আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ভাষা আন্দোলনে নওগাঁর নেতৃবৃন্দ

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

বিশ্বজিৎ মনি, নওগাঁ থেকে ॥ আমাদের দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত ভাষাকেন্দ্রিক। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকÑশোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে নিপীড়িত তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সংগ্রাম। এই সংগ্রাম ছিল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রাম। আর সংগ্রামের পুরোধা ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই নওগাঁতেও সেসময় মুজিব নেতৃত্বের প্রভাব পড়েছিল। ফলে নওগাঁ আন্দোলিত হয়েছিল। সময়ের চাহিদা মোতাবেক অনেকেই রেখেছিলেন সাহসী ভূমিকা।

১৯৫২ সাল। ভাষা আন্দোলনের ঢেউ তৎকালীন নওগাঁ মহকুমাকেও আন্দোলিত করে তুলেছিল। ডা. মঞ্জুর হোসেন, এ্যাডভোকেট এম. বয়তুল্লাহ, ডা. আমজাদ হোসেন তরফদার, ডা. শাহ লুৎফর রহমান চৌধুরী মহান ভাষা আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫২ সালে ঢাকায় অধ্যয়নকালে তাঁরা ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ডা. মঞ্জর হোসেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র থাকাকালে ঢাকায় সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন। তাঁকে পুলিশী নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এক পর্যায়ে তিনি ঢাকা থেকে পালিয়ে নওগাঁয় চলে আসেন। এখানেও পুলিশ তাঁকে ধাওয়া করে। তিনি নওগাঁয় এ্যাডভোকেট মোজাহারুল হক পোনাকে ভাষা আন্দেলনে বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করেন। ডা. আমজাদ হোসেন তরফদার ঢাকায় ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি নওগাঁয় এসে ভাষা আন্দেলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তৎকালীন মাদ্রাসা মাঠে (বর্তমানে নওগাঁ বিএমসি সরকারী মহিলা কলেজ) প্রথম ভাষা আন্দোলনের পক্ষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি সভাপতিত্ব করেন। মিছিল, বক্তৃতাÑবিবৃতি ও সভা সমাবেশে তিনি ভাষণ দেন।

১৯৫২ সালে নওগাঁয় মুসলিম লীগ ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দল ছিল না বললেই চলে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় ১৯৫৩ সালের ১১ জানুয়ারি মফিজ উদ্দিনের বাড়িতে সভায় নওগাঁয় আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। সেদিন সেই সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি হয়েছিলেন মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, সম্পাদক হয়েছিলেন ইমাম উদ্দিন সরদার। এই কমিটিতে ছিলেন এম এ রকীব, মোজাম্মেল হক প্রমুখ। তবে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিত্ব অন্যান্য স্থানের মতো নওগাঁয় ৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টকে নির্বাচনে জয়যুক্ত করে তোলার সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের সকলে নওগাঁয় জয়ী হয়েছিলেন। ১৯৫২ সালে ঢাকার মিছিলে গুলি চালানোর সংবাদ নওগাঁয় পৌঁছলে এর প্রতিবাদে মিছিল বের হয়। ধর্মঘটও পালিত হয়। এ পর্যায়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন মোজাহারুল হক পোনা, এম এ রকীব, খালেক তাহের মকু, আবুল খায়ের, গোলাম রব্বানী, এ্যাডভোকেট রেজাউননবী, এ্যাডভোকেট এ কিউ এম বদরুজ্জামান খান সেলিম, আব্দুর রহমান, শেখ নুরুল ইসলাম ভগলু। নওগাঁ পার্শ্ববর্তী সান্তাহারে ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন চ-িপুরের ডা. আফজাল হোসেন। নওগাঁ মহকুমা ভাষা আন্দোলন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন এ্যাডভোকেট মোজাহারুল হক পোনা। নওগাঁর ছাত্রÑজনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিলে যোগ দিয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে জনসভা হয়। মুসলিম লীগের প্ররোচনায় ম্যাজিস্ট্রেট মোজাহারুল হক পোনা, এমএ রকীব, খালেক তাহেরকে কেন বন্দী করা হবে না মর্মে কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদান করেন। নওগাঁ মহকুমার রানীনগর থানায় হরতাল পালিত হয়েছিল। সেখানে নেতৃত্ব দেন খন্দকার মকবুল হোসেন, মীর হোসেন মাস্টার, কেএ হাশেম, খন্দকার আবুবকর, আছির উদ্দিন, ফজলার রহমান চৌধুরী প্রমুখ। রানীনগর স্কুলের শিক্ষক আফতাব উদ্দিন, ঠুনা মাস্টার আন্দোলনে সহযোগিতা করেন এবং সভায় বক্তৃতা দেন। আত্রাই, মান্দা, মহাদেবপুর, বদলগাছী, পতœীতলা থানায় ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। নওগাঁর ওই সময় ভাষা আন্দোলন নিয়ে স্থানীয় পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক দেশের বাণী’তে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হতো।

আমাদের দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত ভাষাকেন্দ্রিক। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকÑশোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে নিপীড়িত তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সংগ্রাম। এই সংগ্রাম ছিল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রাম। আর সংগ্রামের পুরোধা ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই নওগাঁতেও সেসময় মুজিব নেতৃত্বের প্রভাব পড়েছিল। ফলে নওগাঁ আন্দোলিত হয়েছিল। সময়ের চাহিদা মোতাবেক অনেকেই রেখেছিলেন সাহসী ভূমিকা।

১৯৫২ সাল। ভাষা আন্দোলনের ঢেউ তৎকালীন নওগাঁ মহকুমাকেও আন্দোলিত করে তুলেছিল। ডা. মঞ্জুর হোসেন, এ্যাডভোকেট এম. বয়তুল্লাহ, ডা. আমজাদ হোসেন তরফদার, ডা. শাহ লুৎফর রহমান চৌধুরী মহান ভাষা আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫২ সালে ঢাকায় অধ্যয়নকালে তাঁরা ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ডা. মঞ্জর হোসেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র থাকাকালে ঢাকায় সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন। তাঁকে পুলিশী নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এক পর্যায়ে তিনি ঢাকা থেকে পালিয়ে নওগাঁয় চলে আসেন। এখানেও পুলিশ তাঁকে ধাওয়া করে। তিনি নওগাঁয় এ্যাডভোকেট মোজাহারুল হক পোনাকে ভাষা আন্দেলনে বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করেন। ডা. আমজাদ হোসেন তরফদার ঢাকায় ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি নওগাঁয় এসে ভাষা আন্দেলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তৎকালীন মাদ্রাসা মাঠে (বর্তমানে নওগাঁ বিএমসি সরকারী মহিলা কলেজ) প্রথম ভাষা আন্দোলনের পক্ষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি সভাপতিত্ব করেন। মিছিল, বক্তৃতাÑবিবৃতি ও সভা সমাবেশে তিনি ভাষণ দেন।

১৯৫২ সালে নওগাঁয় মুসলিম লীগ ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দল ছিল না বললেই চলে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় ১৯৫৩ সালের ১১ জানুয়ারি মফিজ উদ্দিনের বাড়িতে সভায় নওগাঁয় আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। সেদিন সেই সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি হয়েছিলেন মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, সম্পাদক হয়েছিলেন ইমাম উদ্দিন সরদার। এই কমিটিতে ছিলেন এম এ রকীব, মোজাম্মেল হক প্রমুখ। তবে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিত্ব অন্যান্য স্থানের মতো নওগাঁয় ৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টকে নির্বাচনে জয়যুক্ত করে তোলার সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের সকলে নওগাঁয় জয়ী হয়েছিলেন। ১৯৫২ সালে ঢাকার মিছিলে গুলি চালানোর সংবাদ নওগাঁয় পৌঁছলে এর প্রতিবাদে মিছিল বের হয়। ধর্মঘটও পালিত হয়। এ পর্যায়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন মোজাহারুল হক পোনা, এম এ রকীব, খালেক তাহের মকু, আবুল খায়ের, গোলাম রব্বানী, এ্যাডভোকেট রেজাউননবী, এ্যাডভোকেট এ কিউ এম বদরুজ্জামান খান সেলিম, আব্দুর রহমান, শেখ নুরুল ইসলাম ভগলু। নওগাঁ পার্শ্ববর্তী সান্তাহারে ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন চ-িপুরের ডা. আফজাল হোসেন। নওগাঁ মহকুমা ভাষা আন্দোলন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন এ্যাডভোকেট মোজাহারুল হক পোনা। নওগাঁর ছাত্রÑজনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিলে যোগ দিয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে জনসভা হয়। মুসলিম লীগের প্ররোচনায় ম্যাজিস্ট্রেট মোজাহারুল হক পোনা, এমএ রকীব, খালেক তাহেরকে কেন বন্দী করা হবে না মর্মে কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদান করেন। নওগাঁ মহকুমার রানীনগর থানায় হরতাল পালিত হয়েছিল। সেখানে নেতৃত্ব দেন খন্দকার মকবুল হোসেন, মীর হোসেন মাস্টার, কেএ হাশেম, খন্দকার আবুবকর, আছির উদ্দিন, ফজলার রহমান চৌধুরী প্রমুখ। রানীনগর স্কুলের শিক্ষক আফতাব উদ্দিন, ঠুনা মাস্টার আন্দোলনে সহযোগিতা করেন এবং সভায় বক্তৃতা দেন। আত্রাই, মান্দা, মহাদেবপুর, বদলগাছী, পতœীতলা থানায় ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। নওগাঁর ওই সময় ভাষা আন্দোলন নিয়ে স্থানীয় পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক দেশের বাণী’তে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হতো।

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: