কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ধ্বংসে আইএসের তৎপরতা যুদ্ধাপরাধের শামিল

প্রকাশিত : ১ মার্চ ২০১৫
  • নিরাপত্তা পরিষদের জরুরী বৈঠকের আহ্বান ইউনেস্কো প্রধানের

ইরাকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গীদের ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ধ্বংস করা একটি যুদ্ধাপরাধ। জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো প্রধান শুক্রবার এ কথা বলেন। ইরিনা বুকোভা বলেন, তিনি এ ‘সাংস্কৃতিক শুদ্ধি অভিযানে’ আতঙ্কিত বোধ করছেন। তিনি এ বিষয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।

আইএস বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও পোস্ট করে; যাতে দেখা যায়, জঙ্গীরা ভারি হাতুড়ি দিয়ে মসুলের একটি জাদুঘরে মূর্তি ধ্বংস করছে। এর মধ্যে কিছু কিছু প্রতœসামগ্রী খ্রিস্টপূর্ব নবম শতাব্দীর।

জঙ্গীরা বলেছে, মূর্তিগুলে ‘ভুয়া প্রতিমা’। এগুলোকে ভেঙ্গে ফেলতে হবে। প্যারিসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মিস বোকোভা ভিডিওটিকে ‘সত্যিকারের প্রচ- আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি এখনও ভিডিওফুটেজটি দেখা শেষ করতে পারেননি। বোকোভা বলেন, ‘মসুল জাদুঘরে আক্রমণ চালানোর ছবি দেখে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি।’ ইউনেস্কো এক বিবৃতিতে জোর দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সংবিধি অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে অমূল্য সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ধ্বংস করা একটি যুদ্ধাপরাধ। বিবৃতিতে বলা হয়, মিস বোকোভা এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চালানোর জন্য ইতোমধ্যে আইসিসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

তিনি ‘সাংস্কৃতিক সম্ভারের অবৈধ পাচারের বিরুদ্ধে একটি বৈশ্বিক কোয়ালিশন’ গঠনের কথাও ঘোষণা করেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি বৈঠকে মিলিত হবে। ইতোমধ্যে প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই ধ্বংসসাধন সহিংসতা ও বিভীষিকার একটি নতুন পর্যায়কে চিহ্নিত করে, কারণ ওই অঞ্চলে সমগ্র মানবজাতির স্মৃতিভা-ারকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে- যে অঞ্চল সভ্যতা লিখিত শব্দ ও ইতিহাসের সূতিকাগার।’ আইএসের সোশ্যাল মিডিয়া সাইটের ভিডিওতে দেখা যায়, কালো পোশাক পরিহিত লোকেরা ধাক্কা দিয়ে মূর্তি ফেলে দিয়ে ভারি হাতুড়ি দিয়ে সেগুলো চূর্নবিচূর্ণ করছে এবং বায়ুচালিত ড্রিল মেশিন দিয়ে ভাঙ্গা টুকরো ধ্বংস করে ফেলছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি একটি প্রস্তরনির্মিত ডানাওয়ালা ষাঁড়ের মূর্তিতে ছিদ্র করে সেটি আলাদা করে ফেলছে। ওই মূর্তিটি সপ্তম শতকের একটি এ্যাসিরীয় রক্ষক দেবতা। সেখানে একজন জঙ্গীকে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞের ন্যায্যতা প্রতিপন্ন করতে দেখা যায়। ২০১৪ সালের জুন থেকে আইএস ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী মসুল নিয়ন্ত্রণ করছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, কয়েক মাসের মধ্যে ইরাকী সেনাবাহিনী নগরীতে আক্রমণ চালাতে পারে। ইরাকের আইএস নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ইরাকের ১২ হাজার নথিভুক্ত প্রতœতাত্ত্বিক স্থানের মধ্যে প্রায় এক হাজার ৮শ’ স্থান অবস্থিত।

প্রকাশিত : ১ মার্চ ২০১৫

০১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: