন্তাকে স্তব্ধ করে দিতে চাইছে এই ধর্মান্ধ ও মৌলবাদী শক্তি। মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নিয়ে তারা বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় সৃষ্টি করছে। সম্মিলিতভাবে এই জালেমদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে প্রতিরোধ কমিটি। এ বিষয়ে সংস্কৃতিকর্মীরা সোচ্চার রয়েছেন। এখন এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে।

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, কিছু আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। অসাম্প্রদায়িক চেতনার সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও এ আদর্শের মধ্যে পড়ে। তবে বেদনার সঙ্গে বলতে হয় আজও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়িত এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চার পথটি তৈরি হয়নি। হুমায়ুন আজাদের পথ ধরেই অভিজিৎ রায়কে প্রাণ দিতে হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংস্কৃতির শক্তি দিয়ে এই মৌলবাদকে রুখে দেয়া সম্ভব হলেও তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় সংস্কৃতি চর্চার জন্য সরকারী অনুদানের প্রয়োজন হলেও তা পাওয়া যাচ্ছে না। সংস্কৃতির শাণিত হাতিয়ারের মাধ্যমেই এই জঙ্গীবাদের মোকাবেলা করতে হবে।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঞ্চস্থ হয় চারটি পথনাটক। মানুষ পুড়িয়ে মারার ঘটনাকে উপজীব্য করে পরিবেশিত হয় আরণ্যক নাট্যদলের প্রযোজনা ‘আগুনের জবানবন্দী’। মান্নান হীরার রচনা থেকে নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন আবু হাশিম মাসুদুজ্জামান। সগীর মোস্তফার রচনা ও নির্দেশনায় সাত্ত্বিক নাট্য সম্প্রদায় উপস্থাপন করে ‘পাংশু’। সাঈফ আহমেদের রচনা ও আহমদ গিয়াসের নির্দেশনায় সুবচন নাট্য সংসদ পরিবেশন করে ‘কেরামতের কোন দল’। শাহনেওয়াজের রচনা ও নির্দেশনায় মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় পরিবেশন করে ‘একজন মায়ের আহাজারি’।

আগামী সাত মার্চ পর্যন্ত শহীদ মিনারে চলবে এ উৎসব। প্রতিদিন বিকেল পাঁচটায় শুরু হবে নাটকের প্রদর্শনী। আজ সোমবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনে মঞ্চস্থ হবে চারটি পথনাটক। এগুলো হলোÑ চন্দ্রকলা থিয়েটারের ‘আজব বাক্স’, নাট্যধারার ‘দড়ি’, বর্ণালী থিয়েটারের ‘প্রতীকী চাতক’ ও দেশ নাটকের ‘আদম কেষ্ট’।

কথা-গানে বঙ্গবন্ধুর জন্মবাষিকী উদ্্যাপন

রবিবার বিকেলে কথা ও গানে উদ্্যাপিত হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী। জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘মানব বিনাশী দানব প্রতিরোধে : জাগো স্বদেশ’ শীর্ষক এ আলোচনা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে আমরা সূর্যমুখী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। আলোচনায় অংশ নেনÑ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, কবি কাজী রোজী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সামছুল হক টুকু, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আফজাল হোসেন। সূচনা বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের সমন্বয় সম্পাদক শফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল সঙ্গীত পরিবেশনা। একক ও দলীয় সঙ্গীতে সাজানো এ পর্বের পরিচালনা করেন আরিফ রহমান। একক কণ্ঠে গান শোনান শামীমা রহমান মুননী, রিনা ফেরদৌসী, স্বজন সাহা, কচি সরকার, পপি কর্মকার, উদয় শংকর, রাহাত সরকার প্রমুখ।

প্রকাশিত : ২ মার্চ ২০১৫

০২/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: