মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

টিএসসিতে অভিজিৎ হত্যার শাস্তি দাবি সংস্কৃতিকর্মীদের

প্রকাশিত : ১ মার্চ ২০১৫
টিএসসিতে অভিজিৎ হত্যার শাস্তি দাবি সংস্কৃতিকর্মীদের

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত সমাবেশে তারা এ দাবি জানান। এদিকে, হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে আগামীকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা ‘প্রগতিশীল ছাত্রজোট’। অন্যদিকে, গণজাগরণ মঞ্চ গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো তাদের প্রতিবাদী অবস্থান অব্যাহত রাখে।

শনিবার বিকেলে চারটায় টিএসসি প্রাঙ্গণে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব ডাঃ কামরুল হাসান। বক্তব্য দেন সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা, নাট্যশিল্পী আফরোজা বানু, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ম-লীর সদস্য রফিকুল ইসলাম, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান, নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির আলমগীর প্রমুখ।

সমাবেশ থেকে বিচারের দাবিতে আগামী ৬ মার্চ বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণঅবস্থান ও অনশন কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। সমাবেশে বক্তারা বইমেলা ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যে এমন হত্যাকা-ের ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাই এমন প্রশ্নের উর্ধে উঠতে দ্রুত এ ঘটনার বিচার নিশ্চিতের দাবি করেন তারা।

সমাবেশে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, অভিজিৎ ও তার স্ত্রী বন্যার অপরাধ ছিল তারা স্বাধীন বাংলাদেশ, ভাষা আন্দোলন ও প্রগতির পক্ষে। যারা এসবের বিপক্ষে তারাই এ হামলা চালিয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও হত্যাকা-ের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে দোষীদের দ্রুত সময়ে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ধর্মীয় মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে স্বাধীনতার সপক্ষের সব শক্তিকে সর্বশক্তি নিয়ে রাজপথে নামতে হবে। এখন সময় এসেছে আধুনিক স্বাধীনতার চেতনায় বিজ্ঞান মনস্ক বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করার।

নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। সেজন্যই আমরা তাদের নির্বাচিত করেছি। অথচ তাদের এ ব্যর্থতা সারা বাংলাদেশকে টালমাটাল করে দিয়েছে।

হাসান আরিফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রগতিশীল ও মুক্তমনা মানুষ অভিজিৎকে হত্যা করা হয়েছে। এর পাশেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটি কখনই মেনে নেয়া যায় না।

ধর্মঘটের ডাক ॥ অভিজিৎ রায়কে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে চারদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে আগামীকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। এ সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে লাগাতার কর্মসূচী দেয়া হবে। শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে জোট নেতারা এ কর্মসূচী দেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন, অপরাজেয় বাংলা, কলা ভবন ঘুরে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে গিয়ে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারেক। উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি সৈকত মল্লিক, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লাকি আক্তার, ছাত্রফ্রন্টের ঢাবি শাখা সভাপতি রাশেদ শাহরিয়ার প্রমুখ।

এছাড়া চারদিনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। সেগুলো হলো আজ রবিবার দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ সমাবেশ ও কালোব্যাজ ধারণ, কাল সোমবার ছাত্র ধর্মঘট, ৩রা মার্চ বিকেল ৩টায় শাহবাগে ছাত্র-শিক্ষক-জনতা সংহতি সমাবেশ এবং ৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান।

সংবাদ সম্মেলনে হাসান তারেক বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দেয়া হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অথচ ব্লগার অভিজিৎ হত্যাকারীদের এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। এর মাধ্যমে মুক্তচিন্তায় চরমভাবে আঘাত করা হয়েছে। যার মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সকলেই এখন হুমকির সম্মুখীন। হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে না পারার মাধ্যমে পুলিশের উদাসীনতা ও ব্যর্থতারই প্রকাশ পেয়েছে।

গণজাগরণ মঞ্চের অবস্থান ॥ অভিজিৎ হত্যাকা-ে জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের অনির্দিষ্টকালের অবস্থান গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত ছিল। সকাল ১০টা থেকে দুপুর একটা এবং পরে বিকেল তিনটা থেকে রাত অবধি মঞ্চের এই অবস্থান কর্মসূচী চলে। ‘অভিজিৎ রায়’রা হেরে গেলে হেরে যাবে বাংলাদেশ’ শিরোনাম নিয়ে গত শুক্রবার সকাল থেকে এই অবস্থান কর্মসূচী চলছে। বিকালে একই দাবিতে মিছিল করা হয়। মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঘুরে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডাঃ ইমরান এইচ সরকার কর্মসূচীর বিষয়ে বলেছেন, যারা অভিজিৎ রায়কে হত্যা করেছে তারা আত্মস্বীকৃত মৌলবাদী ও জঙ্গীগোষ্ঠী। এই জঙ্গীরা অভিজিৎ রায়কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি দিয়ে আসছিল। মর্মান্তিকভাবে অভিজিৎকে খুন করা এবং তার স্ত্রীকে মুমূর্ষু করে দিলেও জড়িত মূল হোতা ও পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। হত্যাকা-ে জড়িতদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

প্রকাশিত : ১ মার্চ ২০১৫

০১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: