কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বর্জ্যনির্ভর সুমিতার জীবনে ফিরে এসেছে স্বাচ্ছন্দ্য

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

আবু জাফর সাবু, গাইবান্ধা থেকে ॥ সুন্দরগঞ্জ পৌর এলাকার দরিদ্র বিধবা সুমিতা বালার জীবন ও জীবিকা চলে ঘুটে বা গোবরের লাকড়ি তৈরি করে। যা তার ভাগ্যের পরিবর্তন এনে দিয়েছে এবং তাকে করেছে আত্মনির্ভর।

তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২ সন্তানের মা হওয়ার পর তার স্বামী মারা যায়। ফলে অসহায় হয়ে পড়ে। সীমাহীন কষ্ট তাকে গ্রাস করে ফেললেও ভিক্ষাবৃত্তি করতে নারাজ সুমিতা। সন্তানদের লালন পালন করার জন্য সংগ্রামী হয়ে ওঠে এবং জীবন জীবিকার নতুন পথ খুঁজে বের করতে তৎপর হয়। এক পর্যায়ে বিভিন্ন বাঁশঝাড় থেকে শুকনা খড়ি সংগ্রহ করে তা বাজারে বিক্রি এবং দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালানোর উদ্যোগও নেয়। কিন্তু এতে পরিশ্রম অনুপাতে সংসারে সার্বিক স্বাচ্ছন্দ্য আনা তার পক্ষে কোনক্রমেই সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে বিকল্প পন্থা হিসেবে পরিত্যক্ত জমি, গোচারণ ভূমি এবং রাস্তাঘাট থেকে গোবর সংগ্রহ শুরু করে সুমিতা বালা। সেই গোবর দিয়ে জ্বালানি লাকড়ি তৈরি শুরু করে।

এর উপকরণ আর কিছুই নয়। শুধু পাটকাঠি বা বাঁশঝাড়ের শুকনা কঞ্চে এবং গরুর গোবর ও পানি। পাটকাঠির উপরে গোবরের আস্তর লাগিয়ে তা শুকানোর জন্য রোদে দিতে হয়। ২ হতে ৩ দিন শুকানোর পর তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে। প্রতিদিনের সংগ্রহ করা গোবর থেকে প্রায় ৫০টি লাকড়ি তৈরি হয়। পুঁজিহীন এই পেশায় ঝুঁকে পড়ে সুমিতা বালা। এভাবে তৈরি করা লাকড়ি বিক্রি করতে শুরু করে শহর এবং হাটবাজারে। প্রতিটি লাকড়ি ২ থেকে ৩ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এ থেকেই শুরু। এরপরে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

দীর্ঘ ১০ বছরের এ পেশায় সুমিতা বালা বর্তমানে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে ২ সন্তান বড় হয়েছে। তারাও দিনমজুরি এবং রিক্সাভ্যান চালিয়ে রোজগার করছে।

সুমিতা বালার সাফল্য দেখে এখন ওই উপজেলার অনেক ভূমিহীন এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবার এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কাছে ঘুটে বা গোবরের লাকড়ি অনেক সাশ্রয়ী জ্বালানি। ফলে এর চাহিদাও রয়েছে অনেক।

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: