কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঈশ্বরদীতে এখনও বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে ভাষা আন্দোলন বিরোধীকে

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

ভাষা আন্দোলনের বছর এবং দেশ স্বাধীনের ৪৩ বছর পার হলেও ঈশ্বরদীতে ভাষা আন্দোলনের প্রধান বিরোধিতাকারী শত্রু পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান খাজা নাজিমউদ্দীনের স্মৃতিবহন করে চলেছে ঈশ্বরদীবাসী। তাও আবার বাংলা ভাষায় শিক্ষা দানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারী নাজিমউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ে। ঈশ্বরদী শহরের অবাঙালী অধ্যুষিত ফতে মহাম্মদপুর এলাকায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ৪৩ বছর থেকে খাজা নাজিমউদ্দীনের নামের ‘সাইনবোর্ডে’ স্মৃতিবহন করে চলেছে। দেশে অনেক ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি থাকার পরও বিদ্যালয়ের নামটি পরিবর্তনের বিষয়ে কারও মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড জসিমউদ্দিন ম-ল ও মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবান কয়েকজন ব্যক্তির অভিযোগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, ১৯৫০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বর্তমান বাংলাদেশের ঈশ্বরদী অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উর্দু ভাষা শিক্ষাদানের লক্ষ্যে শহরের অবাঙালী অধ্যুষিত ফতে মহাম্মদপুর এলাকায় ৩০০ শতাংশ জমির ওপর উর্দু মিডিয়াম বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। ১৯৫২ সালে বিদ্যালয়টিকে খাজা নাজিমউদ্দীন উর্দু বিদ্যালয়ে নামকরণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় বিহারীরা বিদ্যালয়টি দখলে নিয়ে এলাকায় নানা অপরাধ মূলক কর্মকা- চালায়। ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ সাত্তার অবাঙালীদের তাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আবার পাঠদান শুরু করেন। সেই সময় বিদ্যালয়ে খেজুরের পাটি বিছিয়ে লেখাপড়া করানো হতো। পরের বছরেই বিদ্যালয়টিকে বাংলা মিডিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চালু করা হয়। এর পর থেকেই বাংলা মিডিয়ামে শিক্ষাদান অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ১৯৭৩ সালের পর থেকে ভাষা আন্দোলনের প্রধান শত্রু তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান খাজা নাজিমউদ্দীনের নাম ঠিক রেখে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারী নাজিমউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে।

Ñতৌহিদ আক্তার পান্না

ঈশ্বরদী থেকে

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: