মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এক্সপিডিশন ক্লাব সাকা হাফং জয়ের রোমাঞ্চ

প্রকাশিত : ১ মার্চ ২০১৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক মেহেদী ইকবাল ছিলেন এবারের ভ্রমণের মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি আমাদের ভ্রমণ শুরুর অনেক আগ থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ধারণা দিতেন।

সাকা হাফং জয়ের গল্প ॥ গত ২ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল তৈরি করে ফেললাম। বিভাগের শিক্ষক মেহেদী ইকবাল ও অন্য দুই শিক্ষক জুলকারনাইন ও সুব্রত বণিককে নিয়ে আমাদের ছাত্রদের আট জনের একটি দল। রাত আটটায় ক্যাম্পাস থেকে বাসে করে ঢাকার পান্থপথের শ্যামলী কাউন্টারে বাসের জন্য অপেক্ষা। রাত ১১.৩০ মিনিটে বাসে করে রওনা হলাম বান্দরবানের থানচি উপজেলার উদ্দেশে। বেশ দীর্ঘ ভ্রমনণ শেষে বিকেল তিনটা নাগাদ আমরা থানচি পৌঁছে গেলাম। এর আগেই আমাদের জন্য টিমের অন্যতম সদস্য রেংচং কিছু বাজার সদাই করে তৈরি। হঠাৎ বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নেমে এল। প্রায় পাচঁ ঘণ্টা বিভিন্ন পাহাড় পেরিয়ে সবাই যখন খুব ক্লান্ত তখনই আমাদের গাইড বলল, আমরা আজকের রাতটা পার্শ্ববর্তী বোর্ডিং পাড়ায় থাকব। পরদিন খুব সকালে যাত্রার কিছু নির্দেশনা দিলেন। এবার আমাদের পরবর্তী বিশ্রাম ক্যাম্প নওয়াচরণ পাড়ার উদ্দেশে। এ যাত্রাটিও ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। কারণ এ যাত্রায় আমাদের উঠতে হবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্বীকৃত সর্বোচ্চ পর্বত বিজয় (তাজিংডং) । দুপুর ২টা নাগাদ আমরা উঠে পড়লাম বিজয়ে। এরপর সেখানে আমরা কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে ছবি তুললাম। এরপর আবার যাত্রা শুরু করলাম। পাহাড় থেকে নেমে প্রায় এক ঘণ্টা পর আমরা একটি পাড়া দেখতে পাই থাংদোই পাড়া। এ পাড়াতেই কাটাই পাড়ার কারবারির বাসায়। আগের মতো খাওয়া, কিছু দিকনিদের্শনা নেয়ার পর আবার ঘুম। এর মধ্যে আমরা প্রায় তিন ঘণ্টা হেঁটে রেমাক্রি খালে চলে আসলাম। সেখানে সকালের নাস্তা সেরে আবার পথ চললাম। তারপর আরও ঘণ্টা খানেক হাঁটার পর নওয়াচরণপাড়া, হাজড়াপাড়ার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ সাকা হফং সংলগ্ন একমাত্র পাড়া নেফিউ পাড়া চলে আসলাম। পথে এ পথটি এত দুর্গম আর শক্ত পাথরের পিচ্ছিল আর এঁেকবেঁকে উঁচু আর অসমতল যে কিছুটা হাঁটতেই আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলাম। মনে হচ্ছিল আর সম্ভব নয়। তবে এত কাছে এসে হার না মানা প্রত্যয়ে আমরা লড়াই করছি পথ চলার। আমাদের স্যার সঙ্গে থাকা জিপিএস সেটে আমাদের লোকেশন আর এলিভেশন বলছে কিছু দূর যেতে যেতে। একটা সময় সবাই প্রচ- ক্লান্ত অবস্থায় আমরা এ দুর্গম পথ অতিক্রম করে নেফিউপাড়ায় চলে আসলাম। তবে সেখানে এক ধরনের উদ্বেগ ভর করল। আশপাশ থেকে শুনতে পেলাম এ পাড়ায় বিচ্ছন্নাতাবাদীরা রয়েছে। প্রবেশ নিষেধ নিরাপত্তার জন্য। এভাবে ঘণ্টাদেড়েক পর আমাদের অনুমতি মিলল। তবে সেখানে গিয়ে শুনলাম এমন কিছু নেই। আর আসেও নি কোন বিচ্ছন্নতাবাদী কোন সংগঠন। সেখানে দুপুরের খাবার সেরে আমরা আরও একজন স্থানীয় গাইড ভাড়া করে সেই রোমাঞ্চ ঘেরা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ এলিভেশন মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা সাকা হাফং জয়ের জন্য পথ চলা। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পাহাড়ের গহীন বাঁশঝাড় কেটে কেটে আমরা সেই চূড়া দেখতে পেলাম। এর মধ্যে আমাদের অধিনায়ক জানালেন তার রেকর্ডে এর আগে যত এলিভেশন ছিল তাও তিনি ক্রস করেছেন। তখনই আমরা তাঁকে ধন্যবাদ দিলাম। উৎসাহ দিলাম। কিছু ছবিও তুললাম। এরপর আমরা সেই সাকা হাফং এর চূড়ায় উঠে সবাই চিৎকার করে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এ জয়ের মুহর্তগুলো ক্যামরাবন্দী করলাম। সন্ধ্যার পর নেফিউপাড়ায় কারবারির বাসায় রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপর সকালে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে ফিরতি পথে হাজরা পাড়া থেকে এবার আর পাহাড়ী পথ দিয়ে না গিয়ে ঝিড়ি পথে রওনা হলাম। দুপুর নাগাদ সেই থাংদোই আর বিকেলে সিম্পলাম্ফি পাড়া এর রাতে বোর্ডিং পাড়ায় প্রায় তের ঘণ্টা যাত্রা শেষে পৌঁছালাম। একটু বেলা করে ঘুমিয়ে বিশ্রাম নিয়ে সকালে খেয়ে সকাল এগারোটায় থানচির উদ্দেশে যাত্রা। প্রায় ৫ ঘণ্টা যাত্রা পথ শেষে আমরা পৌঁছে গেলাম থানছিতে। গভীর রাত পর্যন্ত অনেক মজা করে আমরা রেস্টহাউসে চলে আসলাম। এরপর আরও একদিন বেশি থেকে শুক্রবার সকালে স্থানীয় সুগন্ধা বাসে করে বিকেলে বান্দরবান শহর ও পরে লোকাল গাড়িতে করে চট্টগ্রাম শহরে আসলাম। রাত ১১টায় ঢাকার ফিরতি গাড়িতে করে শনিবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছালাম। এভাবেই কেটে গেল একটি সপ্তাহ। তবে মনে থেকে গেল সাকা হাফং জয়ের রোমাঞ্চ।

আহমেদ রিয়াদ

প্রকাশিত : ১ মার্চ ২০১৫

০১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: